নিচে চশমার দোকান, উপরে ডায়াগনস্টিক সেন্টার, এরপর বিশ্ববিদ্যালয়

আব্দুল করিম, চট্রগ্রাম মহানগর প্রতিনিধি

আইন অনুযায়ী, নিজস্ব ক্যাম্পাস না থাকলে বন্ধ করে দেওয়া হবে বিশ্ববিদ্যালয়। এ আইনের পরও নগরের কয়েকটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় চলছে নিজস্ব ক্যাম্পাস ছাড়াই। মূলত তারা ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম। এর একটি চিটাগং ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি (সিআইইউ)। নগরের জামালখান রোডে অবস্থিত বেসরকারি এই বিশ্ববিদ্যালয়টি।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ব্যস্ত সড়কের পাশে স্বল্প পরিসরে ভাড়া করা ভবনে চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম। ভবনটির নিচতলায় রয়েছে চশমার দোকান, দোতলায় ডায়গনস্টিক সেন্টার। এর উপরের তলাগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের।
লেখাপড়ার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি না করেই প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি করছে সিআইইউ। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে চারটি অনুষদ। যেখানে লেখাপড়া করছেন প্রায় সাড়ে ৪ হাজার শিক্ষার্থী।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিআইইউর ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, এখানে জায়গার তুলনায় শিক্ষার্থী অনেক বেশি। অনেক সময় এমন হয়, অন্য শিক্ষার্থীর জন্য ঠিকভাবে বসা যায় না।
বিবিএ বিভাগের আরেক এক শিক্ষার্থী জানান, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে টাকা বেশি এটি সাধারণ কথা। কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিস্টার ফি অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি। এছাড়া ক্যাম্পাসে যে সুযোগ-সুবিধা থাকার কথা তা নেই। এখানে মাঠতো দূরে থাকুক খোলা জায়গাও নেই। ক্যান্টিনের অবস্থাও খারাপ।বিবিএ বিভাগের আরক শিক্ষার্থী বলেন, দুই বছর আগে আমি যখন ভর্তি হই তখন টিউশন ফি ছিল ৪ লাখ টাকা। এখন সেটি ৬০-৭০ হাজার টাকা বেড়ে গেছে। প্রতিবছর নির্দিষ্ট হারে ক্রেডিট ফি বাড়ানোর ফলে শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।এসব বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয় সিআইইউর জনসংযোগ কর্মকতা মহিউদ্দিন জুয়েলের। সিআইইউর নিজস্ব ক্যাম্পাস না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ইউজিসি বেসকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে ১০ বছর সময় দিয়েছিল। সেই হিসাবে সিআইইউর সময়সীমা শেষ হতে এখনো আরো চার বছর আছে। আশা করছি, চার বছরের মধ্যে আমরা স্থায়ী ক্যাম্পাসে চলে যেতে পারবো।
শিক্ষার্থীর তুলনায় জায়গা কম, এমন অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমাদের এখানে শিক্ষর্থীদের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। তাছাড়া সিআইইউতে এখনো শিক্ষার্থীর সংখ্যা খুব কম।
বাড়তি ভর্তি ফি’র ব্যাপারে তিনি বলেন, ইউজিসি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঠিক করে দেয়নি- এই বিষয় নিয়ে পড়লে এতো টাকার বেশি নেওয়া যাবে না। যেমন ধরুন আমাদের এখানে ইংরেজির সেমিস্টার ফি খুব কম। কিন্তু অন্য বিশ্ববিদ্যালয় অনেক বেশি টাকা নিচ্ছে। ইউজিসি যদি নির্দিষ্ট করে দিতো তাহলে আমরাও ওটাই নিতাম।

Share On