মহামারী প্রতিরোধে প্রয়োজন সম্মেলিত প্রচেষ্টা


করোনা ভাইরাস এখন বিশ্ব মহামারী। দিন দিন বাড়ছে এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা। একইসঙ্গে মানুষের ভেতরও ছড়াচ্ছে আতঙ্ক। বিচ্ছিন্ন হচ্ছে এক দেশ থেকে আরেক দেশ।এই ভাইরাস প্রতিনিয়ত রুপ পরিবর্তন করছে নেই কোন ভালো ভেকসিন। 
গত ১৪ এপ্রিল রোজ মঙ্গলবার পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা রোগী শনাক্ত নতুন করে ২০৯ জন সহ মোট ১০১২ জন।মৃত্যু আরও ৭ জন সহ মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাড়ায় ৪৬ জন।আজ নমুনা সংগ্রহ করে ১৯০৫ জনের (তথ্যসূত্র:আইইডিসিআর)।সংক্রমণ এর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও মানছে না দেশের গ্রাম অঞ্চলের লোকজন।প্রশাসনের লোক জন যখন আসে তখন সবাই লুকিয়ে থাকে।মানুষের মাঝে আভাব সচেতনতার। 
এখনো যদি বাংলাদেশের মানুষ সচেতন না হয় তাহলে বাংলাদেশে বড় রকমের মহামারী আকার ধারণ করার আশংকা করা যাচ্ছে। জনবহুল এই দেশে কেবল আমরাই পারি সচেতনতার মাধ্যমে এই মহামারী থেকে রক্ষা পেতে।
গ্রামের মানুষের কাছে জিজ্ঞেস করলে তারা বলেন,আমরা যদি ঘরে থাকি আমাদের খাবার দিবে কে?নিম্মবিত্ত গরীব প্রতিদিন যারা দিন আনে দিন খাই (রিক্সাওয়ালা,শ্রমিক, ভিক্ষুক)এই শ্রেণির লোক জনের অন্য না খেয়ে থাকতে হয়।আর মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ মুখের ভাষা প্রকাশ করতে পারছে না ভিতর জ্বলছে। অনেকের মুখের ভাষা যখন হবে রোগ তখন দেখা যাবে, আর এই রকম (হাঁচি, কাশি,জ্বর) আগে থেকেই নতুন কোন রোগ নয়।
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা কিংবা বিভিন্ন বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত নতুন এই ভাইরাসটি সম্পর্কে যতটুকু যা তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে এতটুকু বলা যায়- মাস্ক পরার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে কেবল আক্রান্ত ব্যক্তির৷ যার দেহে এই ভাইরাস ঢুকেছে, সে যাতে হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে সেটা অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে না পারে, সে জন্যই এই মাস্ক৷ কিন্তু বাংলাদেশে কি এরই মধ্যে বিপুল সংখ্যক মানুষ কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়েছে? এখন (১২ মার্চ) পর্যন্ত মাত্র তিনজন আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে৷ এরা আবার ভালোও হয়ে গেছে৷ এটা অবশ্য সরকারি হিসাব৷ তবে বেসরকারি হিসাব এরচেয়ে বেশি কিছু হবে বলে মনে হয় না৷ কারণ কেউ আক্রান্ত হলে কিংবা কেউ মরে গেলে, দেশে রোগটি নিয়ে এখন যে আতঙ্ক, তাতে খুব সহজে তা গোপন করা যাবে বলে মনে হয় না৷ 
রোগী নেই, তাহলে মাস্ক পরার এই হুজুগটা কেন? এর একটাই কারণ, আর সেটা হচ্ছে অজ্ঞতা৷ দেশের অধিকাংশ মানুষ এখনো জানেই না, এই রোগটা আসলে কি? কেন হয়, কিভাবে হয়, হলে কি করতে হয়? তবে মুখে মুখে যে বিষয়টা খুবই ছড়িয়ে পড়েছে, সেটা হচ্ছে- এ রোগের কোন প্রতিষেধক নেই, এ রোগের কোন চিকিৎসাও নেই৷ আর এ কারণেই প্রবল আতঙ্ক৷ আতঙ্কটা হয়তো অমূলক নয়, কিন্তু তাই বলে কি এর কারণে আমাদের জীবনযাত্রাই পাল্টে যাবে? মানুষ কি তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যহত করে ঘরে বসে থাকবে? তাতো আর সম্ভব নয়৷ গরীব দেশের ততোধিক গরীব মানুষ আমরা৷ দিন আনি, দিন খাই৷ একদিন বের না হলে সংসার চলবে কি করে৷ আতঙ্কের কারণে ক্ষুধা তো আর থেমে থাকবে না৷ তখন কি সরকার এই গরীব মানুষদের রুটি-রুজিতে কোন সাহায্য করবে? নাকি কিভাবে কনুই তুলে হাঁচি কাশি দিতে হবে, তা দেখানোর মাধ্যমেই মন্ত্রীগণ তাদের দায়িত্ব সারবেন? 
করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯ নতুন রোগ৷ আবার এমনও নয়, এটা কোন মৌসুমী রোগ, দিন কতক পরেই চলে যাবে৷ একবার যখন এসেছে, হয়তো থেকেই যাবে৷ মানুষ চেষ্টা করছে, হয়তো একে নিয়ন্ত্রণের উপায়ও খুঁজে পাবে৷ কিন্তু রোগটি শিগগিরই চলে যাবে বলে মনে হয় না৷ এইচআইভি, সার্স, ইবোলা, ইনফ্লুয়েঞ্জা, ডেঙ্গু- এই সব ভাইরাসের মতো এটিও হয়তো থেকে যাবে৷ আবার কে জানে, হয়তো স্মলপক্স ভাইরাসের মতো এটিকেও নির্মূল করা সম্ভব হবে৷ এ সবই ভবিষ্যতের কথা৷ কিন্তু বর্তমানের আতঙ্ককে দূর করবেন কি করে? আসলে আতঙ্ক একেবারে দূর হওয়ার নয়, সে চেষ্টাতে যাওয়ারও কোন দরকার নেই৷ বরং চেষ্টা থাকা দরকার আতঙ্ককে নিয়ন্ত্রণের, অপ্রয়োজনীয় আতংককে পরিহারের৷ বাড়তি আতঙ্ক কোন কাজের বিষয় নয়, তা স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ক্ষতিগ্রস্থ করে৷ আর সে জন্যই দরকার সচেতনতার৷ জানা থাকা দরকার- কাকে আমরা ভয় পাচ্ছি, এ থেকে বাঁচতে কি আমরা করতে পারি৷ অথবা নতুন এই শত্রুকে আসলে কতটা ভয় পাওয়া দরকার৷ 
করোনা নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার ১০ কারণকরোনা ভাইরাস সম্পর্কে আমরা জানি1 | 10 Show Caption এই যে প্রত্যাশিত সচেতনতা, সেটা কিন্তু ততটা নেই সাধারণ মানুষের মধ্যে৷ নেই কেন? নেই এ কারণে যে, সঠিক তথ্যগুলো মানুষের মধ্যে সেভাবে ছড়িয়ে দেওয়া যায়নি৷ দায়িত্বটা প্রধানত সরকারের৷ সরকার সে কাজটি সেভাবে করতে পারেনি৷ সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের একটা শাখা অবশ্য প্রায় প্রতিদিনই সংবাদ সম্মেলন করেছে৷ সে খবর পত্রিকাগুলোতে প্রকাশিতও হয়েছে৷ কিন্তু দেশের কতজন মানুষ এখন নিয়মিত পত্রিকা পড়েন? টেলিভিশনেও টুকটাক দেখাচ্ছে৷ কিন্তু বিশ্বাসহীনতার কারণে টিভি সংবাদের প্রতিও তো মানুষের ততটা আগ্রহ আর নেই৷ এর চেয়ে কয়েকগুণ বেশি মানুষ সম্পৃক্ত থাকেন সোশ্যাল মিডিয়াতে৷ এখানে সরকারী উদ্যোগে নিয়মিত সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন থাকতে পারতো৷ অথবা প্রতিদিন মোবাইলে করোনা ভাইরাস বিষয়ক বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য দেয়া যেত৷ প্রচলিত পদ্ধতির প্রচারের চেয়ে অনেক কম খরচেই এটা করা সম্ভব হতো৷ ডিজিটাল বাংলাদেশের এনালগ আমলাতন্ত্র এসব পদ্ধতির কথা ভাবছে না৷
