জুয়ার আসর থেকে জুয়াড়ি আলম সহ তার সহযোগীরা গ্রেপ্তার

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধিঃ স্থানীয় চরশাহী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ষ্টীলের ব্রিজের পাশে খাল পাড়ের একটি ঘর থেকে জুয়ার সামগ্রী ও টাকা সহ জুয়াড়ি আলম সহ তার ৪ সহযোগী কে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছেন চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশ।এই সময় তাদের কাছ থেকে টাকা ও জুয়ার সামগ্রী পাওয়া যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,আলম দীর্ঘদিন থেকে এলাকাতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছে,কেউ তার বিরুদ্ধে কোন কথা বললে তার পালিত অস্ত্রধারী ক্যাডার দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিপুল অংকের টাকা আদায় করে।ক্ষমতাসীন দলের লোক হওয়ায় তিনি এলাকায় নানা অপকর্মের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার শুরু করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ,জুয়াড়ি আলম বিলুপ্ত সন্ত্রাসী দিদার বাহিনীর সদস্যদের নিজের সহযোগী বানিয়ে অবাধে মাদক কারবার, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী,অবৈধ নারীর ব্যবসা,সুদের ব্যবসা সহ নানা কর্মকান্ড চালাচ্ছেন এলাকায়।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নুর আলম লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নের চরশাহী গ্রামের তবারক উল্ল্যাহর ছেলে।আগে বিভিন্ন ডাকাতি মামলা সহ একাধিক মামলায় তিনি  গ্রেফতারি পরোয়ানাভূক্ত আসামি।
অন্যদিকে সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা দীর্ঘদিন পলাতক থাকলেও এখন জুয়াড়ি আলমের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, জুয়াড়ি আলম দলীয় প্রভাব দেখিয়ে  তার অপকর্মে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তিনি দলীয় পদপদবির দাপট দেখিয়ে সন্ত্রাসীদের গডফাদার হতে চান। যে কারণে বিলুপ্ত একটি সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যদের নিজের সহযোগী বানিয়েছেন। তিনি এলাকাবাসীকে সন্ত্রাসীদের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি, সালিশ বাণিজ্য, জুয়ার আসর চালানো,অবাধে সুদের ব্যবসা, জোর করে মানুষের জমির  মাটি উত্তোলন করে বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি, মাদক কারবার ও কিশোর গ্যাং গঠনের মত গুরুত্বর অপরাধ কর্মকান্ড চালাচ্ছেন।
স্থানীয় একটি ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা জানায়, আলম তাদের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন। নির্মাণ কাজে বাধা দিয়ে চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না পেয়ে আলম সন্ত্রাসীদের দিয়ে ওই পরিবারের লোকজনকে নানাভাবে হুমকি ধমকি দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় দাসেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. মফিজ উদ্দিন  জানান, কিছুদিন আগে ও রহিমপুর এক ঘর থেকে আলম সহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে।পরে তাদের কে আদালতে প্রেরণ করা হয়।তবে তাদেরকে গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। তিনি বলেন, আলম সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Share On