মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় যৌতুকের বলি গৃহবধূ, শ্বশুর শাশুড়িসহ আটক।

মৌলভীবাজার জেলা থেকেঃ দরিদ্র পরিবারের মেয়ে নাছিমা বেগম (২৩)। প্রায় তিন বছর পূর্বে বিয়ে হয় তার। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের টাকার জন্য শ্বশুরবাড়ির লোকজন কর্তৃক নাছিমার ওপর চলতো অমানবিক নির্যাতন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে চলছিলো অনেক সালিশ বৈঠক। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি বরং শ্বশুরবাড়ির যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের শিকার হয়ে অবশেষে তাকে এই পৃথিবী থেকে চলে যেতে হয়েছে। ঘটনাটি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়নের ডরিতাজপুর গ্রামে ঘটেছে বলে জানা যায়।
গত মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন গৃহবধূ নাছিমা বেগম। এ ঘটনায় নিহতের ভাই থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শ্বশুর শাশুড়িসহ ৪ জনকে আটক করেছে কুলাউড়া থানা পুলিশ। পলাতক রয়েছে গৃহবধূর স্বামী জুয়েল মিয়া।
থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ ও নিহত গৃহবধূর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়নের ডরিতাজপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. লাল মিয়ার মেয়ে নাছিমা বেগমের সাথে একই ইউনিয়নের পাল্লাকান্দি গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে জুয়েল মিয়ার বিয়ে হয় প্রায় ৩ বছর পূর্বে। বিয়ের পর থেকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন প্রায়শই যৌতুকের টাকার জন্য তাঁর ওপর অমানবিক নির্যাতন চালাতো। দুই লক্ষ টাকা যৌতুকের বায়না ছিল সবসময়ই। এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলে কিছুদিন ভালভাবে চলছিলো তাদের সংসার।কিন্তু এরপর আবারো যৌতুকের দুই লক্ষ টাকার জন্য চলে শারীরিক নির্যাতন। নাছিমার পরিবার দরিদ্র হওয়ায় যৌতুকের টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। তখন স্বামী জুয়েল মিয়া ও তাঁর পরিবার তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠেন। যৌতুকের টাকা না পাওয়া প্রচণ্ড ক্ষোভে ৮ মার্চ মধ্যরাতে বসত বাড়িতে তার ওপর চলে অমানুষিক নির্যাতন ও অত্যাচার। নাছিমার তলপেটে লাথি ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে তাকে ঘর থেকে বের করে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এবং হুমকি প্রদান করে যে, যৌতুকের টাকা না দিলে তাকে নিয়ে সংসার করবে না স্বামী জুয়েল। ঘটনাটি স্থানীয়দের কাছ থেকে শুনে নাছিমার বাবার বাড়ির লোকজন এসে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলে মঙ্গলবার ফের তাঁর ওপর নির্যাতন চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থান মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৪টায় গৃহবধূ নাছিমার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় রাতেই নাছিমা বেগমের বড়ভাই মনসুর আলী ৬ জন আসামী করে থানায় একটি হত্যা মামলা (নং ০৫, তারিখ- ১১/০৩/২০) দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর ভোররাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার অন্যতম আসামী ও নিহত গৃহবধূর শ্বশুড় তৈয়ব আলী, দেবর আসুক মিয়া, শাশুড়ি আমেনা বেগম ও খালা শাশুড়ি ছমিনা বেগমকে আটক করে।
এ ব্যাপারে কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইয়ারদৌস হাসান জানান, এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে থানায় মামলা করলে ৪জনকে আটক করে বুধবার জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামীদের ধরতে পুলিশ অভিযানে রয়েছে।

Share your love