“চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের পূর্ব হারবাংয়ের পাচঁটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকলেও নেই কোন শহীদ মিনার”

সাইফুল ইসলাম চকরিয়া প্রতিনিধিঃ-
ভাষা আন্দোলনের আটষট্টি বছর পার হলেও চকরিয়া উপজেলায় হারবাং ইউনিয়নের পূর্ব হারবাংয়ে তৈরী হয়নি কোন শহীদ মিনার।স্কুলের শিক্ষার্থীরা মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করেছে অস্থায়ী বাশেঁর তৈরি শহীদ মিনার দিয়ে।বর্তমানে এলাকার রয়েছে পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও দুই হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী।শহীদ মিনার না থাকায় এলাকার  সাধারণ জনগনের আক্ষেপের যেন অন্ত নেই। পূর্ব হারবাং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,পূর্ব হারবাং উচ্চ বিদ্যালয়,পূর্ব হারবাং আদর্শ নূরানী একাডেমি,পূর্ব হারবাং ইক্বরা কিবরিয়া একাডেমি,হারবাং রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলের দুই হাজারেরও অধিক ছাত্র-ছাত্রী সহ এলাকার হাজারো জনসাধারণ জাতীয় দিবস সূমহ পালন করতে পারছেনা একটি শহীদ মিনারের অভাবে। পূর্ব হারবাং থেকে হারবাং কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দূরত্ব প্রায় তিন কিলোমিটার তাছাড়া ছোট ছোট  শিক্ষার্থীদের ব্যস্ততম চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক পার হয়ে তিন কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিয়ে গিয়ে জাতীয় দিবস সূমহ পালন করানো অনেকটা ঝুঁকিপূর্ন তায় অভিভাবক ও শিক্ষকরাও ছাত্র-ছাত্রীদের শহীদ মিনারে নিয়ে যেতে উৎসাহিত হচ্ছে না যার ফলে হাজার হাজার শিক্ষার্থী জাতীয় দিবস সূমহের ইতিহাস ও গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত হতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।পূর্ব হারবাং উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক জনাব মামুন বলেন, শুধুমাত্র বইয়ের পাতায় পড়িয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের জাতীয় দিবস সূমহের গুরুত্ব অনুধাবন করানো সম্ভব নয় এলাকায় স্থায়ী কোন শহীদ মিনার না থাকায় তাদের বিদ্যালয়ে বাশঁ দিয়ে অস্থায়ী  শহীদ মিনারের আকৃতি তৈরী করে শিক্ষার্থীদের মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের গুরুত্ব ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এলাকার সচেতন নাগরিক জনাব পারভেজ বলেন পূর্ব হারবাংয়ে বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে কিন্তু দুঃখজনকভাবে বলতে হয় আমাদের এই এলাকায় এখনো সরকারি ভাবে শহীদ মিনার তৈরীর  কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি যেখানে পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে একটি শহীদ মিনার হলে সব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী সহ এলাকার সাধারণ মানুষ শহীদদের স্বরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করার সুযোগ পেত তিনি শুধুমাত্র প্রশাসনের উদ্যোগে বসে না থেকে এলাকার সচেতন মানুষের সহায়তায় হলেও একটি শহীদ মিনার তৈরির উদ্যোগ নেয়ার আহবান জানান।পূর্ব হারবাং ইক্বরা কিবরিয়া একাডেমির প্রধান শিক্ষক জনাব মৌলানা শওকত রহমান জানান পাহাড়ি অজপাড়ায় অশিক্ষিত অর্ধশিক্ষিত মানুষের ছেলে মেয়েরায় মূলত তাদের ছাত্র-ছাত্রী যাদের অভিভাবকরাও জাতীয় দিবস সূমহের ইতিহাস  সম্পর্কে জানেনা যদি এলাকায় কোন শহীদ মিনার থাকত জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানিকতা দেখে সবাই জাতীয় দিবস সূমহ সম্পর্কে জানত তিনি আরো বলেন তিন চার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে শিক্ষার্থীদেরকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিয়ে যাওয়া বিপদজনক তায় শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতে তাদের অসুবিধার শেষ থাকেনা।তিনি দাবি করেন পূর্ব হারবাংয়ে একটি শহীদ মিনার স্থাপন করা হলে সকল স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী সহ এলাকার অসচেতন সাধারণ জনগনও জানতে পারবে বাংলাদেশের ইতিহাস সংস্কৃতি ও শহীদের আত্বত্যেগসহ দেশের প্রতি শহীদদের অবদান সূমহ।শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে পারবে ছাত্র-ছাত্রী সহ এলাকার সর্বস্তরের জনগণ।এলাকার সচেতন ব্যক্তি বরকত উল্লা বুলু জানান পূর্ব হারবাংয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম গুলো হচ্ছে   ১ঃ-পূর্ব হারবাং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ২ঃ-পূর্ব হারবাং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ৩ঃ-পূর্ব হারবাং ইক্বরা  কিবরিয়া একাডেমি৪ঃ-মুসলিম পাড়া মদিনাতুল উলুম নূরানী মাদ্রাসা৫ঃ-শালবাগান ইবতেদায়ী মাদ্রাসা৬ঃ-ইউনিসেফ পরিচালিত স্কুল ৩ টি পাঠশালা  রয়েছে কিন্তু দুঃখজনকভাবে কোন প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই।     

Share On