“কন্যা সন্তান বোঝা নয়, আশীর্বাদ”- পুলিশ সুপার, চুয়াডাঙ্গা।

মো:: তারিকুর রহমান চুয়াডাংঙ্গা প্রতিনিধি :জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সদ্য ভূমিষ্ঠ ০৮ (আট) টি কন্যা শিশুর পরিবারকে পাঠানো হলো ফুল ও নতুন পোশাক ।
মুজিববর্ষের অঙ্গীকার, পুলিশ হবে জনতার” এই স্লোগানকে সামনে রেখে মুজিববর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের অবিভাবক মান্যবর পুলিশ সুপার জনাব মোঃ জাহিদুল ইসলাম পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে বিভিন্ন প্রকার সামাজিক, মানবিক ও উৎসাহমূলক গণমুখী কার্যক্রমে ভূমিকা রেখে চলেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় নারীর ক্ষমতায়ন, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ এবং লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণে পুলিশ সুপার চুয়াডাঙ্গা এক ব্যতিক্রমধর্মী পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন। চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের ফেসবুক পেজে “কন্যা সন্তান জন্ম হলে ফোন করুন, উপহার পৌঁছে যাবে সাথে সাথে” শিরোনামে একটি পোষ্ট দেওয়া হয়। এটি নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে জেলা পুলিশের একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।  গত ০৫.০২.২০২১ তারিখ সকাল অনুমান ১১.০০ ঘটিকার সময় দামুড়হুদা থানাধীন পীরপুরকুল্লা গ্রামের মোঃ জাফর উদ্দিন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পুলিশ কন্ট্রোলকে  জানায় গত ০২.০২.২০২১ খ্রি. তারিখে তার স্ত্রী রত্না খাতুনের কোলে একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তান জন্ম নিয়েছে। পুলিশ কন্ট্রোল রুমে তার বাচ্চা ভুমিষ্ট হওয়ার সু-সংবাদ জানানোর সাথে সাথে পুলিশ সুপার চুয়াডাঙ্গার নির্দেশে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ঐ শিশুর জন্য (ক) নিউবর্ণ বেবী প্যাকেজ,  (খ) ফুলের তোড়া নিয়ে তাদের বাসায় উপস্থিত হয়। কন্যা শিশুর পরিবারের লোকজন পুলিশ সুপারের পাঠানো উপহার পেয়ে খুব খুশি হয়, পুলিশ সুপারের আন্তরিকতা ও ভালবাসায় মুগ্ধ হয়ে পুলিশ সুপার ও তার পরিবারের সুসাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে। এছাড়াও (২) মোঃ সানোয়ার হোসেন ও মোছাঃ সোনালী খাতুন দম্পতি সাং-পার-দামুড়হুদা, থানা-দামুড়হুদা, জেলা-চুয়াডাঙ্গা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানায় গত ৩১.০১.২০২১ খ্রি. তারিখ তাদের একটি কন্যা সন্তান জন্ম নিয়েছে, (৩) মোঃ আব্দুল খালিদ ও মোছাঃ নাছিমা খাতুন  দম্পতি সাং-জয়রামপুর, থানা-দামুড়হুদা, জেলা-চুয়াডাঙ্গা জানায় গত ০২.০২.২০২১ খ্রি. তারিখে তাদের একটি কন্যা সন্তান জন্ম গ্রহন করেছে, (৪) মোঃ সাদ্দাম হোসেন ও নারগিস  খাতুন দম্পত্তি সাং-কালিয়া বকরী, থানা-দামুড়হুদা, জেলা-চুয়াডাঙ্গা জানায় গত ০৩.০২.২০২১ খ্রি. তারিখে তাদের একটি কন্যা সন্তান জন্ম গ্রহন করেছে।
এছাড়াও জীবননগর থানাধীন মনোহরপুর গ্রামের (৫) সাব্বির হোসেন ও ফাতেমা খাতুন দম্পতি জানায় গত ০৪.০২.২০২১ খ্রি. তারিখে তাদের একটি কন্যা সন্তান জন্ম গ্রহন করেছে। (৬) মোঃ আলীহিম ও খুশি খাতুন, সাং-নতুনপাড়া, থানা-জীবননগর, জেলা-চুয়াডাঙ্গা দম্পতি জানায় গত ০২.০২.২০২১ খ্রি. তারিখে তাদের একটি কন্যা সন্তান জন্ম গ্রহন করেছে। (৭) মোঃ রফিকুল ইসলাম ও চায়না খাতুন, সাং-কাটাপোল, থানা-জীবননগর, জেলা-চুয়াডাঙ্গা  দম্পতি জানায় গত ১২.০১.২০২১ খ্রি. তারিখে তাদের একটি কন্যা সন্তান জন্ম গ্রহন করেছে। (৮) মোঃ হামিদুর রহমান ও সাবিনা ইয়াসমিন, সাং-গঙ্গাদাসপুর, থানা-জীবননগর,জেলা-চুয়াডাঙ্গা দম্পতি জানায় গত ৩০.০১.২০২১ খ্রি. তারিখে তাদের একটি কন্যা সন্তান জন্ম গ্রহন করেছে।
সংবাদ জানানোর সাথে সাথে পুলিশ সুপার চুয়াডাঙ্গার নির্দেশে কয়েকজন পুলিশ সদস্যসহ উল্লিখিত পরিবারের কাছে উপহার সামগ্রী নিয়ে তাদের বাসায় উপস্থিত হন। এপর্যন্ত ৩৩৬ টি কন্যা শিশু পরিবারকে পুলিশ সুপারের শুভেচ্ছা উপহার পৌছে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সুপারের এই ব্যতিক্রমী কর্মকান্ডের প্রশংসা এখন স্থানীয় জনসাধারণের মুখে মুখে। কন্যা সন্তান জন্ম নেওয়ার কারনে সংসারে কলহ সৃষ্টি ও পারিবারিক অসন্তোষ দেখা যায়। পুলিশ সুপারের এই মহতী উদ্যোগ হতে পারে সমাজের ঐ সকল পরিবারের জন্য ইতিবাচক বার্তা।
পুলিশ সুপার চুয়াডাঙ্গা বলেন, দেশের মোট জনগোষ্ঠির অর্ধেক নারী। এই বিপুল সংখ্যাক নারী পিছিয়ে থাকলে সামগ্রিক উন্নয়ন অসম্ভব। তিনি চুয়াডাঙ্গার সর্বস্তরের জনসাধারণের কাছে আইন শৃংঙ্খলা রক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, নারী ও শিশু নির্যতান প্রতিরোধ এবং লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরনে সহযোগিতা কামনা করেন।

Share your love