মিন্নির জামিনে আদালতে যাচ্ছেন ১০০ আইনজীবী

নিজস্ব প্রতিবেদক

বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যায় গ্রেফতার তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির জামিনের জন্য শতাধিক আইনজীবী প্রস্তুত হচ্ছেন। তারা রোববার (২১ জুলাই) আদালত খোলার দিনে মিন্নির জামিনের আবদেন করবেন।

বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), নিজেরা করি, এএলআরডিসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শতাধিক আইনজীবী বরগুনায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী জেড আই খান পান্না।

তিনি ফেসবুকে জানান, শনিবার (২০ জুলাই) ঢাকা থেকে আইন ও সালিস কেন্দ্রের আইনজীবীরা, বরিশাল , পটুয়াখালী, ঝালকাঠি থেকে ব্লাস্টসহ অন্যান্য আইনজীবিরা বরগুনার পথে যাত্রা শুরু করেছেন।

‌‌‘রোববার মিন্নির জামিনের চেষ্টা চালাবেন। বরগুনা থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিয়েছি। দেশের সব আইনজীবীদের সহানুভূতির জন্য এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

তিনি জানান, বরগুনায় রোববার (২১ জুলাই) মিন্নির জামিনের জন্য ঢাকা, বরিশাল, ঝলকাটি, পটুয়াখালি থেকে ১০০’র অধিক আইনজীবি পাঠাচ্ছি। জামিন পরবর্তীতে ঢাকা সুপ্রিম কোর্ট থেকে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

এ মামলায় গ্রেফতার হয়ে পাঁচদিনের রিমান্ডে ছিলেন মিন্নি। দুদিন রিমান্ডে থাকার পর শুক্রবার (১৯ জুলাই) আদালত মিন্নির জবানবন্দি নেয়। জবানবন্দিতে তিনি স্বামী হত্যায় জড়িত থাকার দায় স্বীকার নেন।

২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাতকে কুপিয়ে জখম করে স্থানীয় সন্ত্রাসী নয়ন বন্ড ও তার সহযোগীরা। ওই ঘটনার ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, মিন্নি আক্রমণকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করছেন।

গুরুতর আহত রিফাতকে ওইদিন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৫ থেকে ৬ জনকে আসামি করে বরগুনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মিন্নি ছিলেন এই মামলার প্রধান সাক্ষী। রিফাত হত্যা মামলায় নয়ন বন্ড গ্রেফতার হলেও পরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তার মৃত্যু হয়।

১৩ জুলাই রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বরগুনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন, তার ছেলে রিফাতকে হত্যায় পুত্রবধূ মিন্নির হাত রয়েছে। ওই সংবাদ সম্মেলনে মিন্নিকে গ্রেফতারের দাবিও জানান রিফাতের বাবা।

তিনদিনের মাথায় মিন্নিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ১৬ জুন বরগুনা পুলিশ লাইনে মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশ জানায়, রিফাত হত্যাকাণ্ডে মিন্নির সম্পৃক্ততার প্রাথমিক সত্যতা প্রতীয়মান হয়েছে।

দ্য ওয়ার্ল্ডবিডি/ঢাকা/এফওয়াই

Share On