সোশ্যাল মিডিয়া

ঢালী সাহেবের চরিত্রনামা

ভোরের সূর্য্য প্রতিদিনই ওঠে। সমস্ত রাত্রির কালো আঁধার শেষে। রাতের স্বপ্নের অবসানের সাথে সাথেই নতুন একটি বাঁচার আশা নিয়ে আবার দিন শুরু হয়। দিন যায়, রাত আসে। আর এভাবেই চলতে থাকে জীবন। যার শেষ মৃত্যুর আগে আর নেই। পার্থক্য কেবল এই যে কারও জীবন চলে অতি স্বাচ্ছন্দে আবার কারোর ধুঁকে ধুঁকে। তাই প্রতিদিনের ভোরের সূর্য্য রাতের আঁধার কাটাতে পারলেও জীবনের আঁধার কাটাতে পারেনা। সবার জীবনের কথা কবি, সাহিত্যিক, নাট্যকার বা গল্পকারের লেখনীর মাধ্যমে কথন হয়ে ওঠেনা। কিছু মানুষের জীবনের গল্প আসলে অকথনই থেকে যায়। তেমনি এক মেয়ের গল্প বলবো আজ।
মানিক ঢালী জাতিতে সে খাটি যবন । বাপ, দাদা আর চৌদ্দপুরুষ তাদের নিজবাসভূমে যবন জাতির সর্দার ছিলো বলে তারা রীতিমত দাবি করে। মানিক ঢালী বেশ শিক্ষিত এবং লোক সমাজে একজন ভদ্রর লোক হওয়ার জন্য যা যা দরকার পড়ে তার সবই ছিল। উচ্চ ডিগ্রি, ভালো চাকরি সবই। তবে যেটা তার একেবারেই ছিলোনা তা হলো তার চরিত্র বা স্বভাব। তার স্বভাব এতোটাই খারাপ হয়েছিলো যে ঠিক বড় মাপের একজন সত্যিকারের লম্পট লোকের স্বভাবে যা যা থাকে ঠিক ততোটায় ছিলো। 
মানিক ঢালী একজন সরকারি অফিসের বড় মাপের অফিসার। যেহেতু সে বড় মাপের একজন অফিসার নেহাৎ তার বেতন কম নয়। মানিক ঢালির বয়স চল্লিশের কাছাকাছি। ঘরে তার বউ আছে। দুই কন্যার পিতা সে। বড় কন্যার বয়স সাত কি আট বছর হবে। আর ছোট কন্যার বয়স তিন বছর। মানিক ঢালীর চাকরী ঢাকার বাইরে। তবে যখন বড় ছুটি ছাটা হয় তখন সে তার ঢাকা শহরের বাড়িতে পাড়ি জমায়। তার স্ত্রী আর কন্যাদ্বয়কে সাথে নিয়ে ওখানেই থাকেন। মানিকের স্ত্রী মিসেস প্রিয়ন্তিও বেশ শিক্ষিত। বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে মোটা অংকের বেতনের চাকরি করে।
স্বামীর বড় অংকের বেতন আর নিজের মোটা বেতন হলেও যে তাদের সংসার সুখ সাগরে পরিপূর্ণ ছিল তা কিন্তু না। প্রিয়ন্তির সংসার এতোটাই অশান্তিতে পড়েছে যে সে রীতিমত হাঁপিয়ে ওঠে। তার কষ্টের একটাই জায়গা ছিলো। আর তা হলো তার স্বামীর চরিত্রের দোষ। এই নিয়ে প্রিয়ন্তি রীতিমত বিব্রত ও লজ্জায় পড়ে যেত প্রায়ই।
