খুলনা জেলায় করোনার টিকা নিতে নারীদের আগ্রহ কম

খুলনা জেলায় সাধারণ মানুষের মধ্যে করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) টিকা নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। তবে টিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে পুরুষদের তুলনায় নারীদের আগ্রহ অনেক কম। গ্রামের চেয়ে শহরে নারী টিকা নেওয়ার হার কিছুটা কম। সব টিকাকেন্দ্রেই পুরুষদের ভিড় বেশি দেখা যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, টিকার ইতিবাচক দিক নিয়ে স্থানীয়ভাবে প্রচার কম হওয়া, প্রচলিত সমাজ বাস্তবতায় আর্থসামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে নারীদের পিছিয়ে থাকা, অগ্রাধিকার তালিকা ও বয়সের কারণে নারীরা টিকা নিতে কম আসছেন।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, খুলনা জেলায় প্রথম কিস্তিতে করোনাভাইরাসের ১ লাখ ৬৮ হাজার ডোজ টিকা পৌঁছায়। প্রথম চার দিনে মোট ৯ হাজার ৬৩০ জন টিকা নিয়েছেন। এর মধ্যে নারী ২ হাজার ৩৭৯ জন ও পুরুষ ৭ হাজার ২৫১ জন। নারীদের টিকা নেওয়ার হার ২৫ শতাংশের কম। আজ বুধবার জেলায় ৪ হাজার ১৬২ জন টিকা নিয়েছেন। এর মধ্যে ৩ হাজার ৬৯ জন পুরুষ ও ১ হাজার ৯৩ জন নারী, যা আগের দিনের চেয়ে ৮৪৭ জন বেশি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন চিকিৎসক বলেন, টিকার ইতিবাচক দিক নিয়ে লোকজনকে সেভাবে সচেতন করা হয়নি। অনেকের মধ্যেই টিকাভীতি কাজ করছে। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি। কারও কারও মধ্যে টিকা নিয়ে কুসংস্কারও আছে। এসব কারণে টিকা গ্রহণে নারীরা তেমনভাবে উৎসাহিত হচ্ছেন না।

টিকা দেওয়ার তৃতীয় দিনে গতকাল মঙ্গলবার জেলায় ৩ হাজার ৩১৫ জন টিকা নেন। এর মধ্যে ২ হাজার ৫৯০ জন পুরুষ ও ৭২৫ জন নারী। সোমবার দ্বিতীয় দিনে জেলার ১৪টি টিকাকেন্দ্রে ১ হাজার ২৯০ জন টিকা নিয়েছিলেন। এর মধ্যে ৯৪৮ জন পুরুষ ও ৩৪২ জন নারী। প্রথম দিনে খুলনায় ১৪টি কেন্দ্রে ভ্যাকসিন নিয়েছেন ৮৬৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬৪৪ ও নারী ২১৯ জন।

এদিকে আজ খুলনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন, পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ ও খুলনার সিভিল সার্জন মোহাম্মদ নিয়াজ টিকা নিয়েছেন।

খুলনার সিভিল সার্জন নিয়াজ মোহাম্মদ প্রথম আলোকে বলেন, প্রথম দিন তো নারীর উপস্থিতি খুবই কম ছিল। এখন কিন্তু একটু একটু করে বাড়ছে। নারীরা হয়তো ভাবছেন পরিবারের পুরুষ সদস্যরা আগে টিকা নিয়ে নিক। তবে দিন যত গড়াবে, নারীর উপস্থিতি তত বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

Share your love