ব্যাংকারের হাত ধরেই জঙ্গিবাদে পুরো পরিবার!

নিজস্ব প্রতিবেদক

পরিবারের প্রধান ব্যক্তি আহমদ আলী (৫৭)। তার আদর্শেই পুরো পরিবার পরিচালিত হয়। তিনি সোনালী ব্যাংক মতিঝিল শাখায় প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনিই তার গোটা পরিবারকে জঙ্গিবাদের দীক্ষা দিয়েছেন।

শুক্রবার (২৬ জুলাই) মধ্যরাতে রূপনগরের ২৮ নম্বর রোডের ২৩ নম্বর বাসা থেকে আহমদ আলীসহ তার পরিবারকে আটক করে পুলিশের অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ)। পুলিশের দাবি, গ্রেফতার সবাই জঙ্গি কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন। সবাই জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তারা মূলত একই পরিবারের সদস্য।

আহমদ আলী ছাড়া পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা হলেন, তার স্ত্রী সালমা আহমেদ (৫০), দুই ছেলে আবু সালেহ মোহাম্মদ জাকারিয়া (২৪) ও আবু সালেহ মোহাম্মদ কিবরিয়া (২২) এবং মেয়ে আসমা ফেরদৌসী রিফা (২৬)।

অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. মাহিদুজ্জামান জানান, গ্রেফতার জঙ্গিরা ওই এলাকায় ১০ বছর ধরে থাকেন। তবে স্থানীয় কারও সঙ্গে তারা যোগাযোগ রাখতেন না। সন্দেহজনক অনেক লোকজন এই বাসায় যাতায়াত করলেও আশেপাশের কেউ টের পায়নি। ওই বাসাতেই সাংগঠনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হত। নিজেদের গোপনীতার স্বার্থে তারা দূরের কোনো বাজার থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতেন।

আহমদ আলী সোনালী ব্যাংকের কাজ শেষে বাসা ফিরে পরিবারের সদস্যদের জিহাদী কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ করতেন। এমনকি ছেলে মেয়েদের বাইরে বের হওয়া ও পড়াশুনাও বন্ধ করে দেন। আশেপাশের কারও সাথে মিশতো না এবং কোনো অনুষ্ঠানেও যাওয়া তাদের নিষেধ ছিল।

এই আস্তানায় যারা যাতায়াত করত তাদের আটক করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

এসপি মাহিদুজ্জামান আরও জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অ্যান্টি টেরোরিজমের একটি দল শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রূপনগর আবাসিক এলাকার ওই বাসায় অভিযান চালায়। শুরুতে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা ঘরের ভেতরে হাত বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে স্থানীয় লোকদের সহযোগিতায় ওই বাসার দরজা ভেঙে প্রবেশ করতে চাইলে তারা দেশীয় অস্ত্রসহ হামলা চালায়।

স্থানীয়দের নিরাপত্তার স্বার্থে ওই সময় পুলিশ ৭ রাউন্ড গুলি চালায়। এতে জঙ্গিদের হামলায় পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়। এছাড়া পুলিশের ছোড়া গুলিতে আবু সালেহ মোহাম্মদ জাকারিয়া আহত হয়। তিন পুলিশ সদস্যকে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে এবং জাকারিয়াকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, রূপনগরের ওই বাসা থেকে পুলিশ এখন পর্যন্ত দেশীয় অস্ত্র, বিস্ফোরণের ধংসাবশেষ, চূর্ণ এবং রাসায়নিক পদার্থ, বোমা তৈরির হার্ডওয়্যার, জিহাদী বই, মোবাইল ও ল্যাপটপ জব্দ করা হয়েছে।

দ্য ওয়ার্ল্ডবিডি/ঢাকা/এফওয়াই

Share On