মানিক ঢালীর কর্মস্থলে তার একজন সহকর্মী ছিল নাম অঞ্জলি। অঞ্জলি জাতিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের এবং একেবারে খাস ব্রাক্ষন কন্যা। মানিক ঢালী আর তার পেশাগত অবস্থান প্রায়ই সমান সমান। মানিক ঢালী আর অঞ্জলির একই গাড়িতে অফিসে যাওয়া, অফিস থেকে বাড়ি ফেরা আর ছুটির দিনে বিভিন্ন জায়গায় জায়গায় ঘোরাঘুরি আর একই সাথে খানাপিনা করতে দেখে তাদের অফিসের অনেকেই বিরক্ত ছিল। বিষয়টি লোক চক্ষুর অন্তরালে যেমন ছিলোনা তেমনি প্রিয়ন্তিরও অজানা ছিলোনা। তাই যথার্থ প্রমাণ আর উপাত্ত নিয়েই একদিন মানিক ঢালীকে জেরা করে। মানিক ঢালী পাশ কাটিয়ে চলে যায়। কোনো উত্তর সে দেয়না। প্রিয়ন্তি ভেবেছিলো হয়তোবা ঢালী সাহেব নিজে থেকে সরে আসবে এই সম্পর্ক থেকে। তবে দিন যত পার হতে থাকে ঢালী সাহেব আর অঞ্জলির মেলামেশা সমাজ আর ধর্মকে উপেক্ষা করে আরও বেশি গাঢ় হতে থাকে। যেহেতু একজনের সাথে সম্পর্কের সামাজিক চুক্তি ভঙ্গ করে অন্য কারোর সাথে নতুন চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে মনের লেনাদেনা ধর্ম আর সমাজ ভালোভাবে দেখেনা তাই প্রিয়ন্তি মনে মনে স্থির করলো এই বিষয়টি মানিক ঢালীর অফিসের বসকে বুঝিয়ে বলবে সে যেন তাদেরকে একটু সাবধান করে এবং তাদের দুই জাতের দুই মানুষের মধ্যকার চুক্তিবহির্ভূত সম্পর্কের অবসান ঘটে। প্রিয়ন্তির কাছে ঢালী সাহেবের বসকে বলা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিলোনা কেননা নিকট আত্মীয় আর বন্ধুবান্ধব সবাইকে দিয়েই সে বলবার চেষ্টা করেছে। 
প্রিয়ন্তি ঢালী সাহেবের বসের সাথে দেখা করলেন। সামান্য ভদ্রতা দেখানোর জন্য যেসব কথা বলার দরকার পড়ে জনাব আক্কাচ সাহেব তা তা বললেন। এই যেমন ধরুন একটু মিষ্টি হেসে কথা বলা, চা পান করতে বলা ইত্যাদি ইত্যাদি। ঢালী সাহেবের স্ত্রীর কথা আক্কাছ সাহেব খুব মনোযোগ দিয়ে শুনলেন। তবে প্রিয়ন্তির কথা যে নিছক কথা নয় একেবারে পুরোটাই গোছানো অভিযোগ তা আক্কাচ সাহেবের আর বুঝতে বাকি না থাকলো। আক্কাচ সাহেব এইব্যাপারে কোনো কথা আর বললেন না প্রিয়ন্তির সাথে এবং পরবর্তী কোন সাক্ষাতে কথা হবে বলে আশ্বস্ত করে বিদায় জানান প্রিয়ন্তিকে।
অতপর প্রিয়ন্তি চলে আসলেন এবং আক্কাচ সাহেব পায়চারি করতে লাগলেন। পায়চারি করে চিন্তা করতে করতে আগে তার দুই আঙ্গুলের দশটি নখই দন্ত দিয়ে কাটলেন এবং কান আর মুখ সমানে আঙ্গুল দিয়ে গুতাতে লাগলেন। আক্কাচ সাহেবের মাথায় দুইটি বুদ্ধি কাজ করলো। প্রথমত, যদি ঢালী সাহেব আর অঞ্জলির মধ্যকার এই ব্যাপারটি  সত্য হয় তাহলে তাদের ফাঁসানোর এটাই বড় সুযোগ। আর দ্বিতীয়ত, গত শীতকালীন সময়ে মাতাল অবস্থায় আক্কাছ সাহেব আর তার পিএস জনাব