৩০ বছরে ‘গায়েব’ ঢাকার ১৯০০ পুকুর!

নিজস্ব প্রতিবেদক

তিন দশক আগেও ঢাকায় প্রায় দুই হাজার পুকুর থাকলেও এখন একশটিরও অস্তিত্ব নেই। এসব পুকুর অবৈধ দখল করে গড়ে উঠেছে বহুতল ভবন। এর প্রভাবে জলাশয় ভরাটের কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যাচ্ছে রাজধানী। নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য। বিশ্লেষকেরা বলছেন, আইন না মানার প্রবণতা ও সরকারি তদারকির অভাবে সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না পুকুর।

খিলগাঁওয়ের জোড়পুকুর এলাকা। দুটি পুকুরের নামে এলাকাটি পরিচিত হলেও এখন সেখানে কোনো পুকুরের অস্তিত্ব নেই। পুকুর দুটির এক অংশ অবৈধ দখল ও ভরাট করে গড়ে তোলা হয়েছে বহুতল ভবন। আরেকটি অংশে মাঠ তৈরি করেছে সিটি কর্পোরেশন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দুই দশক আগেও পুকুর দুটিতে গোসল করতো এলাকার লোকজন।

একই অবস্থা পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়া এলাকার ডিআইটি পুকুরটিও। দখল ও দূষণে অস্তিত্ব হারাচ্ছে এটি। মৎস্য বিভাগের পরিসংখ্যান মতে, ১৯৮৫ সালে ঢাকায় মোট পুকুর ছিল প্রায় দুই হাজার। বর্তমানে তা নেমে এসেছে একশোর নিচে।

জলাশয় আইন না মানার প্রবণতা, অবৈধ দখল, সরকারি তদারকির অভাব আর অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে জলাশয় সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না- বলছেন বিশ্লেষকেরা।

বেলা’র প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আইনের শাসন নেই। পুকুর কিংবা জলাশয় ভরাট করেছে এমন কাউকে আইনের আওতায় আনা যায়নি বলেই এই অবস্থা।

পুকুর না থাকায় বর্ষা মৌসুমে নগরে তৈরি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। নগর পরিকল্পনাবিদ সালমা আওয়াল সাফি বলেন, অল্প বৃষ্টিতে নগরবন্যার অন্যতম কারণ পুকুর ভরাট। বিভিন্ন এলাকায় পুকুর থাকলে সমস্যার সমাধান হতো।

এভাবে পুকুর, জলাশয় ভরাট হতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আরও নিচে নেমে যাবে। দেখা দেবে মিঠা পানির সংকট- বলছেন বিশ্লেষকেরা।

দ্য ওয়ার্ল্ডবিডি/ঢাকা/এফওয়াই

Share On