প্রিন্স মাহমুদের জন্মদিনে প্রধান অতিথি নোবেল!

বিনোদুনিয়া প্রতিবেদক

অবশেষে জনপ্রিয় গীতিকার ও সুরকার প্রিন্স মাহমুদ ও তরুণ সঙ্গীতশিল্পী মাঈনুল আহসান নোবেলের সম্পর্কের তিক্ততা ভালোবাসায় পরিণত হলো। বুধবার (১৭ জুলাই) ছিল প্রিন্স মাহমুদের জন্মদিন। এ দিনেই দুজনের সম্পর্ক নতুন দিকে মোড় নিল। জয় হলো ভালোবাসার। প্রিন্স মাহমুদের জন্মদিনে নোবেলের উপস্থিতি সেই ভালোবাসারই চূড়ান্ত রূপ।

জন্মদিনের কয়েকটি ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিগুলো দেখে মনে হয়, প্রিন্স মাহমুদের জন্মদিনে একমাত্র অতিথিই মাঈনুল আহসান নোবেল। যেন নোবেলই প্রধান অতিথি। দুজনের এই শীতল সম্পর্ক দেখে অনেকেরই মন্তব্য, ভুল বুঝাবুঝির অবসান হয়েছে নিশ্চয়ই! একফ্রেমে দুজনের ছবি দেখে প্রিন্স মাহমুদ ও নোবেলের ভক্তরাও স্বস্তিতে।

বর্তমান সময়ের আলোচিত কণ্ঠশিল্পী মাঈনুল আহসান নোবেল। ভারতীয় টিভি চ্যানেল জি-বাংলার সঙ্গীত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সঙ্গীতপ্রেমীদের নজরে আসেন বাংলাদেশি এই তরুণ গায়ক।

আলোচনার পাশাপাশি সমালোচনাও পিছু নিয়েছে নোবেলের। গত ১৩ জুলাই গানের অনুষ্ঠান ‘সারেগামাপা’তে ‘এত কষ্ট কেনো ভালোবাসায়’ গানটি পরিবেশন করেন নোবেল। গাওয়ার আগে গানটি ব্যান্ডদল আর্ক’র বলে জানান তিনি।

১৭ জুলাই প্রিন্স মাহমুদের জন্মদিনে নোবেলের সেলফি!

কিন্তু গানটি আর্ক’র না। গুণী সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব প্রিন্স মাহমুদের কথা-সুরে ‘শেষ দেখা’ শিরোনামের মিক্সড অ্যালবামের এই গানটি গেয়েছিলেন হাসান। অ্যালবামটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৯৮ সালে।

অথচ গানের আসল মানুষটির নামই বললেন না নোবেল। হতে পারে অচেতন ভুল। কিন্তু একজন শিল্পীকে অন্যের গান গাওয়ার আগে জানা উচিত গানের নেপথ্যের কারিগরদের। মানতেই হবে ভুল করেছেন নোবেল। অথচ দুঃখ প্রকাশ করলেন প্রিন্স মাহমুদ। হ্যাঁ, নোবেলকে সরাসরি কিছু না বললেও তার ভুলের প্রতিক্রিয়ায় ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন প্রিন্স।

সেখানে প্রিন্স মাহমুদ লিখেছেন, দুঃখিত, ‘এতো কষ্ট কেন ভালোবাসায়’ আর্ক ব্যান্ড-এর গান না। এটা ১৯৯৮ সালে রিলিজ হওয়া আমার কথা ও সুরে আমার মিক্স অ্যালবাম ‘শেষ দেখা’র গান, হাসান গেয়েছিল …

প্রিন্সের এমন পোস্টের কমেন্টে অনেকেই নোবেলের তীব্র সমালোচনা করেছেন। এর আগেও একই আসরে এমন ভুল করেছেন তরুণ এই গায়ক। তবে আগের ভুলগুলোকে অনেকেই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখলেও এবারের ভুলকে মেনে দিতে পারছেন না সঙ্গীতপ্রেমীরা।

জানা গেছে, এটাই প্রথম না, আগেও দুবার ভুল করেছিলেন মাঈনুল আহসান নোবেল। তিনি সুরকার প্রিন্স মাহমুদের লেখা ও সুরারোপিত জনপ্রিয় গান গেয়েছেন। অনুষ্ঠান সম্প্রচারে উচ্চারণ করেননি মূল সুরকার ও গীতিকারের নাম। বাণিজ্যিকভাবে টেলিভিশনে ব্যবহারের পর ইউটিউবেও আপলোড হয়েছে সেই গান।