লুবনার অন্তরঙ্গ মহুর্তের যে ছবি তুলেছিলো মানিক  ঢালী আর যেটাকে পুঁজি করে রীতিমত তাকে তারা ব্লাকমেইল করছিল –  এই সুযোগে তার প্রমাণ ভ্যানিশ করে মঙ্গল গ্রহে পাঠিয়ে  দেওয়ার উত্তম সময় এটি। যাইহোক, অনেক চিন্তা ভাবনা করে আক্কাচ সাহেব দ্বিতীয় কারণটিই সবচেয়ে যৌক্তিক মনে করলেন এবং সেটা কাজে লাগিয়েই তার কেলেংকারীর নথি উদ্ধার করলেন। বিধিমোতাবেক ব্যবস্থাগ্রহণ হয়তো তার পক্ষে সম্ভব ছিলো কিন্তু নিজের ঐ কেলেংকারীর প্রমাণ না সরাতে পারা যে বিপদের সংকেত  তা আর আক্কাচ সাহেবের অজানা ছিলোনা।
মানিক ঢালীর অফিসের বস আক্কাচ আলী তার গোপন নথি ফাঁস হওয়ার আগেই কৌশলী হয়ে ঢালী সাহেবের কাছ থেকে উদ্ধার করে নিলো। ঢালী সাহেবও হাতে-নাতে ‘কট আউট’ হলো। লোক লজ্জার ভয় যাতে হালকা পরিমাণে হলেও রক্ষা পায়। তাছাড়া ঢালী সাহেবের কাছে আর কোনো উপায় ছিলোনা। তাছাড়া স্ত্রী কর্তৃক স্বামীর অফিসের বসের কাছে স্বামীর কুকৃত্তির নালিশ পেশ এটা যে বড্ড অসম্মানের তা আর কারোরই না বোঝার মত বীজগণিত নয়। যাইহোক, সবকিছু ভেবে চিন্তেই ঢালী সাহেব আক্কাচ আলীকে কেলেংকারীর নথি ফিরিয়ে দিলেন আর নিজে বন্দী হলেন আক্কাচের হাতে।
আক্কাচ আলী বেদম মাপের চালাক মানুষ। কাউকে তাৎক্ষনিক শাস্তি দিলে তার প্রতি দীর্ঘস্থায়ী শাস্তি দেবার পথ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে কাউকে ব্যবহার করতে হলে যে কারোর দুর্বল দিক আঁকড়ে ধরতে হয় তা আক্কাচ সাহেব ভালোই জানতেন। যাইহোক, এই ভাবনা আক্কাচ সাহেবের আর ভাবনার দরকার নেই। সে এখন রীতিমত হালকা হয়েছে।  সেই আগের মত আড্ডা আর চরিত্রের আলুর দোষ একেবারেই পাক্কাদমে চালাতে লাগলেন। এমনকি অঞ্জলি যার সাথে ঢালি সাহেবের ইটিশ পিটিশ তাকেও ইচ্ছামত পাশে রেখেছেন আক্কাচ সাহেব। অঞ্জলি আক্কাচ সাহেবকে নিতান্তই কাছে গিয়ে গান গেয়েছেন, কোমর দুলিয়ে নেচেছেন ইত্যাদি ইত্যাদি। ঢালী সাহেব নিয়মিতই অফিসে যান কিন্তু মনটা তার কুরে কুরে খায়। বাসায় থাকলে বউয়ের কাছে মাথা নিচু। আর অফিসে আসলে তার অফিসের বস আক্কাচ কর্তৃক তার প্রেমিকা অঞ্জলিকে নিয়ে রঙ্গ মাতানো তার মনটাকে চিবিয়ে খায়।  এইভাবে কষ্টে পুরে বেশ কিছুদিন পার হয়ে গেলো। ইতোমধ্যে আক্কাচ সাহেব আর্থিক কেলেংকারীর দায়ে চাকরী থেকে বরখাস্ত হলেন। আর তার ঠিক একমাস আগে অঞ্জলি বদলি হয়ে গেছে অন্য জেলায়। 
