মিষ্টি খেয়ে টাকা না দেয়া সেই ওসি প্রত্যাহার

দোকান থেকে মিষ্টি খেয়ে টাকা না দেয়া, আটক করে থানায় নিয়ে উৎকোচ আদায়সহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত মেহেন্দিগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন খানকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গত বুধবার (২৭ মার্চ) বরিশালের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম তাকে মেহেন্দিগঞ্জ থানা থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করার নির্দেশ দেন।

তবে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ওসি শাহিন খান মেহেন্দীগঞ্জ থানার দায়িত্বভার ছাড়েননি। যোগাযোগ করা হলে ওসি শাহিন খান জাগো নিউজকে জানান, জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত হওয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত হওয়ার কোনো আদেশের কপি তার হাতে এসে পৌঁছায়নি। এ কারণে তিনি মেহেন্দিগঞ্জ থানার ওসির দায়িত্বভার ছাড়েননি।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, নিরীহ মানুষকে থানায় আটক করে উৎকোচ আদায়, মসজিদের ইমামকে মারধরের চেষ্টা, মা ইলিশ রক্ষা অভিযানের সময় ইগলু আইসক্রিমের ডিলারের ফ্রিজ এনে দীর্ঘদিন ওসির বাসায় রেখে মা ইলিশ সংরক্ষণ, চালের আড়ৎ থেকে বস্তাভর্তি চাল নিয়ে যাওয়া, মুদি দোকান থেকে পেঁয়াজ-রসুন নিয়ে ও মিষ্টির দোকানে মিষ্টি খেয়ে টাকা না দেয়া এবং কাজ করিয়ে শ্রমিকের টাকা না দেয়াসহ নানা অপরাধে জড়িত ওসি শাহিন খান।

এছাড়া বিনা কারণে স্থানীয় চা দোকানি আজম হাওলাদার ও তার ভাইকে মারধরসহ থানায় নিয়ে আটকে রাখা, নাশকতার মামলা দেয়ার কথা বলে টাকা আদায়, সাধারণ ডায়েরি করতে টাকা নেয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে ওসি শাহিন খানের বিরুদ্ধে।

জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওসি শাহিন খানের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী সাক্ষ্য দিয়েছেন। কেউ কেউ ওসি শাহিন খানের বিরুদ্ধে খারাপ মন্তব্য করেছেন।

স্থানীয় চা দোকানি আজম হাওলাদার, আজাদ হাওলাদার, পোলার আইক্রিমের ডিলার বাবলু, শ্রীপুরের মঞ্জু মিয়া ও মতলেব পালোয়ান জাগো নিউজকে বলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাইমুর রহমান স্যার আমাদের কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে আমরা ওসি শাহিন খানের নানা অপকর্মের কথা জানিয়েছি।

বরিশালের সহকারী পুলিশ সুপার (মেহেন্দিগঞ্জ সার্কেল) সুকুমার রায় জাগো নিউজকে বলেন, ওসি শাহিন খানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের বিষয়টির তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী সপ্তাহে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

Share On