করোনায় আতঙ্ক নয় আসুন সচেতন হই।

জয়ন্ত সাহা যতন,সুন্দরগঞ্জ(গাইবান্ধা)প্রতিনিধি:
সর্দি-কাশি মানেই করোনার সংক্রমন নয়। বাংলাদেশসহ উত্তর গোলার্ধের অন্যান্য এলাকায় এই সময়টায় এমনিতেই সর্দি-কাশির (সাধারণ ফ্লু) প্রাদুর্ভাব থাকে। তাই, করোনা ভাইরাসের সংক্রমনের সাথে অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণ ফ্লু-কে মিলিয়ে ফেলার সম্ভাবনা থাকে। আবার, বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের প্রায় ৮০ শতাংশ কোনো বিশেষ চিকিৎসা ছাড়াই সুস্থ হন।
কোভিড-১৯ এর লক্ষণ কী?আক্রান্ত ব্যক্তির সাধারণত জ্বর, ক্লান্তি এবং শুকনো কাশি দেখা দেয়। কারো কারো ক্ষেত্রে গায়ে ব্যথা, নাক বন্ধ, নাক দিয়ে পানি পড়া, গলা ব্যথা বা ডায়রিয়াও হতে পারে। এসব লক্ষণ শুরুতে খুব হালকা মাত্রায় দেখা যেতে পারে যা পরে ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। আবার কারো কারো ক্ষেত্রে কোনো লক্ষণ নাও দেখা যেতে পারে।করোনাভাইরাস কীভাবে ছড়ায়?আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি বা কাশির সাথে বেরিয়ে আসা অনুকণার মধ্যে এই ভাইরাস থাকে। সুস্থ কোনো ব্যক্তি আক্রান্ত ব্যক্তির খুব কাছ থেকে (তিন ফুটের মধ্যে) নিঃশ্বাসের সাথে এই অনুকণা গ্রহণ করলে ভাইরাস তার শরীরে প্রবেশ করে। এছাড়া, আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি বা কাশির পর তার আশপাশের জিনিসপত্রের উপরিভাগে ভাইরাস সম্বলিত এই অনুকণা পতিত হয়। সুস্থ ব্যক্তি খালি হাতে সেই স্থান স্পর্শ করলে তার হাতে ভাইরাস লেগে যায়। পরে, যখন তিনি সেই হাত দিয়ে তার নাক, মুখ ও চোখ স্পর্শ করেন ভাইরাসটি তার শরীরে প্রবেশ করে।করোনাভাইরাসের সংক্রমন থেকে নিরাপদ থাকার উপায়👇👉 সাবান ও পানি দিয়ে ঘন ঘন ও খুব ভালোভাবে হাতের উভয় পাশ কবজি পর্যন্ত ধোয়া।👉সাবান ও পানি ব্যবহারের সুযোগ না থাকলে হাত ধোয়ার ক্ষেত্রে ভালো মানের স্যানিটাইজার ব্যবহার করা।👉 হাত না ধুয়ে খালি হাতে নাক, মুখ ও চোখ স্পর্শ না করা। আবশ্যিক না হলে নাক, মুখ ও চোখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকা।👉হ্যাঁচি বা কাশি দেয়ার সময় যিনি হ্যাঁচি বা কাশি দিচ্ছেন তার থেকে কমপক্ষে তিন ফুট দূরে থাকা।👉 নিজে হঁাঁচি বা কাশি দেয়ার সময় টিসুযুক্ত দিয়ে বা কনুই ভঁাঁজ করে নাকমুখ ঢাকা এবং ব্যবহৃত টিস্্ুযটি তাৎক্ষনিকভাবে ঢাকনাযুক্ত ময়লার ঝুড়িতে ফেলা।👉 শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় হ্যান্ডশেক বা আলিঙ্গন করা থেকে বিরত থাকা।👉 গণপরিবহন ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা ও বিশেষ প্রয়োজন ব্যতীত গণসমাগমস্থলে গমণ সীমিত রাখা।👉 অসুস্থতা বোধ করলে বাড়িতে অবস্থান করা। জ্বর ও কাশির সাথে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হও।করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে,নিজের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে যা যা করবেনঃ১. ধূমপান বাদ দিন।২. অ্যালকোহল পান করবেন না।৩. প্রতিদিন গোসল করুন। সম্ভব হলে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান কিংবা বডিওয়াস (ডেটল, লাইফবয়) ব্যবহার করুন।৪. ঠাণ্ডা-জাতীয় খাবার থেকে দূরে থাকুন যেমন : আইসক্রিম, কোল্ড ড্রিঙ্কস, জুস।৫. ভিটামিন সি যুক্ত খাবার/ফল খান। যেমন : অরেঞ্জ জুস, লেবু।৬. সূর্যের আলো ত্বকে নিন। (ভিটামিন ডি)৭. ঘনঘন হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধুয়ে নিন।৮. ভালভাবে সেদ্ধ করা খাবার খান। যেমন : ডিম, মুরগির মাংস।৯. অ্যাজমা, ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণে রাখুন।১০. আদা চা, তুলশী চা, মধু ইত্যাদি পান করুন।১১. ইয়োগা বা ব্যায়াম করুন।করোনা ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম। এটা সবাইকে আক্রমণ করতে পারলেও সবার মৃত্যু ঘটাতে পারবে না। আপনার শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা আপনাকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাতে পারে। তাই আক্রান্ত হওয়ার আগেই সতর্ক হোন। জনসমাগম এড়িয়ে চলুন, বাসায় থাকুন। 

Share your love