চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে ভবঘুরে মাদকাসক্তদের উৎপাত

আব্দুল করিম, চট্রগ্রাম মহানগর প্রতিনিধি :

চুরি ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ বাড়ছে চট্টগ্রাম রেল স্টেশনের ভেতর ও আশপাশ এলাকায়।যাত্রী সংশ্লিষ্টরা দুষছেন— ভবঘুরে, হিজড়া ও মাদকাসক্তদের। তারা বলছেন, নিরাপত্তা বাড়ালেই যাত্রী বাড়বে, সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে থাকবে।
পুরাতন রেল স্টেশন এলাকায় সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ভাসমান মানুষ ঘোরাফেরা করছে উদ্দেশ্যহীনভাবে। কেউ বিছানা পেতে শুয়ে আছে। প্রায় এক কিলোমিটার লম্বা রেল স্টেশনে আন্তঃনগর ১১টি, লোকাল ৪টি, নাজিরহাট রুটে একজোড়া লোকাল ও ১টি ডেমু, দোহাজারী রুটে ১ জোড়াসহ দৈনিক মোট ৩২ জোড়া ও ৬৪টি ট্রেন যাতায়াত করে। দৈনিক প্রায় ১৫-২০ হাজার যাত্রীর যাতায়াত চলে।
শনিবার (২৯ফেব্রয়ারি) বিকেল ৪ থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, নিয়ম না থাকলেও অরক্ষিত থাকায় রেল স্টেশনের উত্তরে মাদারবাড়ি ও কদমতলী দিকে থেকে রেল লাইন ধরে অনেক মানুষের যাতায়াত। দীর্ঘদিন ধরে এদিকে সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। ফলে এদিকে ছিনতাইকারী ও মাদকাসক্তদের অবাধ চলাচল বেড়েছে। রেল লাইনের পাশে দল বেঁধে মাদক গ্রহণের চিত্রও চোখে পড়ে। এদিকে সন্ধ্যা হলেই রেল স্টেশনের ভেতরে মাদকাসক্ত ও ছিনতাইকারীরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে।ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন ছিনতাইকারীরা অনেক যাত্রীদের কথা আছে বলে নির্জনে ডেকে টাকা পয়সা ও মালামাল হাতিয়ে নেন। রাতে প্লাটফর্মের অনেক স্থানে বিশেষত পুরাতন রেল স্টেশনের দিকে আলোর স্বল্পতার কারণে যাত্রীরা নিরপত্তাহীনতায় ভোগেন। নতুন ও পুরাতন রেল স্টেশনের প্রবেশ মুখে হিজড়া ও ভাসমান যৌনকর্মীদের আনোগোনা বেড়ে যায়। পুরাতন রেল স্টেশনের সামনে জিআরপি থানার পূর্বপাশে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রয় চলে। জিআরপি থানার সামনে প্রকাশ্যে ভাসমান পুরুষ মহিলা এসব মাদক বিক্রয় করে। জিআরপি থানার পেছনে বাগদাদাদ হোটেলের সামনে গড়ে উঠেছে চুরি করা মোবাইলের মার্কেট। রেলযাত্রী ও পথচারীদের কাছ থেকে ছিনতাই করা মোবাইল এখানেই বেচাকেনা চলে। বাগদাদ হোটেলের পাশের গলিতে রয়েছে মদের দোকান। সন্ধ্যা গড়ালেই মদ্যপায়ীদের আনাগোনা বেড়ে যায়।চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যাওয়ার জন্য পরিবারসহ প্লাটফর্মে অপেক্ষা করছিলে ব্যাংকার আসাদুল হক। তিনি বলেন, ‘একটি রেল স্টেশনের ভেতরে ও বাইরে নিরাপত্তা জোরদার ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা জরুরি। অপরাধ ঘটাতে এখানে নানা ধরনের লোকজনের আনাগোনা বেড়ে ছিনতাইসহ নানা হয়রানির শিকার হতে হয় সাধারণ মানুষকে। এসব রোধ করতে ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জিআরপি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোস্তাফিজ ভূইয়া বলেন, ‘রেল স্টেশনের ভেতরে আমাদের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব। আমরা রেলের সীমানায় ভবঘুরে, মাদকাসক্তসহ বিভ্নি অপরাধীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিই। রেলের যাত্রী বাড়ানোর জন্য আমরা আমাদের সাধ্যমত চেষ্টা করি।

Share On