বাড়ছে ডেঙ্গু , প্রয়োজন সচেতনতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

বর্ষা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ডেঙ্গুবাহী মশা। আর ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীও বাড়তে শুরু করেছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর স্বজনদের অভিযোগের তীর নগর কর্তৃপক্ষের দিকে; এদিকে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের আন্তরিকতার অভাব নেই, তবে রয়েছে সীমাবদ্ধতা। আর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৃষ্টির প্রকোপ বাড়ায় এডিস মশার বংশবৃদ্ধির কারণে ডেঙ্গু বেড়েছে। ফলে ডেঙ্গুবাহী মশা থেকে রেহাই পেতে প্রয়োজন সচেতনা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার তথ্য অনুযায়ী, এ বছর গত ১৫ জুন পর্যন্ত ৪৮৬ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছিল, যাদের মধ্যে দুজন মারা যান। কিন্তু ১৫ জুনের পর দুই দিনে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৭২ জন বেড়ে যায়।

এ সংখ্যা ২০১৮ সালের একই সময়ের চেয়ে বেশি। ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৪২৮ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন ডেঙ্গুতে। মারা গিয়েছিলেন তিনজন।

জুন মাসের শুরু থেকেই ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার কর্মকর্তারা; আক্রান্তদের প্রায় সবাই ঢাকার।

রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক ডা. সামিয়া তাহমিনা বলেন, বর্ষা এডিস মশা বিস্তারের উপযোগী সময়। এ কারণে এ সময় বেশি আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ।

এবার এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার পরিমাণ গত বারের চেয়ে বেশি। প্রচণ্ড গরমের পর এখন বাতাসে আর্দ্রতা বেড়েছে। জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে মশা ডিম পাড়ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ডিম ফুটে বাচ্চা খুব দ্রুত বের হচ্ছে।

এর আগে রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা গত ৩ থেকে ১২ মার্চ ১০ দিন মশার উৎস নিয়ে একটি জরিপ চালিয়েছিল। তখন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার ৯৭টি ওয়ার্ডের ১০০টি স্থানের ৯৯৮টি বাড়ি পরিদর্শন করে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। ওই জরিপে ডিএসসিসির ৮০ নম্বর ওয়ার্ডে এডিস মশার লার্ভার ঘনত্বের সূচক বা বিআই (ব্রুটাল ইনডেক্স) সবচেয়ে বেশি ৮০ পাওয়া গিয়েছিল।

হাতিরঝিল এলাকার দুপাশে দুই সিটি করপোরেশনেরই কয়েকটি ওয়ার্ড পড়েছে। সেসব এলাকায় এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব বেশি পাওয়ার কথা জানিয়েছিল রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা।

বর্ষায় এডিস মশার উপদ্রব বাড়তে পারে বলেও তখন সতর্ক করেছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। সেই শঙ্কার বাস্তব রূপ নিয়েছে জুনের শুরুতেই।

হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় তারা আলাদা একটি ওয়ার্ড খুলেছেন।

হাসপাতাল কর্মকর্তারা জানান, গত শনিবার একদিনেই নয়জন শিশু ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়। সোমবার সেখানে চিকিৎসা নিচ্ছিল সাতটি শিশু।

ডেঙ্গু এবার আগের চেয়ে মারাত্মক হয়ে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এল ই ফাতমী।

দ্য ওয়ার্ল্ডবিডি/ঢাকা/কেএ 

Share On