গণপিটুনির ঘটনা তদন্তের ঘোষণা পুলিশের

নিজস্ব প্রতিবেদক

ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনির সবগুলো ঘটনা তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে পুলিশ। ‘গুজব ছড়াবেন না, আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না’ এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে প্রচারিত বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

গুজব রোধে দেশব্যাপী সতর্কীকরণ প্রচারণাও শুরু করেছে পুলিশ। এর আওতায় পৌরশহরসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পুলিশের বিশেষ সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পদ্মা সেতুর জন্য মানুষের মাথা ও রক্ত লাগবে এমন কথা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

এ ধরনের গুজব ছড়িয়ে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করা রাষ্ট্রবিরোধী কাজ এবং ফৌজদারি অপরাধ। গুজব ছড়ানো এবং গণপিটুনির ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

জানা গেছে, ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে রোববার (২১ জুলাই) পর্যন্ত নিহত ১১ এবং চার জেলায় এক দম্পতিসহ আহত ১৫ জন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ।

এদিকে রাজধানীর বাড্ডা ও সাভারে দুই নারীকে হত্যায় দুটি মামলা হয়েছে। বাড্ডার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (২০ জুলাই) রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় একটি স্কুলে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত হন দুই শিশু সন্তানের মা তাসলিমা বেগম রেনু। এ ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়ে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন স্থানীয় ও প্রতিবেশিরা।

এ ঘটনায় অজ্ঞাত ৪ থেকে ৫শ জনকে আসামি করে বাড্ডা থানায় মামলা করেছেন নিহতের ভাগ্নে নাসির উদ্দিন টিটু।

সাভারে এক নারীকে হত্যায়ও অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে ভিডিও ফুটেজ দেখে চলছে অভিযান।

এদিকে রোববারও পুকুর মালিকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার জেরে পালাতে গিয়ে, নওগাঁর বুড়িদহ গ্রামে গণপিটুনির শিকার হয়েছেন খাগড়া ও ফারাতপুরের ৬ মৎস্য-শ্রমিক। পরে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ।

ছেলেধরা সন্দেহে কুমিল্লার দুতিয়ার দিঘির পাড় এলাকায় এক দম্পতিসহ তিনজনকে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাদের কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় নেওয়া হয়েছে।

টাঙ্গাইলেও ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনির শিকার হয়েছেন তিন জন। তাদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল ও কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

দ্য ওয়ার্ল্ডবিডি/ঢাকা/এফওয়াই

Share On