২৩ লাখ মানুষ ১৩ দিনে করোনার টিকা নিলেন

দেশে গণটিকা কার্যক্রম শুরুর ১৩তম দিনে এসে আজ সারা দেশে করোনার টিকা নেওয়ার সংখ্যা সোয়া দুই লাখের বেশি। সারা দেশে আজ করোনার টিকা নিয়েছেন ২ লাখ ২৫ হাজার ২৮০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ছিলেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭৮০ জন। আর নারী ৮৫ হাজার ৫০০ জন।

আজ সোমবার সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের পাঠানো তথ্যে এ পরিসংখ্যান জানা গেছে। গত ২৭ জানুয়ারি থেকে দেশে করোনা টিকার নিবন্ধন শুরু হয়। আর ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে সারা দেশে গণটিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম দিকে টিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের আগ্রহ কম ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে টিকা নিয়ে মানুষের আগ্রহ বেড়েছে।

গণটিকা কার্যক্রম শুরুর পর থেকে আজ পর্যন্ত ২৩ লাখের বেশি মানুষকে করোনার টিকা দেওয়া হয়েছে। টিকা নেওয়াদের মধ্যে নারীর চেয়ে পুরুষের টিকা নেওয়ার হার প্রায় তিন গুণ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গণটিকা কার্যক্রমে গত ১৩ দিনে সারা দেশে করোনার টিকা নিয়েছেন ২৩ লাখ ৮ হাজার ১৫৭ জন। এর মধ্যে ১৫ লাখ ১৮ হাজার ৭১৫ জন পুরুষ করোনার টিকা নিয়েছেন। নারী ছিলেন ৭ লাখ ৮৯ হাজার ৪৪২ জন।

আজ ঢাকা মহানগরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি টিকা দেওয়া হয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে। এখানে টিকা নিয়েছেন ২ হাজার ৩৮৪ জন। রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে আজ টিকা নিয়েছেন ১ হাজার ৯৫০ জন।

এ ছাড়া জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ১ হাজার ৩৩৭ জন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ১ হাজার ৩১৬ জন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ১ হাজার ২৪০ জনকে। ঢাকা মহানগরীতে সবচেয়ে কম টিকা দেওয়া হয়েছে মিরপুরের লালকুঠি হাসপাতালে। এখানে ৬৭ জনকে করোনার টিকা দেওয়া হয়।

করোনার টিকা নেওয়ার জন্য অপেক্ষা। সোমবার রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে
করোনার টিকা নেওয়ার জন্য অপেক্ষা। সোমবার রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, আজ দেশের জেলাগুলোর মধ্যে সংখ্যার দিকে সবচেয়ে কম করোনার টিকা দেওয়া হয়েছে বান্দরবানে। এখানে আজ ৬০১ জন করোনার টিকা নিয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ৫২৮ জন ও নারী ৭৩ জন।

টিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে নারী–পুরুষের সংখ্যার ব্যবধানের চিত্র আছে ঢাকা মহানগরীতে। একই চিত্র আছে ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতেও। বড় হাসপাতালসহ ঢাকা মহানগরের ৪৬টি কেন্দ্রে করোনার টিকাদান কর্মসূচি চলছে। ঢাকায় আজ করোনার টিকা নিয়েছেন ২৯ হাজার ৪৪১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১৯ হাজার ১৭০ জন এবং নারী ১০ হাজার ২৭১ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, দেশের জেলাগুলোর মধ্যে সংখ্যার দিকে সবচেয়ে কম করোনার টিকা দেওয়া হয়েছে বান্দরবানে। সেখানে গতকাল ৬০১ জন করোনার টিকা নিয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ৫২৮ জন ও নারী ৭৩ জন।

নারী ও পুরুষের তুলনামূলক চিত্রের ব্যবধান দেখা গেল মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। আজ বেলা ১১টার দিকে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, তিনতলার করোনা টিকাদান কেন্দ্রের সামনে অপেক্ষমাণ শ পাঁচেক মানুষের ভিড়। সেখানে নারীর চেয়ে পুরুষের সংখ্যাই বেশি। এখানে সারা দিনে করোনার টিকা দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ১৮১ জনকে।

মুগদা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সকাল সাড়ে আটটা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত ওই হাসপাতালে ৪০০ নারী ও ৮০০ পুরুষকে করোনার টিকা দেওয়া হয়। টিকা কার্যক্রমের প্রথম দিকে কয়েক দিন মানুষের চাপ থাকলেও দিন দিন তা বেড়েছে। তবে টিকা নেওয়াদের মধ্যে পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা অনেক কম। হাসপাতালের পরিচালক অসীম কুমার নাথ প্রথম আলোকে বলেন, মানুষের চাপ এতই বাড়ে যে এই হাসপাতালে করোনা টিকার কোটা শেষ হয়ে যায়। পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছ থেকে আবেদন করে টিকার কোটা বাড়ানো হয়েছে।

ঢাকায় বড় হাসপাতালগুলোর পাশাপাশি নগর মাতৃসদন কেন্দ্রগুলোতেও করোনার টিকা দেওয়া হচ্ছে। খিলগাঁও তিলপাপাড়া এলাকার নগর মাতৃসদনে দৈনিক প্রায় দেড় শ করোনার টিকা দেওয়া হয়। সকাল নয়টার দিকে এই কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রের সামনে শতাধিক মানুষ। সিরিয়াল নম্বর নিয়ে যাচাই শেষে তাঁদের টিকা দেওয়া হচ্ছে।

সবশেষে টিকা দেওয়া হলে প্রত্যেককে আধা ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে। গতকাল এই কেন্দ্রে ১৮১ জনকে করোনার টিকা দেওয়া হয়। এর মধ্যে নারী ছিলেন ৬৬ জন, বাকিরা পুরুষ।

Share your love