করোনা প্রতিরোধে লাল পোশাকে মানুষের দারে সেবা প্রদান মাগুরা জেলা মহম্মাদপুর থানা

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে মাগুরার মহম্মদপুরের একটি সামাজিক সংগঠন হোপ অফ মহম্মদপুর। করোনাভাইরাস মোকাবেলায় দিন-রাত শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন লাল রঙের পোশাক পরা স্বেচ্ছাসেবীরা। গত ১০ দিন ধরে নিজ উদ্যেগে এলাকায় জীবাণুনাশক স্প্রে করাসহ করোনাভাইরাস নির্মূলে নানা উদ্যোগ হাতে নিয়েছেন এসব স্বেচ্ছাসেবী। তাদরে অক্লান্ত পরিশ্রমের কারনে মহম্মদপুরের সাধারন মানুষের কাছে একটি পরিচিত নাম হোপ অফ মহম্মদপুর। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও এদের কর্মের ছবি প্রতিদিন আপডেট করা হয় যার ফলে এরা ফেসবুকেও অনেক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। করোনার কাছে নিজেদের বিলিয়ে দিয়ে সাধারণ মানুষের সেবায় দিনরাত ব্যস্ত সংগঠনটির সদস্যরা। নিজেরা লাল লংয়ের পোশাক ব্যবহার করে উপজেলার সব বাজারে নিজেদের উদ্দ্যেগে সচেতনতা মূলক লিফলেট বিতরণ, দোকানে সামনে গোলাকার করে সৃষ্টি করে সামাজিক দূরত্ব, ঘরে আটকে থাকা দরিদ্র দিনমজুরের বাড়িতে বাড়িতে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সাবান, খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন সংগঠনটি। গত এক সপ্তাহ ধরে সংগঠনটি এ সব কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।

loading…

সংগঠন সূত্রে জানা যায়, মরন ঘাতক করোনা প্রতিরোধে যে কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহন করে আমরা সাধারণ মানুষের সেবা দিতে প্রস্তুত আছি। তারা নিজেদের উদ্দ্যেগে সংগঠনের মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ১০০ দরিদ্র পরিবারের হাতে ৩ কেজি চাল, ডাল, তেল, পেয়াজ খাদ্য সামগ্রী তুলে দিয়েছে সংগঠনটি। খাদ্য সামগ্রী পেয়ে ঘরবন্দি মানুষ মুখে হাসি ফুটে উঠে। এছাড়াও বিভিন্ন বাজারে হাত পরিষ্কারের জন্য ৮টি ড্রাম দিয়েছে, দরিদ্রদের মাঝে ১ হাজার মাস্ক, ২ শত হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সাবান ও সচেতনামূলক লিফলেট বিতরণ করেছে । ১৫ সদস্য বিশিষ্টি সংগঠনটি তারা কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়ে হ্যান্ড মাইক নিয়ে বিভিন্ন বাজারসহ কমপক্ষে ৫০টি গ্রামে সচেতনতামূলক প্রচারণা করেছে এবং অব্যাহত রেখেছে। এ ছাড়াও বিভিন্ন দোকানের সামনে গোলাকার করে সৃষ্টি করে সামাজিক দূরত্ব সৃষ্টি করেছে।

খাদ্য সামগ্রী পেয়ে চা দোকানদার সাহেব আলী বলেন, কয়েকদিন কাজ করতে না পেরে ঘরে কোন খাবার নেই টাকাও নেই। এই প্রথম কোনো চাল-ডাল খাদ্য সামগ্রী পেলাম হোপ অফ মহম্মদপুর নামের একটি সামাজিক সংগঠনের কাছ থেকে। আমরা সংগঠনটির সদস্যদের জন্য দোয়া করি।

মহম্মদপুর বাজারের ঔষুধ ব্যবসায়ী বলেন, করোন প্রতিরোধে সামাজিক সংগঠন হোপ অফ মহম্মদপুর শুরু থেকে যে ভাবে তারা সচেতনতা মূলক কাজ করছে তা নজিরবীহিন। তাদেরকে যদি বিত্ত্ববানরা সহযোগীতা করতো তাহলে তাদের কাজের গতি আরও বাড়ানো সম্ভব হতো বলে আমি মনে করি। দেশের এ মূহুর্তে প্রত্যেক সংগঠন হোপ অফ মহম্মদপুরের মতো মানুষের পাশে দাড়ানো উচিত।

সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান রেজোয়ান আহম্মেদ রোজেল বলেন, ‘সংগঠনের পক্ষ থেকে আমরা আমাদের সাধ্যমতো করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বিভিন্ন কার্যক্রম করে আসছি এবং চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। আমাদের মূল উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি ভাইরাস প্রতিরোধে কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া এবং জনগনরকে সহায়তা করা।

Share your love