“কক্সবাজার প্রান্ততিক চাষি থেকে ১ লক্ষ মেট্রিক টন লবন কিনবে ঘোষণা দিয়েই শেষ করেছে বিসিক কতৃপক্ষের দ্বায়িত্ব”


সাইফুল ইসলাম,চকরিয়া প্রতিনিধি: 
কক্সবাজার জেলাটি লবন ও চিংড়ির জন্য বিখ্যাত।এছাড়া জেলার বেশিভাগ মানুষের প্রধান ব্যবসাও এ দুইটি।তাই লবণ ব্যবসার ধস এড়ানো এবং সিন্ডিকেট ব্যবসা বন্ধের লক্ষে এবছর সরকার কর্তৃক সরাসরি মাঠ থেকে অপরিশোধ ১ লাখ মেট্রিকটন লবণ কিনবে সরকার।বিসিক কর্তৃক লবণ ন্যায্যদামে ক্রয় শুরু হলে প্রান্তিক চাষীদের মাঝে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে, বাড়বে লবণের দাম। বন্ধ হবে সিন্ডিকেট বাণিজ্য সোডিয়াম, ক্লোরাইড আমদানি।
সরবরাহ ও বাজারদর বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় কক্সবাজারের বিসিক উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) সৈয়দ আহামদ এ তথ্য জানান।উক্ত বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, লবণ চাষী ও মিল মালিকরা লবণের ধারাবাহিক দরপতন রোধ ও চাষীদের মাঠে কাজ চালানোর উৎসাহ দিবেন। অসাধু ও অতি মুনাফালোভী সিন্ডিকেট দ্বারা বাজার যেন অস্থিতিশীল না হয় খেয়াল রাখার প্রস্তাব। প্রান্তিক চাষীরা যেন ন্যায্য দাম পায়।
ফিনিশ লবণ যেন অসাধুরা বাজারজাত করতে না পারে লক্ষ রাখা। প্রতি বছর টেক্স ফ্রি সোডিয়াম সালফেট আড়ালে ইন্ডাস্ট্রিয়াল সল্ট, সোডিয়াম ক্লোরাইড আমদানির বিষয়ে কঠোর ভুমিকা পালন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।যেভাবে হোক চাষীদের আস্হা ফিরানো চেষ্টা বিদ্যামান।এছাড়া রোহিঙ্গাদের কাছে বিক্রিত লবণ যেন এখান থেকে কিনা প্রক্রিয়া চেষ্টাধিন থাকবে।
এ সভায় উপস্হিত ছিলেন,এমপি আশেক উল্লাহ রফিক, জেলা আ’ লীগের সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা , কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী, লবণ মিল মালিক সমিতির কয়েক দায়িত্বশীল সহ রাজনৈতিক নেতা।গত ২২ জানুয়ারী চকরিয়া এক জনসভায় সেতুমন্ত্রী বলেন, লবণ চাষীরা যেন ন্যায্যমূল্য পায়,প্রয়োজনে তিনি প্রধান মন্ত্রীর সাথের আলাপ করে হলেও লবণের দাম চাহিদা স্বরুপ রাখার প্রস্তাব রাখা হবে বলে ঘোষণা দেন।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) কক্সবাজারের লবণ শিল্প উন্নয়ন প্রকল্প কার্যালয়ের ১০ জানুয়ারির প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি মণ লবণের দাম গড়ে ১৯২ টাকা। যা কেজিতে পড়ছে প্রায় ৪ টাকা। ২০১৯-২০ মৌসুমে বিসিকের চাহিদা ১৮ লাখ ৪৯ হাজার মে. টন। লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৮ লাখ ৫০ হাজার মে. টন। গত মৌসুমে (২০১৮-১৯) লক্ষ্যমাত্রা ১৮ লাখ ৫০ হাজার মে. টনের বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১৮ লাখ ২৪ হাজার মে. টন।
যা বিগত ৫৮ বছরের লবণ উৎপাদনের রেকর্ড ছাড়িয়েছে। কক্সবাজার জেলায় উৎপাদনযোগ্য লবণ জমির পরিমাণ ছিল ৬০ হাজার ৫৯৬ একর। চাষীর সংখ্যা ২৯ হাজার ২৮৭ জন। এটি সয়ংসম্পূর্ণ শিল্প। সরকারি নজর থাকলে এক আনা লবণও আমদানি করা লাগবে না বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।
উল্লেখ, গত ১৬ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জাফর আলম তাঁর বক্তব্যে প্রান্তিক লবণ চাষিদের কাছ থেকে লবণ ক্রয়ের জন্য সরকারের কাছে দাবি তুলেন। সংসদের দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে মাঠ থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন লবণ ন্যায্যমূল্যে কিনবে বলে জানিয়েছে বিসিক কক্সবাজারের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) সৈয়দ আহামদ কিন্তু তার ঘোষণার বাস্তবায়নের কোন পক্রিয়াও দেখা যাচ্ছেনা এদিকে চাষিদের উৎপাদন পক্রিয়া যেন অর্থ অভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে স্থানীয় কৃষকরা লবনের এমন নিম্ন দরের কারনে লবন বিক্রি করতে পরিবহন ও মজুরি খরচ দিতে হিমশিম খাচ্ছে প্রতিমন লবন ১১০টাকায় বিক্রি হচ্ছে তার মধ্য লেবার,পরিবহনে প্রতি মনের খরচ হয় ৫০টাকার উপরে আর কৃষক পাচ্ছেন ৬০টাকা প্রতি মন লবনের দাম যা উৎপাদন করতে খরচ হয় ৩৫০টাকারও অধিক যার কারনে কৃষকেরা লবন বিক্রি করতে পাচ্ছেনা। এদিখে মাঠের উৎপাদন খরচের যোগান দিতে না পারায় অনেক কৃষকেই লবন চাষ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন যার কারনে পূর্ণ হবেনা কাংখিত চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন আর এই সুযোগের সৎ ব্যবহার করতে উৎপর অসাধু আমদানি কারকরা যার ফলে ধংশ হয়ে যাবে দেশের একমাত্র সয়ংসম্পূর্ণ লবন শিল্প।  

Share On