চুয়াডাংগা জেলার দামুড়হুদা থেকে শিয়ালমারী হাটে যাওয়ার সময় নিখোঁজ তাহাজ্জেলকে ঝিনাইদহ হাসপাতাল থেকে উদ্ধার

মো:তারিকুর রহমান চুয়াডাংগা: চুয়াডাংগা জেলার দামুড়হুদা থেকে বাসযোগে শিয়ালমারী পশুহাটে যাওয়ার সময় নিখোঁজ ভাটা শ্রমিক তাহাজ্জেল হোসেনের সন্ধ্যান মিলেছে। গতকাল শুক্রবার তাকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক নয়। তাকে বর্তমানে বাড়িতে এনে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। খোয়া গেছে তার কাছে থাকা নগদ আশি হাজার টাকা ও ব্যবহৃত মোবাইলফোন। অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা তাকে কৌশলে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ হবে এমন আচার খাইয়ে তাকে অজ্ঞান করে বলে জানিয়েছেন ভূক্তভোগি তাহাজ্জেল হোসেন। তবে তিনি বর্তমানে শঙ্কামুক্ত।
 উল্লেখ্য, দামুড়হুদা বেগোপাড়ার ইটভাটা শ্রমিক তাহাজ্জেল হোসেন (৪০) বৃহস্পতিবার বেলা আড়াই টার দিকে প্রতিবেশী রমজান মন্ডলের ছেলে আক্কাচ আলীকে সাথে নিয়ে শিয়ালমারি পশুহাট থেকে গরু কেনার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। তারা দুজনেই দামুড়হুদা ব্র্যাকমোড় থেকে একইবাসে উঠেন। ভূক্তভোগি তাহাজ্জেল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন, বাসটি দামুড়হুদা বাসস্ট্যান্ডে পৌছুলে একজন ছিট ছেড়ে বসতে দেয়। আমি যে ছিটে বসেছিলাম ওই ছিটেই বসা অফর এক যাত্রি আমাকে বলে, আমরা কোম্পানির লোক। করোনা ভাইরাসের ওষুধ বিক্রি করি। এক প্যাকেটের দাম দেড়শো টাকা। আগে টাকা দেয়া লাগবেনা। যদি কাজ হয় তাহলে আপনি মোবাইলফোনে যোগাযোগ করে বিকাশে টাকা পাঠিয়ে দেবেন। এ কথা বলার পর আমাকে এক প্যাকেট আচার দেয়। আমি কিছুক্ষন পর ওই আচার খাই। আচার খাওয়ার পর আমাকে পানি খেতে দেয়। এরপর আমার ঘুম ঘুম ভাব আসে। তবে আমার কাছে টাকা আছে এবং শিয়ালমারি থেকে গরু কিনতে হবে এটা খেয়াল ছিলো। বাসটি শিয়ালমারি পশুহাটের নিকট পৌছুলে আমি নামবো বলে চিৎকারও করি। তখন আমার পাশে বসে থাকা যাত্রি বলে এখনও দেরী আছে। এরপর আমার আর জ্ঞান ছিলোনা। বাস কালিগজ্ঞে পৌছে আমাকে নামিয়ে দেয়। আমি রাস্তার পাশেই বসে ছিলাম। পরে আমি দেখি আমার প্যান্টের পকেটে থাকা টাকাগুলো নেই। আমি তখন আমার সাথে যাওয়া আক্কাচ আলীকে খুঁজতে থাকি। এক পর্যায়ে আমি আবার অস্বুস্থ্য হয়ে পড়ি। পরিবারের লোকজন জানান, আমরা বৃহস্পতিবার তাকে খুজতে কালিগঞ্জে গিয়েছিলাম। কিন্ত খুজে না পেয়ে বাড়ি ফিরে আসি। গতকাল শুক্রবার আবারও মাইক্রোযোগে কালিগঞ্জে যায়। ওখানে যাওয়ার পর এক পর্যায়ে জানতে পারি সোহেল নামের একজন তাকে রাস্তার পাশ থেকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। আমরা দেরি না করে তাৎক্ষনিক ঝিনাইদহ সদর হাসপাতলে যায় এবং চিকিৎসকের সাথে কথা বলে তাকে বাড়ি নিয়ে আসা হয়।

Share your love