প্রিন্স মাহমুদ ও নোবেল

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল জি বাংলার গানের প্রতিযোগিতা ‘সারেগামাপা’য় একের পর এক গান গেয়ে আলোচনায় এসেছেন মাঈনুল আহসান নোবেল। এই মঞ্চে গান গেয়ে বাংলাদেশ ও ভারতে প্রচুর ভক্ত তৈরি হয়েছে তাঁর। এ জনপ্রিয়তা পাওয়ার পেছনে আছে দুই বাংলার সুপারহিট কিছু গান। ভক্তদের কাছে তিনি ‘নোবেলম্যন’ নামে পরিচিত।

জনপ্রিয় গানগুলো নতুন আয়োজনে নোবেল উপস্থাপন করেছেন ‘সারেগামাপা’র মঞ্চে। নোবেল প্রশংসা পেয়েছিলেন প্রিন্স মাহমুদের কথা ও সুরে জেমসের গাওয়া ‘বাবা’ গানটি গেয়ে। প্রতিযোগিতার শুরুর দিকে ‘বাবা’র মতো জনপ্রিয় হৃদয়গ্রাহী গানের কারণেই দ্রুত পরিচিতি পেয়েছেন নোবেল। এরপর প্রিন্স মাহমুদের কথা সুরে ‘মা’ গানটি তাঁকে আরও বেশি আলোচনায় নিয়ে আসে।

এই প্রতিযোগিতায় প্রিন্স মাহমুদের কথা ও সুরের তিনটি গান গেয়েছেন। ‘বাবা’, ‘মা’ এবং ‘এত কষ্ট কেন ভালোবাসায়’। তিনবারের একবারও গীতিকার বা সুরকার হিসেবে প্রিন্স মাহমুদের নাম উচ্চারণ করেননি তিনি।

এক প্রতিক্রিয়ায় প্রিন্স মাহমুদ বলেন, ‘একটা মানুষের সৃষ্টিকে এভাবে অপমান করা হয়, তখন কী পরিমাণ খারাপ লাগে, এটা এদের মতো নবীন অবুঝেরা বুঝতে পারবে না। তবে বারবার এভাবে ছাড় দিলে অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া হবে।’ প্রিন্স মাহমুদ জানান, তাঁর সঙ্গে নোবেলের আলাপ হয়েছে, জি-বাংলার কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও আলাপ হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে মন্তব্য নেওয়ার জন্য বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি মাঈনুল আহসান নোবেল। জি বাংলার ‘সারেগামাপা’ প্রতিযোগিতার সব অনুষ্ঠান ধারণ শেষে ২ জুলাই ঢাকায় ফিরেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশেই অবস্থান করছেন।

প্রিন্স মাহমুদ। নব্বই দশকে যাদের দুরন্ত কৈশোর-যৌবন; তাদের কাছে খুব প্রিয় আর পরিচিত নাম। ‘প্রিন্স মাহমুদের সুরে’ এই কথাটি যেই অ্যালবামে জুড়ে থাকতো, সেটি ছিল গানপ্রিয় মানুষের প্রথম পছন্দ। এমন অগণিত অ্যালবামের মাধ্যমে শ্রোতা হৃদয়ে একজন গীতিকার, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে স্থায়ী ভালোবাসার জায়গা করে নেন প্রিন্স মাহমুদ।

এক জীবনে প্রিন্স মাহমুদ এত জনপ্রিয় আর কালজয়ী গান সৃষ্টি করেছেন যে, এটা খুব কম সঙ্গীতজ্ঞ পারেন। বাংলাদেশের ব্যান্ড সঙ্গীতের কিংবদন্তিদের একক কণ্ঠে জনপ্রিয় হওয়া সিংহভাগ গানই তার সৃষ্টি করা।

নব্বই দশক থেকে সমানতালে জনপ্রিয় গীতিকার-সুরকার প্রিন্স মাহমুদ

জেমসের ‘মা’, ‘বাবা’, ‘বাংলাদেশ’, ‘হতেও পারে এই দেখা শেষ দেখা’ কিংবা হাসানের ‘এত কষ্ট কেন ভালোবাসায়’, ‘এতদিন পরে প্রশ্ন জাগে’; প্রিন্স মাহমুদের সৃষ্টি করা এসব গান মিশে আছে প্রতিটি শ্রোতার হৃদয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে।

প্রিন্স মাহমুদের সৃষ্ট কালজয়ী গানের সংখ্যা অনেক। প্রতিটি গানের পেছনেই রয়েছে একেকটা গল্প, প্রেক্ষাপট। কিন্তু সময়ের মরুভূমি পাড়ি দিয়ে সেসব গল্প-প্রেক্ষাপট অনেকটাই হয়ত ভুলে গেছেন প্রিন্স মাহমুদ।

দ্য ওয়ার্ল্ডবিডি/ঢাকা/এফওয়াই

Share On