পলাশে কারখানার বিষাক্তবর্জে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ, শ্বাস বন্ধ করে স্হানীয়রা চলছেন


নরসিংদী প্রতিনিধি: নরসিংদীর ঘোড়াশাল পৌর এলাকার ৪ নং ওয়ার্ড দক্ষিণ পলাশ ভূইয়ার ঘাট নিকটস্হ স্থানে প্রাণ কোম্পানি ৪/৫ বছর যাবৎ বিষাক্ত বজর্র ফেলে জমিয়ে রাখার কারনে পরিবেশের মারাত্মক দূষণের শিকার হচ্ছে। এতে এলাকায় বসবাস ও চলাফেরা করা একেবারে অসহনীয় হয়ে উঠেছে। শুধু তাই নয় শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাতায়তে গন্ধ ছড়িয়ে তাদের শরীরে এর বিষক্রিয়া সৃষ্ঠির শংকা দিয়েছে।
এলেকা ঘুরে দেখা যায়, নির্গত বিষাক্ত বর্জ্যের ক্ষতিকর প্রভাবে ৩০টি গ্রামের প্রায় ৩৫ হাজার সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ওই বর্জ্য উন্মুক্ত স্থানের পাশ্ববর্তী বিল ও খালে ফেলানোরর কারণে পরিবেশের মারাত্বক ক্ষতি করছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। দীর্ঘদিন একি স্হানে স্তুপাকারে এই বর্জ থেকে বিষযুক্তগ্যাস হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে, যা এলেকার মানুষের দেহে বিরূপ বিষক্রিয়া মিশে রোগের তৈরী হচ্ছে।
অন্যদিকে প্রাণ কম্পানী শিল্প উচ্ছিষ্ট  ময়লা-আর্বজনা গুলো নদীর ধারে ফেলানোর কারনে নদীর পানি যেমন দূষিত হচ্ছে তেমনই নদীর মাছও প্রায় সময় মরে ভেসে উঠছে। ঘটনাস্থলে বজর্র আবর্জনার স্তুপ ও নিষিদ্ধ পলিথিন ফেলে মাঝে মধ্যে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, আর তখনই বিষাক্ত বর্জ্র , কেমিক্যাল ও পলিথিন পোড়া কালো ধোয়ার দুর্গন্ধে এলাকার পরিবেশের মাতারত্মক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে এবং বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে । 
যার ফলে মানুষ ও পশু পাখি হুমকীর মুখে। কিছুদিন পূর্বে এলাকার ইব্রাহিম নামে একজনের একটি গবাদি পশু বিষাক্ত ময়লা খেয়ে ফেলল্লে কিছুক্ষন পরপরই ঘটনাস্থলেই গরুটি মারা যায়। 
এ বায়ু ও পরিবেশ দুষণ ব্যাপারে বয়জেষ্ঠ্য আবুল হোসেন বলেন, আমাদের বাপ -দাদার নিজস্ব সম্পত্তিতে আমরা চলাফেলা এবং কোন প্রকার ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারছি না এই বিষাক্ত পরিবেশের কারনে, বার বার নিষেধ করা সত্বেও আমার জায়গার উপর দিয়ে ট্রলি ট্রাক দিয়ে আমার জায়গার পাশে ময়লা ফেলছে অহরহ। 
নীজেদের জায়গার উপড় দিয়ে বর্জের ট্রলি যাতায়তে বাধা দিলে অকথ্য ভাষায় গালাগালিসহ মারতে পর্যন্ত আসে। বলতেই এদের খুটির জোর কোথায় জনগণ জানতে চায়। এলাকার স্বনামধন্য মরহুম ফিরোজ মেম্বারের ছেলে ছারোয়ারুল ইসলাম ও সাখাওয়াত হোসেন (সাকু), মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বয়জেষ্ঠ্য মোতালেব হোসেনসহ এলাকার গণ্যমান্য ও একাধিক ব্যক্তিবর্গের কাছে জিজ্ঞাসা করেও একই অভিযোগ পাওয়া যায়। 
এ ব্যাপারে প্রাণ কোম্পানির এডমিনকামাল হোসেন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা তো বর্জ ফেলি না, যাদের কাছে বর্জ বিক্রি করি ওরা হয়তো বা ফেলতে পারে। তবে আমরা তাদেরকেও বলে দিয়েছি যে, এলাকা বাসীর অভিযোগ আছে , ঐ খানে ময়লা ফেলা যাবে না। 
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করছেন এলাকার সকল শ্রেণী পেশার জনগণ।

Share your love