ঢালী সাহেবের অফিসে নতুন বস এসেছেন। তার নাম ড. সদানন্দ। সে সর্বদা সবসময় আনন্দে থাকা একজন মানুষ। সে এতটাই কথা প্রেমি যে তার সাথে কথা বললে তার প্রেমে পড়া বাধ্যতামূলক না হলেও এড়িয়ে যাওয়া খুব কঠিন। যাইহোক, অনেক মাস আর কয়েকটি বছর পার হয়ে গেছে। ঢালী সাহেবের আগের কিচ্ছা অনেকেই ভুলে গেছে। আর তার বস সদানন্দও কিছুই জানতো না। ঢালী সাহেবের দিন, মাস আর তারিখ খুব ভালোই যাচ্ছিলো। মানুষকে কনভেন্স করে নিজের মতের পক্ষে আনতে ওস্তাদ সে। ঢালী সাহেব যে অফিসে চাকরী করেন, সেই অফিসে তাদের সুযোগ সুবিধা আর ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য পেশাজীবি রাজনৈতিক এসোসিয়েশন আছে। যেহেতু ঢালী সাহেব মানুষকে কনভেন্স করার বিশেষ মহিমার অধিকারী ছিলেন তাই সে তাদের ঐ এসোসিয়েশনের সভাপতি পদে নির্বাচন করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিলেন এবং সে সভাপতি পদে জয়ীও হলেন। 
ঢালী সাহেব এখন সেইরকম ভাবে থাকেন। হাজার হোক এসোসিয়েশনের নির্বাচিত সভাপতি বলে কথা। অফিসের বসের প্রতি উল্টা পাল্টা চাপ প্রয়োগ করতে থাকে সে। একদিন ড. সদানন্দ নিমন্ত্রন পেয়ে অফিসিয়াল এক ‘গেট টুগেদারে’ গিয়েছিলেন। আর সেখানে অঞ্জলিও উপস্থিত ছিলো। অঞ্জলি আর ড. সদানন্দ একে অপরকে আগে থেকেই চিনতো কেননা তারা দুইজনেই একই বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছেন। শুধু তাই নয় তাদের বাড়ি একই জেলায় আর একই থানার পাশাপাশি গ্রামে। সদানন্দ বেশ মিষ্টি হেসেই কথা বলেছেন অঞ্জলির সাথে। তবে ইতোমধ্যে মোবাইল ফোনের যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের এই ভদ্র আলাপকে খুব কুরুচিপূর্ণভাবে উপস্থাপন করে ঢালী সাহেবের কানে ঝাল-মশলা বেটে কেউ একজন লাগিয়ে দিয়েছে। শুনে তো ঢালী সাহেব পাকা মরিচের মত লাল হয়ে গিয়েছেন। ঢালী সাহেব তৎক্ষনাত সদানন্দ সাহেবকে উল্টাপাল্টা জেরা শুরু করলেন। কেন এবং কী প্রয়োজনে এত আলাপ অঞ্জলির সাথে এই প্রসঙ্গে। সদানন্দ সাহেব নিতান্তই ভদ্র মানুষ এবং সে ফোনের লাইন কেটে কারণ খুঁজতে লাগলেন। তবে নিজের অফিসের বসের সাথে তার অধীনস্ত কোনো জুনিয়র অফিসারের এধরণের আচরণ যে একধরণের অশোভন আচরণ তা সদানন্দ সাহেব বুঝতে পারলেন। যাইহোক, এই ঘটনার পরে সদানন্দ সাহেব তার পরবর্তী প্রথম কর্মদিবসেই অফিসের একজন সিনিয়র অফিসারকে সবকিছু খুলে বললেন এবং তার কাছ থেকে কারন জানতে পেরে নিজে একটু হালকা হলেন এবং মনে মনে ঢালী সাহেবের প্রতি গালি ছুড়তে লাগলেন আর চোখে মুখে দারুণ বিরক্ত! দেখাতে লাগলেন। 
