পলাশে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে টাকা ছাড়া মিলছে না ওষুধ


বুরহান উদ্দিন,পলাশ প্রতিনিধি : [ নরসিংদী ] পলাশ উপজেলার গ্রামীণ জনপদে স্বাস্থ্য সেবার জন্য নির্মিত উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র গুলোতে টাকা ছাড়া মিলছেনা প্রয়োজনীয় ওষুধ। প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ সংগ্রহ করতে গিয়ে রোগীদের গুণতে হচ্ছে টাকা।
এছাড়া অধিকাংশ সময় গ্রামীণ জনপদে স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত পাওয়া যায়না ডাক্তারদের সাক্ষাত। যার ফলে গরীব অসহায় রোগীদের চিকিৎসা সেবায় ভুগান্তি পোহাতে হচ্ছে। 
মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামে অবস্থিত উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় এমন চিত্র । ওই ইউনিয়নের হতদরিদ্র প্রায় ৩০ হাজার বাসিন্দাদের চিকিৎসা সেবার জন্য উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রই একমাত্র ভরসা ।
যাতায়াতের তেমন সুব্যবস্থা না থাকায় অনেকেরই ইউনিয়নের উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে হয়। কেন্দ্রের চিকিৎসা নিতে আসা অধিকাংশ রোগীদের অভিযোগ, তাদের অনেককেই প্রয়োজনীয় ওষুধ নিতে গিয়ে ওষুধ বিতরণকারীকে টাকা দিতে হচ্ছে। 
এছাড়া কেন্দ্রের নিয়মিত দায়িত্বরত ডাক্তারও ঠিকমত পাওয়া যায় না। অনেক সময় রোগীদের ফার্মাসিস্ট বা নার্সদের শরণাপন্ন হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়। সুলতানপুর গ্রামের ইব্রাহিম মিয়া নামে এক রোগী জানান, সকালে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে জ্বর-ঠান্ডার ওষুধ নিতে আসলে ওষুধ বিতরণকারী মাজহারুল নামে এক ব্যক্তি ১০০ টাকা চায়।
পরে টাকা দিয়ে ওষুধ নিয়ে যাই। শুনেছি অনেকেরই এখান থেকে টাকা দিয়ে ওষুধ নিতে হয়। ওই গ্রামের মানছুরা বেগম নামে এক নারী বলেন, স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে টাকা দিলে চাহিদা অনুযায়ী ওষুধ দেয়। টাকা না দিলে ওষুধ শেষ হয়ে গেছে বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে টাকা দিয়েই রোগীদের ওষুধ নিতে হয়। 
এসব বিষয়ে চরসিন্দুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের দায়িত্বরত ওষুধ বিতরণকারী মাজহারুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, টাকা নিয়ে ওষুধ বিতরণের বিষয়টি সঠিক না। অনেক সময় রোগীরা ওষুধ নিতে এসে খুশি হয়ে কয়েক টাকা দিয়ে যায়।
এসব বিষয়ে কথা বলতে চরসিন্দুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের দায়িত্বরত ডাক্তার রাবেয়া বসরীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

Share On