৩ মাস সৌদিতে আটকে রেখে দেশে ফেরত!

টাঙ্গাইল সংবাদদাতা :নিরীহ পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি মামুন পলান (২৬)। পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে জমিজমা বিক্রি ও ঋণ করে দালালের মাধ্যমে ২০১৮ সালের ২৫ এপ্রিল সৌদিতে পাড়ি জমান মামুন। ৪ লাখ টাকা নিয়ে মামুনকে সৌদিতে পাঠান আবুল কালাম নামের এক দালাল। সৌদিতে নেয়ার পর মামুনকে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। সেখানে নিয়মিত খাবারও দেয়া হত না। প্রায় এক মাস পর ইয়েমেনের সীমান্ত এলাকায় নিয়ে অন্য আরেকটি ঘরে বন্দি রাখা হয় তাকে। এরপর অসুস্থ হয়ে পড়লে ওই বছরের ৭ জুলাই তাকে দেশে ফেরত পাঠায় দালাল চক্রটি। পরে অসুস্থ অবস্থায় মামুনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসা নেয়ার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেন তিনি। বিদেশে পাঠানো বাবদ ৪ লাখ টাকা দালালের কাছে ফেরত চাইলে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান দালাল আবুল কালাম। এমনই অভিযোগ বাসাইল উপজেলার কাউলজানী মধ্যপাড়া এলাকার ওয়াজেদ পলানের ছেলে মামুনের। আর দালাল আবুল কালাম কালিহাতী উপজেলার বানকিনা গ্রামের মৃত আব্দুল রারেকের ছেলে। আবুল কালাম বর্তমানে টাঙ্গাইলের সাবালিয়া এলাকায় বসবাস করছেন। 
এরপর দালালের কাছে টাকা ফেরত চাইলে বারবার হেনস্থার শিকার হতে হয় নিরীহ পরিবারটির। একপর্যায়ে আবুল কালাম মামুনকে আবার বিদেশে পাঠানোর জন্য তার কাছ থেকে পাসপোর্ট নিয়ে নেন। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও মামুনকে বিদেশে তো পাঠাচ্ছেনই না, তার পাসপোর্ট ও টাকাও ফেরত দিচ্ছেন না। এমতাবস্থায় মামুন বাদি হয়ে ২০১৯ সালের ২৫ জুন দালাল আবুল কালামের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর আদালত মামলাটির তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালককে নির্দেশ দেন। পরে সহকারী পরিচালক তদন্ত করে প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন।  ভুক্তভোগী মামুন পলান বলেন, ‘আমরা গবিব মানুষ। পরিবারের একটু সুখের জন্য জমিজমা বিক্রি ও ঋণ করে বিদেশে যাই। ভুয়া ভিসায় আমাকে সৌদিতে নিয়ে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। সেখানে নিয়মিত খাবারও দেয়া হয়নি। প্রায় ৩ মাস পর অসুস্থ অবস্থায় আমাকে দেশে পাঠিয়ে দেন। দেশে ফিরে দালালের কাছে টাকা ফেরত চাইলে তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর স্থানীয় মানুষের চাপে দালাল আবুল কালাম আবারও আমাকে বিদেশে পাঠানোর জন্য আমার কাছ থেকে পাসপোর্ট নিয়ে যান। এখন আমার পাসপোর্ট ও টাকাও ফেরত দিচ্ছেন না।’ 
অভিযুক্ত আদম ব্যবসায়ী আবুল কালাম বলেন, ‘মামুন আমার আপন মামাতো ভাইয়ের ছেলে। তাকে সঠিক ভিসায়ই সৌদিতে পাঠানো হয়। কিন্তু মামুন ইচ্ছাকৃতভাবে দেশে চলে আসে। আত্মীয় হওয়ায় তাকে আবার অন্য দেশে পাঠানোর জন্য তার কাছ থেকে পাসপোর্ট নেয়া হয়েছে। অন্য দেশে পাঠানোর জন্য চেষ্টা চলছে। তার পাসপোর্ট আটকে রাখা হয়নি। সে চাইলে যে কোন সময় পাসপোর্ট নিতে পারে। সে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছে।

Share On