আত্ম-দ্বন্দ্বে পরাভূত মানবজীবনের করুণ কাহিনি এই ট্র্যাজিডি। সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির সে ট্র্যাজিডির স্বীকার – বেলায়েত হোসেন স্বপন

টগবগে এক তরুণকে জীবন দিতে হল নিজের পেশার কাজ করতে গিয়ে।যখনই শুনলাম চাপরাশিরহাটে দুই বিবাদমান পক্ষের গুলিতে মুজাক্কির সহ ৫০ জন আহত হয়েছিল।মনে মনে ভাবছিলাম এই কেমন কথা।কার স্বার্থে এই গুলি! মন থেকে দোয়া করেছিলাম আহত প্রত্যাকটা মানুষই সুস্থ হয়ে উঠবেন।আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রার্থনা করেছিলাম ওদেরকে সুস্থ করে দেওয়ার জন্য। কিন্তু না! আমাদের সবাইকে বিস্ময় ও হতবাক করে দিয়ে মুজাক্কির চলে গেলেন না ফেরার দেশে।হাসপাতালে কঠিন যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন তরুন প্রজন্মের সাংবাদিক মুজাক্কির ।বাঁচার আকুতি ছিল এই মেধাবী তরুণের! কিন্তু না! সব কিছু শেষ করে মায়ের বুক খালি হলো। চলে গেলেন ইহকালের সব মায়া ত্যাগ করে।

ওর মায়ের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম সহানুভূতি জানাবো বলে।ওর মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে নিজেই বেদনায় ক্লান্ত হলাম।মাকে কি বলে সান্ত্বনা দিব সে ভাষা খুঁজে পাচ্ছিলাম না? মা অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে রইলেন উদাস দৃষ্টিতে আমার দিকে। হয়তবা মনে মনে ভাবছেন মুজাক্কির ফিরে আসবেই! মায়ের মন বড়ই অবুঝ। ভালোবাসার নাড়ী ছেড়া ধন- বাড়িতে এসে মাকে বলবেন মা আমি এসেছি।

ওর মায়ের হাত ধরে যখন বললাম আপনি দোয়া করেন মুজাক্কিরের জন্য। মা উদাস দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন আমার দিকে। দুই ফোটা তপ্ত অশ্রু আমার দু’গাল বেয়ে ঝরে পড়লো।আমার এই কান্না মুজাক্কির মাকে সান্ত্বনা দিতে পেরেছে? না মোটেই না।ওনি হয়ত ভাবছেন তাঁর খোকা আসবে। ফিরে আসবেই।
খোকা ফিরবেন মায়ের কাছে। অবুঝ বালক মুজাক্কির। ভাবছেন ভর দুপুর বাড়িতে এসে জড়িয়ে ধরে বলবেন ” মা আমি হাজির”!

হত্যাকারীদের বুক একটুও কাঁপলো না। আমরা দেশবাসী এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।সাথে সাথে এ-ও জানি- ‘বিচারের বাণী নিরবে নিভৃতে কাঁদে ‘।কে শুনে কার কথা।

মহান আল্লাহ’র কাছে মিনতি মুজাক্কিরকে বেহেশতে নসিব করুন। তাঁর সমস্ত গুনা মাফ করে আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করে।সবাইকে বিনয়ের সহিত অনুরোধ করছি বুরহান উদ্দিন মুজাক্কিরের জন্য দোয়া করবেন।এবং ওকে মাফ করে দিবেন।

হত্যাকারীকে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দিন। আর যেন কোন মায়ের বুক খালি না হয়।

Share your love