সরকার হটলাইন অবশ্য চালু করেছে৷ কিন্তু সেটা কোন শর্টকোডের মাধ্যমে হয়নি৷ বাংললিংকের গোটা কয়েক প্রচলিত নাম্বার দেওয়া হয়েছে৷ প্রথমে ছিল মাত্র চারটা নাম্বার, পরে নাকি আরও গোটা বার নাম্বার দেওয়া হয়েছে৷ ষোল কোটি মানুষের জন্য ১৬টি নাম্বার! একটা বেশিই কম হয়ে গেল না কি? ফলে কেউ ফোন করলে বেশিরভাগ সময়ই এনগেজড পাচ্ছেন৷ গণমানুষের মধ্যে প্রত্যাশিত সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকারি এমন উদ্যোগকে অপ্রতুল বলাই যায়৷ অথচ এই মুহূর্তে সরকারের তো এটাই প্রধানতম দায়িত্ব ছিল৷ কোভিড-১৯ এর কোন প্রতিষেধক নেই, তাই আগে থেকে যে নাগরিকদের ভ্যাকসিন দেয়া হবে- সে সুযোগ নেই৷ এর কোন চিকিৎসা জানা নেই, তাই রোগটির াাাঅূ শুরু হলে যে চিকিৎসা দেওয়া হবে, তার পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে রাখারও কোন প্রশ্ন ওঠছে না৷ তাহলে এই মুহূর্তে করণীয় কি? করণীয় একটাই, তা হচ্ছে- সকল স্তরের মানুষের মধ্যে নতুন এই রোগটি সম্পর্কে পর্যাপ্ত সচেতনতা তৈরি করা৷ মানুষ যেন জানতে পারে তাকে কি করতে হবে, আর কি করা যাবে না৷ সেটা কি হচ্ছে? না, হচ্ছে না৷ যদি হতো তাহলে আর সব মানুষ পাগলের মতো মাস্কের পিছনে দৌড়াতো না৷ সাবান দিয়ে হাত ধুলেই যেখানে চলে, সেখানে তিনচারগুণ দাম দিয়ে হ্যান্ড স্যানিটাইজার কেনার জন্য মারামারি করতো না৷
উল্লেখ্য;সরকার দেওয়া সকল সহায়তা যদি আমারা প্রতিটি মানুষের মধ্যে তাদের হাতে হাতে পৌঁছিয়ে দেয় তাহলে মানুষ না খেয়ে থাকার কথা না।কিন্তু সরকারের কিছু অসাধু নেতা,ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, সমাজের কিছু অসাধু নরপশু এই মহামারী দিনেও তারা চাল চুরি, অর্থ চুরি করে নির্লজ্জ মানুষ।এদের নেই কোন মানবতা এদের কবে বুঝ হবে জানা নেই। এই মহামারীতে কষ্ট হলেও আমারা প্রত্যেকেই নিজ বাড়িতে, নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করি।কারণ, এই মহামারী থেকে রক্ষা পেতে আমাদের প্রয়োজন সম্মেলিত ভাবে প্রতিরোধ করা সরকার এর একার পক্ষে সম্ভব না।আর সরকারের প্রয়োজন সকল সংগঠন গুলো তাদের অবস্থান থেকে সহায়তা করার সুযোগ করে দেওয়া।আর সকল বিষয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা।

মো ফাহাদ বিন সাঈদ, শিক্ষার্থী: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় সদস্য:জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি।

Share your love