ফটিকছড়িতে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সাথী ফসলের চাষ

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, হাটহাজারী প্রতিনিধি: ফটিকছড়িতে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সাথী ফসলের চাষ। এক খন্ড জমিতে একই সাথে একাধিক ফসলের চাষাবাদ করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন এখানকার স্থানীয় কৃষকরা। কৃষি জমিতে সাথী ফসলের চাষ করে অধিক লাভবান হওয়ায় অনেকেই ধান চাষের চেয়ে সাথী ফসলের দিকে ঝুঁকছেন। কয়েক বছর আগেও যেখানে ধান চাষ করা হতো, সেখানে এখন সাথী ফসলের ব্যাপক আবাদ হচ্ছে।
সরেজমিনে ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর সুয়াবিল, হারুয়ালছড়ি, ভূজপুর, নারায়নহাট, পাইন্দং, সুন্দরপুর, লেলাং, নানুপুর, ধর্মপুর, অাব্দুল্লাহপুর ও জাফতনগরসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, বেশি লাভের আশায় বিস্তীর্ণ জমিতে কৃষকরা মূল ফসলের সাথে বিভিন্ন রকমের সাথী ফসলের চাষ করছেন ।
উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের কৃষক  অাকাশ এ বছর সাথি ফসল হিসেবে আলুর সঙ্গে ভুট্টা চাষ করেছেন। তিনি জানান, আলু তোলা শেষ। এখন চলছে ভুট্টার পরিচর্যা। এ বছর তিনি প্রায় ৪০ শতাংশ জমিতে সাথী ফসল চাষ করেছেন। তার মতো স্থানীয় অনেকেই আলুর সঙ্গে ভুট্টা চাষ করছেন। আবার অনেকে সাথী ফসল হিসেবে রাখছেন অন্যান্য সবজি।
কাঞ্চন নগর ইউনিয়নের বাইন্যাচোলা গ্রামের কৃষক অাবুল হোসেন এক একর জমিতে আলুর সঙ্গে চাষ করেছেন ধনিয়া, লাল শাক ও মরিচ। এসব সবজির পাশাপাশি একই জমিতে চাষ করেছেন পুঁইসহ দুই ধরনের শাক।
পর পর একাধিক ফসল চাষ করে তারা লাভবান হয়েছেন জানিয়ে অাবুল হোসেন বলেন, তবে এ ক্ষেত্রে পরিবারের লোকজনকে শ্রম দিতে হয় বেশি।
এ ব্যপারে সুয়াবিল এলাকার কৃষক রাশেদ ও হারুয়ালছড়ির রঞ্জিত দাশ জানান, অামরা আখের সাথে মিষ্টি আলু, ফুলকপি, বাঁধা কপি, ঢেঁড়শ, শিম, বরবটি, সরিষা, মরিচ, মুলা, বেগুন, লালশাক, মিষ্টি কুমড়া, লাউ, টমেটোসহ বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ করে থাকি। এক সময় আমাদের ধানচাষই মূল চাষ। এ ধান চাষের উপরই চলত আমাদের পরিবারের সারা বছরের খরচ। স্থানীয় কৃষি অফিসের সাথে পরামর্শ করে সাথী ফসলের চাষ শুরু করি। দেখা গেছে ধান চাষে যে টাকা পাওয়া যায়, তার চেয়ে আরও দ্বিগুণ লাভ পাওয়া যায় সাথী ফসল চাষে। যার ফলে একই জমিতে একাধিক ফসল উৎপাদন করে থাকি অামরা। সাথী ফসল চাষে জমি তৈরি, পরিচর্যা, সার প্রয়োগ ও কীটনাশক প্রয়োগ করতে গেলে সময় ও যেমন কম লাগে, তেমনি সব কিছু একসাথে করতে পারায় খরচও কম লাগে। লাভ পাওয়া যায় দ্বিগুণ।
খরচের বিষয়ে তারা বলেন, আমরা নিজের জমিতে সাথী ফসলের চাষ করি। প্রতি কানি জমিতে সার প্রয়োগ, মজুরী, কীটনাশক ঔষুধের ব্যবহারসহ প্রায় ৩০ হাজার টাকার মত খরচ হয় প্রতি মৌসুমে। কোন ধরনের প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে  প্রতি কানি জমিতে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকার মত পাওয়া যায়

Share On