যাইহোক, ঢালী সাহেবের প্রেমিকা অঞ্জলি আবার তার আগের কর্মস্থলে বদলী হয়ে এসেছেন। আর এই বদলীর পেছনে ফাইলপত্র নাড়াচাড়া যতটানা অঞ্জলি করেছে তার চেয়ে বেশি করেছে ঢালী সাহেব। যাইহোক, তার আর অঞ্জলির অফিস জীবন আগের মতই চলতে লাগলো। ঢালী সাহেব ঘর আর অফিস সমান তালেই চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সপ্তাহের  পাঁচদিন দিন কাটতো অঞ্জলির সাথে তার কর্মস্থলে আর দুইদিন কাটতো স্ত্রী প্রিয়ন্তির সাথে।
ঘরে স্ত্রী থাকা সত্বেও অঞ্জলির সাথে ঢালী সাহেবের প্রেমের সম্পর্ক কারোর কাছে নৈতিক স্থলনের সামিল আবার উদার প্রেমবাদীদের কাছে এইগুলো কিছুইনা। তবে ঢালী সাহেব এইবার যে কাণ্ডটি ঘটালেন তা আর কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মত না। একেবারে মানুষের লালসার একেবারেই বর্বরোচিত কাজ তিনি করে দেখালেন। ঢালী সাহেবের বউ প্রিয়ন্তি দুই বাচ্চাকে নিয়ে ঢাকায় থাকেন। এমনিতেই নিজের অফিস আর দুই মেয়েকে সামলাতে তাকে নিতান্তই বেগ পেতে হয় তার পরে আবার বাসার কাজের বুয়া ক’দিন আগে কাজ ছেড়ে চলে গেছে। ঢালী সাহেব তার এক সহকর্মীকে জনাব প্রেমনাথ মিত্রকে একটি কাজের মেয়ের সন্ধান করে দিতে বলেন। প্রেমনাথ নিতান্তই একজন সৎ মানুষ এবং বড্ড পর উপকারী মন তার। প্রেমনাথ সাহেব তার নিকট এক বন্ধুর রেফারেন্সে ঢালী সাহেবের বাড়িতে একটি কাজের মেয়ে ঠিক করে দেন। নিতান্ত দতিদ্র পরিবারের মেয়ে সে বয়স বেশি হলেও কুড়ি বছরের বেশি না। ঢালী সাহেব তার অফিসিয়াল ছুটির দিনে স্ত্রী প্রিয়ন্তির সাথে থাকে। নতুন কাজের মেয়েটির উপরে প্রথম দেখাতেই ঢালী সাহেবের ভালো নজর পড়েনি। দুই থেকে তিনমাস পার হয়ে গেলো। ঢালী সাহেব নানা পথের অনুসন্ধান করতে লাগলেন। ছুটির দিনগুলো বউয়ের কাছে গেলে বউয়ের প্রতি তার মন থাকেনা, তার মন পড়ে থাকে কুড়ি বছরের ঐ কাজের মেয়ের প্রতি। আবার যখন সে তার কর্মস্থলে ফিরে আসে সে তখন তার মাথায় আর অঞ্জলির কথা থাকেনা থাকে শুধু ঐ কুড়ি বছরের কাজের মেয়ের প্রতি। 
ঢালী সাহেব প্রথমে ভাবে অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে মেয়েটিকে কুপ্রস্তাব দিবে। হয়তোবা দরিদ্র ঘরের মেয়ে অর্থের লোভে পড়ে রাজি হয়ে যাবে। ঢালী বেশ  চালাক গোছের মানুষ। যদি ইতিবাচকভাবে রাজী হয়ে যায় তাহলে তো ভালোই কিন্তু ফলাফল যদি নেগেটিভ হয় তাহলেতো বিপদ ঘনিয়ে আসবে। লোক জানাজানি হবে। আর সব থেকে বড় কথা প্রেমনাথকে সে মুখ দেখাবে কি করে এই কথাগুলো সে ভাবতে থাকে। তাই সে তার কৌশল পাল্টায়। যদি কোনো ব্লাকমেইল করার সুযোগ খোঁজা যায় তাহলে সবচেয়ে বেশি ভালো হয়। 
