মির্জাপুরে দর্শনার্থীদের নতুন আকর্ষণ সূর্যমুখী বাগান

সাগর আহমেদ, টাঙ্গাইল থেকে: এ যেন এক ফুলের স্বর্গরাজ্য, যেখানে গেলে যে কারো মন আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে উঠবে। সবুজে ঘেরা প্রকৃতির মাঝে মনোরম পরিবেশে শোভা পাচ্ছে হলুদ রঙের সূর্যমুখী বাগান। সুবিশাল এই বাগান দূর থেকে যে কারো মন কেড়ে নেবে। আর তাইতো নানা বয়সী দর্শনার্থীদের পদচারণায় আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু এখন টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের ত্রিমোহন গ্রামের এই দর্শনীয় সূর্যমুখী বাগান।    
 মির্জাপুর উপজেলা সদর থেকে ২ কি.মি. দূরে সবার সুপরিচিত বংশাই ব্রীজের উত্তর পাশে তরফপুর-পাথরঘাটা সড়ক ঘেঁষে গড়ে উঠেছে এ সুবিশাল বাগান। বর্ষা মৌসুমে বুধিরপাড়া বিলের পর এবার মির্জাপুরবাসীদের জন্য আরেকটি আকর্ষণ হয়ে উঠেছে এই সূর্যমুখী বাগান। হলুদ ফুলের সমারোহে হারিয়ে যেতে দূর-দূরান্ত থেকে সবাই ভিড় জমাচ্ছেন এ সূর্যমুখী বাগানে। মির্জাপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পরামর্শ নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে প্রায় চার বিঘা জমিতে বিশাল এলাকাজুড়ে সূর্যমুখীর আবাদ করেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন। ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে বাগানের তিন শতাধিকেরও বেশি গাছে ফুল ফোটে। এতেই সবার নজর পড়ে সূর্যমুখী বাগানে।  
প্রতিদিন সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ফুটে থাকা এ ফুলের আকষর্ণ কাছে টানছে পর্যটকদের। এ মাসের শুরু থেকেই ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের সূর্যমুখী বাগানে আসতে শুরু করেছেন ফুলপ্রেমী দর্শনার্থীরা। সারাদিনই ভিড় থাকে নারী-শিশুসহ তরুণ তরুণীদের।
ভালোবাসা দিবসে সূর্যমুখী বাগানে আসা তরুণ-তরুণীর ছবি ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে। এরপর সেই ছবি সবার দৃষ্টিগোচর হলে জানাজানি হওয়ার পর দর্শনার্থীদের ভিড় প্রতিনিয়তই বাড়ছে সূর্যমুখী বাগানে। উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরিবার-পরিজন আর বন্ধু-বান্ধব নিয়ে এখানে ঘুরতে আসছেন দর্শনার্থীরা।  
বন্ধুদের নিয়ে সূর্যমুখী বাগানে ঘুরতে আসা এক তরুণ বলেন, হাজারো হলদে ফুলের সমারোহে আমরা মুগ্ধ। সূর্যমুখী ফুলের এমন সৌন্দর্য আগে কখনও দেখিনি। শহরের অদূরে এমন একটি মনোমুগ্ধকর বাগান মির্জাপুরবাসীর জন্য দর্শনীয় স্থানে রুপ নিয়েছে।
এদিকে, সূর্যমূখীর বাগান ঘিরে আশপাশের দোকানিদের ব্যবসা জমে উঠেছে। একই সাথে সড়ক পথে উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে মোটর বাইক ও ইজিবাইক চালকরাও ভাল আয় করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও টং এর দোকানদার তমিজউদ্দিন জানান, আগের চেয়ে বেচা-কেনা ভাল হচ্ছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাগান ঘিরে এলাকাটি নানা বয়সী দর্শনার্থীদের সমাগমে মুখরিত হয়ে থাকছে। সবাই ফুলের সাথে নিজেকে সেলফি ও ছবি তুলে ফ্রেমবন্দি করছেন। তবে প্রথমবারের মতো আবাদ করা এ সূর্যমুখী বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করা যাবে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত। এরপর বাগানটি আর থাকবে না। কারণ গাছ কেটে ফুল থেকে বিজ সংগ্রহ করা হবে।

Share On