ঈদ ঘিরে সক্রিয় অপরাধী চক্র, সাবধান!

নিজস্ব প্রতিবেদক

এক সপ্তাহ পর উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদকে সামনে রেখে চলছে কোরবানির পশুর হাটের প্রস্তুতি। এছাড়া দেশের বিভিন্ন শপিংমল ও মসলার বাজারেও শুরু হয়েছে ঈদ প্রস্তুতি।

অন্যদিকে, আসন্ন ঈদ ঘিরে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে মৌসুমি অপরাধীদেরও। ইতোমধ্যে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মৌসুমি অপরাধীদের সক্রিয়তা লক্ষ করা গেছে। আজ্ঞান ও মলম পার্টির দৌরাত্ম্যও বেড়ে গেছে। আর ছিনতাইকারী হয়ে উঠেছে আরও ভয়ংকর। ঢাকায় ছিনতাইকারীদের হাতে প্রাণ গেছে কয়েকজনের।

প্রতি বছরই দুই ঈদের আগে অজ্ঞান পার্টি বা মলম পার্টি, ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজি ও জাল টাকা তৈরির চক্রের সদ্যরা সক্রিয় হয়ে উঠে। সারা বছরই তারা ছোটোখাটো অপরাধ করে থাকলেও ঈদের সময় তাদের সক্রিয়তা বেড়ে যায়। এ ক্ষেত্রে কোরবানি ঈদে পশুর হাটকে কেন্দ্র করে তাদের সক্রিয়তা সব থেকে বেশি থাকে। এবারও এর ব্যতিক্রম হচ্ছে না।

চলতি সপ্তাহে রাজধানীর বেশ কয়েটি এলাকা থেকে ছিনতাইকারী ও চাঁদাবাজি চক্রের বেশ কয়েকজন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। সর্বশেষ রাজধানীর খিলগাঁও থেকে অস্ত্রসহ তিন চাঁদাবাজ ও মহাখালী থেকে চারজন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, শনিবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকা থেকে ছিনতাইকারী চক্রের ছয় সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তারা পশুর হাটের ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের ফাঁদে ফেলার পরিকল্পনা করছিল।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সূত্রে জানা গেছে, এবারের ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীতে ২৭টি কোরবানির পশুর হাট বসবে। মৌসুমি অপরাধীরা বরাবরের মতো এবারও হাট কেন্দ্রিক তাদের কার্যক্রম চালানোর জন্য সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। হাটে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের অজ্ঞান করে তাদের কাছ থেকে টাকা ছিনতাই করা তাদের উদ্দেশ্য। এছাড়া জাল টাকার মাধ্যমেও বিক্রেতাদের ঠকানোর চেষ্টা করতে পারে।

এদিকে, ঈদ উপলক্ষে মৌসুমি অপরাধীদের দৌরাত্ম্য কমাতে ইতোমধ্যেই কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে ডিএমপি। সর্বশেষ শনিবার (২৭ জুলাই) ডিএমপির পক্ষ থেকে অজ্ঞান পার্টির হাত থেকে রক্ষা পেতে সচেতনতামূলক একটি পরামর্শ দেওয়া হয়।

১. ভ্রমণ পথে অযাচিতভাবে অপরিচিত কেউ অহেতুক ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করলে তাকে পাত্তা না দেই। মনে রাখবেন দুষ্ট লোকেরাই মিষ্ট কথা বলে ফাঁদে ফেলে।

২. আপনার পাশের সিটের লোকটিই আপনার সাথে সখ্যতা গড়ে তুলতে চাইবে এবং এক সময় নিজে থেকে খাবার (কেক, চিপস, কোমল পানীয়, কাটা পেয়ারা বা আনারস ইত্যাদি) কিনে সেও খাবে আপনাকেও খেতে বলবে।

৩. ফুটপাতে বা রাস্তার মোড়ে টং দোকান থেকে খাবার গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

৪. ফেরিওয়ালা বা ভ্রাম্যমাণ কারো কাছ থেকে আচার, আমড়া, শসা, পেয়ারা প্রভৃতি খাওয়া যাবে না।

৫. বাসে, ট্রেনে বা লঞ্চে ভ্রমণের সময় লজেন্স বা চকলেট, আইসক্রিম, সিগারেট জাতীয় কোনো খাবার গ্রহণ করা যাবে না।

এ বিষয়ে ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে অজ্ঞান পার্টির হাত থেকে বাঁচতে কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মানুষের জানমাল রক্ষায় পুলিশও মাঠে থাকবে সতর্ক অবস্থায়।’

ডিএমপি সূত্র আরও জানায়, পশুর হাটে ও তার আশপাশে জনসচেতনতামূলক ব্যানার দৃশ্যমান স্থানে টানানো ও প্রচার প্রচারণা করা হবে। পুলিশ কন্ট্রোল রুমে থাকবে জাল টাকা সনাক্তকরণ মেশিন। এছাড়া হাট এলাকায় বসানো হবে সিসি ক্যামেরা।

পশুর হাটের নিরাপত্তা সম্পর্কে ডিএমপি কমিশনার মো.আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘আমাদের সবার সঙ্গে সমন্বয় করে নির্ভেজাল কোরবানির পশুর হাটের ব্যবস্থা করা হবে। কোরবানির পশুর হাটে থাকবে পুলিশের কঠোর নজরদারি।’

দ্য ওয়ার্ল্ডবিডি/ঢাকা/এফওয়াই

Share On