নরসিংদীর ঘোড়াশালে মানবতার দেয়াল একটি মহতি উদ্যোগ

নরসিংদীর ঘোড়াশালে মানবতার দেয়াল একটি মহতি উদ্যোগ
নরসিংদী প্রতিনিধি [নরসিংদী] আপনার অপ্রয়োজনীয় জিনিস এখানে রেখে যান, আপনার প্রয়োজনীয় জিনিস এখান থেকে নিয়ে যান। সচ্ছল এবং দুস্থ মানুষের প্রতি এমন আবেদন জানানো হয়েছে ‘মানবতার দেয়াল” দেয়ালের গায়ে লিখা শ্লোগানে।
অনুকরণীয় এই মানবিক কাজ হাসান স্মৃতি সংসদের সৌজন্যে ও ঘোড়াশাল ফ্রেন্ডস এন্ড ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রচার করেছে নিউ মুন নাইট টেইলার্স। সরজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, ওই দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে ২৫টি বিভিন্ন ধরনের পোশাক। ঘোড়াশাল পৌর এলাকার সচ্ছল মানুষরা দেয়ালে রেখে যাচ্ছেন তাদের অব্যবহৃত ও বাড়তি পোশাক। আর সেগুলো দুস্থ মানুষরা যার যেটা প্রয়োজন, সেটা নিয়ে যাচ্ছেন। 
এ সড়কে চলাচলকারী সকলের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হলো মানবতার দেয়ালটি। কয়েক মাসেই অভাবী মানুষ স্বজনদের  কাছে এটি সুখের খবর হয়ে উঠেছে। এখান দিয়ে আসা-যাওয়া’র পথে সহজে অনেকেরই চোখ আটকে যায় এ দেয়ালের দিকে।
মানবতার দেয়ালটি সম্প্রতি [১জানুয়ারী ২০২০] শুভ উদ্বোধন করেন পলাশ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ জাবেদ হোসেন। এসময় আরো উপস্হিত ছিলেন ঘোড়াশাল পৌর মেয়র আলহাজ্ব শরীফুল হক। তাছাড়া বাংলাদেশ  নেতা তানজিরুল হক রনি, ঘোড়াশাল ফ্রেন্ডস এন্ড ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এস.এম আল-আমিন, সভাপতি মোঃ আকমাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক জয়নুল হক জনি ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্হিত ছিলেন।
এ সড়কের পাশেই বসবাসরত দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক  আক্তারুজ্জামান বলেন, তরুন যুবকদের এ উদ্যোগ সত্যিই সমাজের মানুষের বিবেককে নাড়া দিবে। তিনি তাদের সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং সমাজের স্বচ্ছল মানুষকে এমন মানবিক কাজে তাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
এ সড়কে চলাচলকারী চা দোকানী সেন্টু দাস জানান, বর্তমান যুব সমাজ ধর্ষণ, ইভটিজিংসহ নানান অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে। সেখানে যুব সমাজের এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। তাদের সহযোগিতা করার জন্য আমরা অবশ্যই এগিয়ে আসবো।
ঘোড়াশাল ফ্রেন্ডস এন্ড ফাউন্ডেশনের সভাপতি আল-আমিন জানান, ২০১৬ সালে আমাদের সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সমাজের অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে আমরা এদের জন্য আর্থিক সহযোগিতাসহ শীতবস্ত্র বিতরণ ও স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করে আসছি। এবার আমরা মানবতার দেয়াল গড়ে তুলেছি। 
এখানে ব্যবরূত অপ্রয়োজনীয় জিনিস রেখে যেতে আর প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে যেতে আহ্বান জানানো হয়েছে। এ কার্যক্রমে আমরা মানুষের সাড়া পেয়েছি। আশা করি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সকলে আমাদের পাশে থেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিবেন।

Share On