একদিন ভোর রাতে সবাই ঘুমিয়ে আছে। কাজের মেয়ে কিচেন রুমের পাশে ছোট একটি রুমে ঘুমায়। মেয়েটি সেইরাতে তার শোবার ঘরের দরজার সিটকানি দিতে ভুলে যায়। সারাদিনের সবকাজ করে এতটাই ক্লান্ত থাকে যে বিছানায় একবার গেলে দু’চোখ ঘুম আর ছাড়তে চায় না। তো সুযোগ পেয়ে ঢালী সাহেব কাজের মেয়ের ঘরে ঢুকে পড়ে। হাতে একটি স্মার্ট ফোন যেখানে ভিডিও রেকর্ডিং চালু ছিল আর সে মুখে দাঁত দিয়ে একটি অল্প আলোর টর্চ জালিয়ে আটকে রেখে মেয়েটিকে উলঙ্গ করে তার লজ্জাস্থানকে ভিডিও করতে ব্যস্ত ছিলো। মেয়েটি হঠাৎ জেগে ওঠে এবং কোনো রকম শব্দ না করে ঢালীকে ঘর থেকে বের হয়ে যেতে বলে। ঢালী সাহেব আক্ষেপ নিয়ে বের হয়ে যায়। মেয়েটি আবার ঘুমিয়ে পড়ে।  
ঢালী সাহেব বেড রুমে শুয়ে মনে মনে ভাবে আর যাইহোক এই কুড়ির বছরের কাজের মেয়েকে সয্যার পাশের মেয়ে হিসেবে পেতে এই ফোনের ভিডিওটিই যতেষ্ঠ। কিন্তু ঐ কাজের মেয়ে যে এটার বিরুদ্ধে কোনো প্রতিকামূলক ব্যবস্থা নিতে পারে এটা তার মাথায় নেই।
পরদিন সকাল বেলা ঐ কাজের মেয়ে ঢালী সাহেবের বাসা ছেড়ে চলে গিয়েছে। প্রেমনাথ সাহেবকে সব খুলে বলেছে। প্রেমনাথ সাহেব খুব ব্যাথিত হয়েছেন। প্রতিকার পাওয়ার আশায় অফিসের বসকে সব খুলে বলেছেন। তবে অফিসের বস নিরব থাকলো। কোনো ধরণের ব্যবস্থা তিনি নিলেন না। বস মনে মনে ভাবলেন যেহেতু মানিক ঢালী এসোসিয়শনের সভাপতি সেহেতু তাকে কিছু না বলে যদি এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে তাকে ব্লাকমেইল করা যায় তাহলে অন্তত অফিস ভালো চলবে।
তারপর অনেকদিন পার হয়েছে। মেয়েটির মনের বেদনা বা মানসিক অবস্থা কেউ জেনেছে কিনা তা জানা হয়নি। মেয়েটি পরে সুবিচার পেয়েছি কিনা বা কোথাও গিয়েছে কি না তা আর জানা হয়নি। প্রেমনাথ কি অফিসের কাজের ফাঁকে মানিক ঢালীর সাথে কথা বলে কি না তা জানা নেই। যুগে যুগে ক্ষমতা আর ডিগ্রির ভারে ভারত্ব অনেক মানিক ঢালীরাই এমন কর্ম করে বেঁচে থাকে, তাদের অপরাধের বিচার হয়না বা কেউ মন থেকে চায় না।

লেখক:আসিফ ইকবাল আরিফ 

উল্লেখ্য: (এই গল্পটির সকল চরিত্র এবং কাহিনী যদি কোন জীবিত বা মৃত মানুষের সাথে মিলে যায় তার দায় লেখকের উপর না। এটি সম্পুর্ন কাল্পনিক।)

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button