মহামিলনের উৎসব ২১শে বইমেলা, বাঙালিকে মানুষ হতে শেখায়

২১শে বইমেলা বাঙালিকে মানুষ হতে শেখায়। বই কিনে কেউ গরীব হয়না। বেশী বেশী বই পড়ুন, বেশী বেশী দেশকে ভালোবাসুন।
বোরহান মেহেদী ।। বই কিনে কেউ গরীব হয়না। এমন শ্লোগানটি বই পিপাসু স্বজনদের মনে বই কেনার সাহস যোগায়, এতে কোন সন্দেহ নেই। তাইত প্রতিদিন লোকারণ্য হয়ে উঠছে বই প্রমিকতে ভিরে। শুধু পাঠক নয় লেখিয়ে কবি সাহিত্যিকরা দলবেধে মেলায় আসছে।  সবাই আসছে নিজেদের পছন্দের ব্যাক্তিত্বকে সাজগুজ করে। এও এক নয়নাভিরাম বিমুগ্ধতা। এও এক যেন বাংগালির চিরন্তন ঐতিহ্যের অমলিন সুন্দর সাংকৃতিক চেতনার প্রকাশ। যা আমাদের আত্মচিত্তে স্বাসত মহিমায় ধর্মবর্ন  জাতবৈসম্যেকে দূরেঠেলে মানবতার মহামিলনের বার্তা দিয়ে যায়। 
বছর ঘুরে মহান ২১শে ফেব্রুয়ারী শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আমাদের এই ২১শে বই মেলা। উপলব্দিতে মনের আখরে কি যাদুর স্পর্শ এই ২১শে বইমেলা, তা নাবলা এক সুখ। বই মেলায় পা রাখলেই যেন, প্রাণে পবিত্রার এক মিনার হয়ে ছুঁয়ে থাকে প্রিয় মাতৃভুমির রক্তরঙ্গিন এক স্বাধীন মানচিত্র। 
তাই বলতেই হয় আত্মসুখের আনন্দধারার মিলনমেলা আমাদের এই বই মেলা। প্রতি বছরের ন্যায় দূরদূরান্তের বই প্রিয় মানুষেরা যেমন ছুটে আসেন পছন্দের বই কিনতে, তেমনি আসেন লেখক-লেখিকাগন। সাহিত্য প্রেমি সাহিত্য লেখিয়ে কর্মিদের মধ্যে কবিরা একটু বেশী আসেন বই মেলায়। বলছি গল্প উপন্যাস, জ্ঞান-বিজ্ঞান, থিম, ভূত-টুত নিয়ে যারা লেখেন তাঁরাও আসেন না, তা নয়, তাঁরাও আসেন। তবে বেশী কবিতা নির্মাণ শব্দ কারিগর শিল্পীরা একটু বেশী জাকিয়ে আসেন। 
এবং কবিদের আগমন অনেকটা জানান দিয়েই অনেকে আসেন। ডিজিটাল যুগে মোবাইল বা ফেইজবুক, মেসেঞ্জারে আগ থেকে নিমন্ত্রণ দিয়ে সবাই আসেন। ঘুরে বেড়ান পছন্দের বইয়ের স্টল বা সুদৃষ্ট কর্ণারে। ৪/৫ জন কবি লেখিয়েদের এমনি আড্ডা মেলার এক নান্দনিক প্রেক্ষাপট। এক অনন্য  দৃর্শ্যপট। মেলায় ডুকলেই নজরে আসবেই এমন ছবি। কেউ কেউ আবার নিজেদের লেখা গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করছেন। কেউ আবার ছবি তোলায় ব্যস্ত থাকছেন। কেউ কোথাও অগ্রজ গুণীকবি-সাহিত্যিকদের সানিধ্য নিচ্ছেন, চোখের পলকে ছবি, সেলফি তুলছেন। আবার একে অন্যের লেখা কাব্যগ্রন্থ বা উপন্যাস কিনে নিচ্ছেন, সেও ক্যামেরা বন্দি হচ্ছেন। এযে কতো বড় একটি আত্ম বিনিয়োগের ক্ষেত্র, ভাবনা বোধ বিনিময়ের চিত্র, তা কেবল আত্ম স্পর্শে বুঝবার বিষয়। আজ তাই একটি অমোঘ সত্যি দৃর্শ্যমান মানুষের জীবনবোধের স্বাধীনতা যেখানে বাধনহীন, সেখানেই আসল সৃষ্টির সৌন্দর্যরূপকে খুঁজে পাওয়া সহজ। এখানে ধর্ম, লিঙ্গ, রঙের কোথাও ব্যবধান নেই। আর সেটিই হচ্ছে আমাদের অসম্প্রদায়িক এই মহান ২১শের বইমেলা উৎসব। 
আজকে আমাদেরকে বাঙ্গালি জাতির মুল শিকড়ের সাংকৃতিকে লালন করতে হবে। কোনটা কার ব্যবধান করা নির্ঘাত অভিশাপ। সব মানুষের এই দেশ। সুতরাং ১লা বৈশাখ, নবান্ন উৎসব, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, ঈদ, পুঁজা-পার্বন এসব উৎসবকে দ্বিধাহীন চিত্তে মেনে নিয়ে বাংলদেশকে বঙ্গবন্ধুর সোনারবাংলা বিনির্মাণ করতে হবে। উন্নয়ণের উচ্চ শৃঙ্গে নিয়ে যেতে হবে। সবার মননশীল লালিত শক্তিই হচ্ছে দেশমাতৃকার স্বাধীনতাকে চীর সমুন্নত রাখার যাদুরকাটি।  মনে রাখতে হবে ধর্ম যারযার উৎসব সবার। বইমেলা জাতি সমাজ রাষ্টকে একটি শিক্ষা দিয়ে যায়, সবকিছুর উর্ধেউঠে বাঙ্গালিকে সত্যিকারের মানুষ হতে হবে। 
শেষে একটি শ্লোগান দিয়ে লেখার শেষ অংকে যেতে চাই। বেশী বেশী বই পড়ুন, বেশী বেশী দেশকে ভালোবাসুন। জ্ঞান-বিজ্ঞান জেনে মেধা হবে জাগ্রত, বুদ্ধি দিয়ে গড়বো দেশ, মাথা করবোনা নত। ২১শে বইমেলা বাঙালি ভাবধারার সত্যিকারের জীবন শিক্ষার এক মহা মিলনের মহা সুমদ্র মোহনা। আসুন বই কিনি, নিত্য সঙ্গী বই রাখি। অপসাংকৃতি রোধে আপনহারা বাঙ্গালি জিবনবোধকে চলার প্রতিটি পদে প্রতিষ্ঠা করি। তবেই বাঙালির জয়, বাংলার জয় হবেই সুনিশ্চিত।

Share On