ছায়া বাজেট’ দেয়নি বিএনপি, প্রতিক্রিয়া শুক্রবার

নিজস্ব প্রতিবেদক: এবার সংসদের বাইরে কোনো বিকল্প বাজেট কিংবা ‘ছায়া বাজেট’ পেশ করেনি রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। দলীয়ভাবে বাজেট বক্তৃতা পর্যবেক্ষণ ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়াও দেবে না দলটি। তবে শুক্রবার (১৪ জুন) দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

জাতীয় সংসদে বাজেট পেশের আগে প্রধান বিরোধীদল হিসেবে বিএনপি তাদের বাজেট ভাবনা নিয়ে ‘ছায়া বাজেট’ নামে বিকল্প প্রস্তাব তুলে ধরতো। রাজধানীর অভিজাত কোনো হোটেলে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দেশি-বিদেশি সাংবাদিক এবং সুধীজনদের উপস্থিতিতে ঘোষণা করতেন বিএনপির ‘ছায়া বাজেট’।

কিন্তু ২০১৪ সাল থেকে এই ‘ছায়া বাজেট’ দেওয়া বন্ধ রেখেছে বিএনপি। ওই বছর ৫ জানুয়ারি নির্বাচন বয়কট করে সংসদের বাইরে চলে যায় দলটি। সংসদকেও তারা ‘অবৈধ’ আখ্যা দেয়। অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতা দলীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও প্রতিক্রিয়া জানানো থেকেও বিরত থাকে দলটি। এ অবস্থান থেকে এখনো সরেনি তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ২০১৪ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত এই পাঁচ বছর সংসদে বিএনপির প্রতিনিধিত্ব না থাকায় বিকল্প বাজেট বা ছায়া বাজেট দেওয়া থেকে বিরত থাকে দলটি। কিন্তু এবার সংসদে প্রতিনিধিত্ব থাকলেও খালেদা জিয়া কারাগারে থাকায় ছায়া বাজেটের বিষয়টি সেভাবে চিন্তা করেনি দলটি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার আমাদের কোনো ভাবনা, পরামর্শ, পর্যবেক্ষণ গ্রহণ করে না। অযথা এ নিয়ে কথা বলে লাভ কী? সে কারণে আমরা বিকল্প বাজেট ভাবনা দেওয়া থেকে বিরত আছি। তবে শুক্রবার বাজেট প্রতিক্রিয়া জানাবে বিএনপি।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বিএনপি এবার বাজেট প্রস্তাবনা তৈরি করেনি। এর কারণও পরিষ্কার। এ সরকার কারও যুক্তি-পরামর্শ গ্রহণ করে না। একেবারেই স্বৈরাচারী কায়দায় সব কিছু করে। সেখানে বিকল্প বাজেট ভাবনা দিয়ে কী হবে?’

সংসদের বাইরে সর্বশেষ ২০১৩ সালে বাজেটের আগের দিন হোটেল শেরাটনে বাজেট ভাবনা নিয়ে বিকল্প প্রস্তাব তুলে ধরে বিএনপি। সেবার খালেদা জিয়া বলেছিলেন, এ বছর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি গত বছরের চেয়ে আরও বেশি সংকটাপন্ন হয়েছে।

সে জন্য দারিদ্র্যতা দূর করতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর মতো বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার প্রস্তাব করেন তিনি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সময়ের ব্যবধানে খালেদা জিয়ার সেই প্রস্তাবের অনেক কিছুই বাস্তবায়ন হয়েছে বাংলাদেশে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বালানি সরবরাহ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বাড়ানোসহ সব ক্ষেত্রেই এগিয়েছে বাংলাদেশ। বাজেটের কলেবর বেড়েছে বহুগুণ। 

কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে খালেদা জিয়া এখন কারাগারে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নির্বাসনে। আর নীতিনির্ধরকরা সব সময় ভোগেন সিদ্ধান্তহীনতায়। লন্ডনের সবুজ সংকেত ছাড়া তাদের পক্ষে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয় না। সেটা বাজেট বা যে কোনো ইস্যুই হোক।

দ্য ওয়ার্ল্ডবিডি/ঢাকা/কেএ/জেডসি

Share On