গাছে গাছে ফুটছে আমের মুকুল

এখনই গাছে গাছে ফুটছে আমের মুকুল। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে এই মুকুলের পাগল করা ঘ্রাণ। ফুলের ঘ্রাণ মৌ মৌ চারদিক।                                                                                  

মোঃ তারিকুর রহমান চুয়াডাংগা ঃবিদায় নিচ্ছে শীতকাল। প্রকৃতির আপন খেয়ালে বসন্তের আগমন ঘটতে আর মাত্র ক-দিন। ফাগুনের আগুন রাঙারুপে সাজবে প্রকৃতি। ফুলে-ফুলে সুবাসিত হবে চারদিক। মৌমাছিরা মধু আহরণে ব্যস্ত হয়ে পরবে।

পল্লীকবি জসীম উদ্দিনের ‘মামার বাড়ি’ কবিতার পংক্তিগুলো বাস্তব রূপ পেতে আর ক-দিন মাত্র। ‘আয় ছেলেরা, আয় মেয়েরা/তুলিতে যাই, ফুলের মালা গলায় দিয়ে/মামার বাড়ি যাই। ঝড়ের দিনে মামার দেশে/আম কুড়াতে সুখ, পাকা জামের মধুর রসে/রঙিন করি মুখ…।’


 
মধুমাসের আগমনী বার্তা শোনাচ্ছে প্রকৃতি, এখনই গাছে গাছে ফুটছে আমের মুকুল। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে এই মুকুলের পাগল করা ঘ্রাণ। ফুলের ঘ্রাণ মৌ মৌ চারদিক।


 
জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে আম গাছে শোভা পাচ্ছে মুকুল। বাতাসে মুকুলের সুবাসিত পাগল করা ঘ্রাণ। গাছের আমপাতার সবুজ বিছানায় মুকুলের সোনালী রেণু যেনো ফুলশয্যাা সাজিয়ে স্বাগত জানাচ্ছে ফাগুনকে। সেই সাথে বিদায় নিচ্ছে শীতকাল। তবে আবহাওয়ার ওপর আমের ফলন নির্ভর করে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমের ফলন ভালো হবে বলে আশা করছেন এ উপজেলার আম চাষীরা। ইতিমধ্যে গাছে-গাছে মুকুল আসা শুরু হয়েছে। গাছের পুরো মুকুল ফুটতে আরও কয়েক সপ্তাহ লাগবে।

জীবননগর উপজেলার খয়েরহুদা গ্রামের কৃষক তারিকুর রহমান  জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে থেকে তাদের লাগানো আম গাছে মুকুল আসা শুরু হয়েছে। কিছু গাছ মুকুলে ছেয়ে গেছে। বেশিরভাগ গাছে মুকুল বের হচ্ছে। মুকুল আসার পর থেকেই তারা গাছের পরিচর্যা করেছেন। মুকুলের রোগ বালাইয়ের আক্রমন থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ গ্রহণকরছেন।

জীবননগর উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানায়, গেলো দুই সপ্তাহ থেকে গাছে আমের মুকুল আসতে শুরু করেছে। মূলত আবহাওয়া কারণে দেশীয় জাতের গাছে এই আগাম মুকুল আসা শুরু করেছে। এ সময় বিভিন্ন পোকামাকড় মুকুলের ক্ষতি করে। এ পোকা দমনে বালইনাশক স্প্রে করলে তা আক্রমণ করতে পারে না। যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে তাহলে খুব ভালো ফলন পাওয়া যাবে।            

Share On