সবার নিবন্ধন এখনই নয়

অনেকেই সুরক্ষা নামের ওয়েবসাইটে গিয়ে নিবন্ধনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সবার সুযোগ পেতে অপেক্ষা করতে হবে।

করোনার টিকা দেওয়ার জন্য সরকার ১৯টি শ্রেণির মানুষের অগ্রাধিকার তালিকা তৈরি করেছে। আপনার বয়স যদি ৫৫ বছর বা তার বেশি হয়, তাহলে আপনি সুরক্ষা নামের ওয়েবসাইটে গিয়ে টিকার জন্য এখনই নিবন্ধন করে ফেলতে পারবেন।

তবে ৫৫ বছরের কম বয়সীদের পেশা অগ্রাধিকার তালিকায় থাকলেও এখনই নিবন্ধন করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তির নাম স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে থাকতে হবে। এই নাম পাঠাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রতিষ্ঠান, সংগঠন বা কর্তৃপক্ষ।

দেশে গত বুধবার থেকে করোনাভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। সরকার বলছে, টিকা পেতে হলে প্রথম ধাপে অগ্রাধিকার তালিকার আগ্রহী ব্যক্তিদের নিবন্ধন করতে হবে ‘সুরক্ষা’ নামক ওয়েব পোর্টালে (www.surokkha.gov.bd)। বুধবারই ওয়েবসাইটটি চালু হয়। এরপর থেকে অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা পেশার ব্যক্তিদের অনেকে এতে নিবন্ধনের চেষ্টা চালাচ্ছেন। তেমনই তিনজন ব্যক্তি প্রথম আলোকে জানান, নিবন্ধন করতে গিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর এবং জন্মতারিখসহ ওই পাতার তথ্য দেওয়ার পর বলা হয়, ‘দুঃখিত, বর্তমানে শুধু মনোনীত সম্মুখসারির করোনা যোদ্ধা ও ৫৫ বা তদূর্ধ্ব বয়সীদের নিবন্ধন চলমান রয়েছে।’

সুরক্ষা ওয়েবসাইটটির কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি অধিদপ্তর। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘অগ্রাধিকার তালিকায় যাঁদের বয়স ৫৫ বছরের নিচে, তাঁদের তথ্য নিজ নিজ সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় হয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে যাবে। অধিদপ্তর তা আমাদের দিলে আমরা ওয়েবসাইটে তা অন্তর্ভুক্ত করব। এরপর তাঁরা নিবন্ধন করতে পারবেন।’

প্রতিমন্ত্রী জানান, অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের পেশা যাচাইয়ের জন্যই এ পদ্ধতি। ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৩ হাজারের বেশি নিবন্ধন হয়েছে বলে জানান তিনি।

অবশ্য অগ্রাধিকার তালিকায় যেসব পেশার মানুষ রয়েছেন, তাঁদের তথ্য যাচাই হওয়ার পরেই যে নিবন্ধন করা যাবে, তা স্পষ্ট করে সরকারি নির্দেশনার কোথাও উল্লেখ নেই। বুধবার টিকা নিয়ে সরকার বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় একটি বিজ্ঞাপন দেয়। সেখানে পেশা উল্লেখ করে বলা হয়, এর বাইরে ৫৫ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সের জনগোষ্ঠী সবাই নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন। এ ছাড়া সুরক্ষা ওয়েবসাইটেও বিষয়টি স্পষ্ট করা নেই।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র রোবেদ আমিন প্রথম আলোকে বলেন, নিবন্ধন করতে গিয়ে কিছুটা সমস্যা হয়তো হচ্ছে। ধীরে ধীরে এটা ঠিক হয়ে যাবে। ধাপে ধাপে সবাই নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন।

করোনার টিকা নিতে নিবন্ধনের জন্য একটি মুঠোফোন অ্যাপ তৈরির কথাও ছিল। সুরক্ষা নামের সাইটের ওয়েব পোর্টাল ব্যবহার সহায়িকায় গুগল প্লে স্টোর ও অ্যাপল স্টোরের সাইনও উল্লেখ আছে। তবে অ্যাপটি এখনো প্লে স্টোরে নেই। এ বিষয়ে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ বলেন, ‘অ্যাপ তৈরি আছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর চাইলেই আমরা দিয়ে দেব।’

সরকার করোনার টিকার যে অগ্রাধিকার তালিকা করেছে, তাতে ৫৫ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী নাগরিক, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনা, সম্মুখসারির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সামরিক এবং আধা সামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী, রাষ্ট্র পরিচালনার অপরিহার্য কার্যালয়ের কর্মী, সম্মুখসারির গণমাধ্যমকর্মী, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিসহ অনেকেই রয়েছেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, কয়েকটি পেশায় থাকা ব্যক্তিদের তথ্যাদি জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে সহজে যাচাই করার সুযোগ আছে। কিন্তু সব পেশার ক্ষেত্রে তা নেই। নিবন্ধনের খুঁটিনাটি মানুষকে জানাতে আরও প্রচার চালাতে হবে।

সুরক্ষা ওয়েবসাইটটি আরও সহজ হতে পারত বলে মনে করেন বিএসএমএমইউর এই অধ্যাপক। তিনি বলেন, সাইটটির কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি আছে। সেগুলো ঠিক করা দরকার। এতে প্রচুর তথ্য চাওয়া হয়েছে, যার প্রয়োজন ছিল না।

Share your love