স্বপ্ন হলো সত্যি…

নিজের তৈরি গাড়ির ওপর আকাশ

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

ছোট বেলা থেকেই শখ ছিল নিজের তৈরি গাড়িতে চড়বে আকাশ। প্রথমে ফতুল্লার লামাপাড়ার কিশোরের স্বপ্নকে হয়ত অনেকেই গুরুত্ব দেয়নি। কিন্তু সেই অসম্ভবকে সম্ভব করে এলাকার মো. নবী হোসেনের ছেলে আকাশ আহমেদ।

পুরোপুরি নিজের হাতে এবং ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের পাশে অবস্থিত অটোরিকশা ওয়ার্কশপে তৈরি হয়েছে ‘ল্যাম্বোরগিনির’ আদলে গাড়িটি যেটি ঘণ্টা ৪৫ কিলোমিটার বেগে আপনাকে নিয়ে প্রায় ১০ ঘণ্টা পাড়ি দিতে সক্ষম। দেশীয় প্রযুক্তিতে সাথে নিয়েই এই অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছেন ফতুল্লার লামাপাড়ার সন্তান আকাশ আহমেদ।

আকাশ জানান, গাড়িটিতে প্রায় ৫টি ব্যাটারি লাগানো হয়েছে। যেটি প্রায় ১০ ঘণ্টা চলতে সক্ষম। আর এই ব্যাটারি পূর্ণ চার্জ হতে লাগবে ৫ঘণ্টা। আর রাস্তায় নামলে ২জন আরোহীকে নিয়ে ঘণ্টা ৪৫ কিলোমিটার বেগে ছুটতে পারবে সে। আর পুরো গাড়িটি এই অবস্থায় দাঁড় করাতে তার ব্যয় হয়েছে সাড়ে ৩ লাখ টাকা। তবে গাড়ির বডি কার্বন ফাইবারে নিয়ে আসলে ৩ লাখ টাকাতেও বানানোও যাবে।

তিনি জানান, গাড়িটির দেড় বছরে প্রতিনিয়তই সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় অনেকটা অনুমান নির্ভর করেই পারি দিতে হয়েছে অধিকাংশ পথ। কিন্তু লক্ষ্য ছিল একটাই। আর সে কারনেই আমি গাড়িটি তৈরি করতে পেরেছি। ছোটবেলার স্বপ্ন বাস্তবায়ন শুরু যেহেতু করেছি তাই শেষ করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করেছিলাম।

ঈদের ছুটিতে গাড়িটি নামানোর পরেই অসাধারন সাড়া পেয়েছি। কেউ কেউ হিংসায় বাজে মন্তব্য করলেও তাতে পাত্তা দেইনি। নিজের তিল তিল করে গড়া পরিশ্রমে তৈরী করেছি এই গাড়িটি। তবে গাড়িটিতে আরো কিছু কাজ বাকি আছে। যেমন গাড়ির দরজাগুলো সুইচের মাধ্যমে অটো দরজা খুলবে ও বন্ধ হবে।

আকাশের বাবা নবী হোসেন বলেন, আমার ছেলে এই গাড়ি বানিয়েছে এটা এখনও এলাকার অনেকেই বিশ্বাস করতে চায় না। আমি তাদের বলিওনা তারা বিশ্বাস করুক। কিন্তু আমার ছেলের উপর হিংসা করে তার ক্ষতি যাতে না করে এই অনুরোধ রাখি। অনেকেই এসে বিরক্ত করে ছেলেকে।

স¤প্রতি একজন গাড়ি জোড় করে চালাতে গিয়ে এক্সিডেন্ট করে সামনে কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলেছে। ছেলে ২দিন যাবত কষ্টে খায়নি কিছু। নতুন করে গাড়ি খুলে সেটি মেরামত করতে হবে। শুরু অনুরোধ করি ছেলের গাড়িটা অনেক শখের। কেউ যাতে এসে বিরক্ত না করে।

গাড়িটি নিয়ে পরবর্তী লক্ষ্য কি জানতে চাইলে আকাশ বলেন, আমি সরকারের কাছে অনুরোধ করবো যাতে আমাকে গাড়িটি বাজারজাত করার অনুমতি দেয়। অন্য কারো কাছে আমি এটির নকশা বিক্রি করতে চাই না। শুরু অনুমতি দিলেই আমার জন্য অনেক বড় সুবিধা হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশীয় প্রযুক্তি ও পরিবেশ বান্ধব এই গাড়িটি দেখে আমি আরও ২৫টি গাড়ি তৈরির অর্ডার পেয়েছি। বাজারজাত করলে ৪ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকাতেই মানুষ পরিবেশবান্ধব এই গাড়িটি ব্যাবহার করতে পারবে।

দ্য ওয়ার্ল্ডবিডি/ঢাকা/কেএ

Share On