‘একলা চলো নীতি’ নিয়ে হাঁটছে বিএনপি

বিশেষ প্রতিনিধি

নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে রাজনীতির মাঠে টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে দেশের অন্যতম বড় দল বিএনপি। একাধিক জোট করেও ফল ঘরে তুলতে পারছে না একাধিক সময়ে ক্ষমতায় থাকা দলটি। গেল নির্বাচনে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যও গড়েছিল তারা। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। আর তাই এবার ‘একলা চলো নীতি’ অনুসরণের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।

২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের সঙ্গে নিয়ে মাঠের আন্দোলনে কোনো সুফল পাওয়া যায়নি বলে মনে করছেন দলটির তৃণমূলের নেতারা। তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে এবার দুই জোট ছাড়াই সমাবেশের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ঈদুল আজহার আগেই ৮ বিভাগীয় শহরে ঘোষিত সমাবেশে শরিকদের আমন্ত্রণ জানানো হবে না। এসব সমাবেশে ব্যাপক শোডাউন করতে চায় দলটি।

বিএনপির একাধিক নীতিনির্ধারকের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে এসব তথ্য। তাদের মতে, বিএনপি সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী একটি দল হওয়া সত্ত্বেও গত ১০ বছরে জাতীয় রাজনীতিতে কোনো সুফল বয়ে আনতে পারেনি।

তৃণমূল নেতাদের ধারণা, ২০ দলীয় জোট ও ঐক্যফ্রন্ট- এ দুই জোট গঠনের ফলে বিএনপিই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই সামনের দিনে সব কর্মসূচি এককভাবে করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। তাদের পরামর্শকে হাইকমান্ড গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশ এককভাবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

জানা গেছে, দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সমাবেশ করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিএনপি। দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি, সুচিকিৎসা এবং নতুন করে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে ১৮ জুলাই বরিশাল থেকে বিভাগীয় সমাবেশ শুরু করবে দলটি। ২০ জুলাই চট্টগ্রাম ও ২৫ জুলাই খুলনায় হবে এই সমাবেশ। ঈদুল আজহার আগেই দেশের ৮ বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত দলটির।

ঢাকায় সমাবেশ হবে সবার পর। অনুমতি পেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই সমাবেশের আয়োজন করা হবে। ইতোমধ্যে বিভাগীয় পর্যায়ের স্থানীয় নেতাদের এসব সমাবেশে ব্যাপক নেতাকর্মীর সমাগম ঘটাতে কেন্দ্র থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নির্দেশনা পেয়ে নেতারা সমাবেশ সফল করতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানান, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ কর্মসূচি হবে বিএনপির ব্যানারে। যেখানে দলের কেন্দ্রীয় সিনিয়রসহ স্থানীয় নেতাকর্মী থাকবেন।

খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, সমাবেশ বিএনপির নিজস্ব কর্মসূচি। এতে ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক কাউকে আমন্ত্রণ জানানো হবে না।

দ্য ওয়ার্ল্ডবিডি/ঢাকা/এফওয়াই

Share On