গাজার শিশুদের আঁকা ছবিতে নৃশংসতার দৃশ্য

দ্য ওয়ার্ল্ড বিডি ডেস্ক

যুদ্ধের ভয়াবহতায় মানসিক সংকটে গাজার কয়েক লাখ শিশু। সম্প্রতি শিশুদের মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে ছবি আঁকতে উদ্বুদ্ধ করেন সেখানকার চিকিৎসকরা। এরপরই বেরিয়ে আসে তাদের ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা। রোগীর সংখ্যা বাড়লেও, মানবিক সহায়তার অভাবে সম্ভব হচ্ছে না সুচিকিৎসা।

এমন শিল্পকর্মের দেখা মিলবে গাজার মানসিক চিকিৎসা কেন্দ্রের দেয়ালে। যার বেশির ভাগের বিষয়বস্তু মৃত্যু। নিজের চারপাশের পরিবেশ নিয়ে ছবি আঁকতে গিয়ে শিশুরা ফুটিয়ে তুলেছে নৃশংসতা আর ধ্বংসযজ্ঞের দৃশ্য। আঁকা হয়েছে ভয়াবহ সামরিক হামলার ছবি। ২০১৪ সালে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানায়, গাজার ৩ লাখ ৭০ হাজার শিশুর মানসিক সেবা দরকার। তবে বর্তমানে ১৮ বছরের নীচে সবার মানসিক অবস্থাই নাজুক বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।

গাজা কমিউনিটি মেন্টাল হেলথ প্রোগ্রামের পরিচালক ইয়াসির আবু জামেই বলেন, সাধারণত বড় কোনো মানসিক আঘাত শারীরিক অবস্থার ওপরও প্রভাব ফেলে। এখানে দারিদ্র্য, বেকারত্ব, নাগরিক সুবিধার অভাব, আর ইসরায়েলের আগ্রাসন। এ সবকিছুই মানসিক সংকটের জন্য যথেষ্ট। গত বছর গাজায় ভূমি দিবসের বিক্ষোভ শুরুর পর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩ হাজার ৩০০ রোগি। যুদ্ধের আতঙ্ক, হতাশা, আর মানসিক অবসাদ থেকে পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারে ভুগছে শিশুরাও। তবে ওষুধ সংকট আর পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা না থাকায় পরিস্থিতির উন্নতির আশা করছেন না মনোবিজ্ঞানীরা।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপক মুনির আল বোর্শ বলেন, মানসিক চিকিৎসার জন্যে প্রয়োজনের ৭০ ভাগ ওষুধের সরবরাহ নেই এখানে। তাই চিকিৎসার অভাবে রোগির সঙ্গেও তার স্বজনদেরও ভুগতে হচ্ছে। অনেকেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন।গাজা কমিউনিটি মেন্টাল হেলথ প্রোগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, গাজার প্রায় সব মানুষেরই মানসিক সেবা দরকার। আর এজন্য মানবিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান সংশ্লিষ্টদের।

দ্য ওয়ার্ল্ডবিডি/ঢাকা/কেএ 

Share On