জাতীয়

বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার আসামী মেহেদী হাসান রাসেল এর গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের সালথায় নিস্তব্ধ পরিবেশ

ফরিদপুর থেকে মিজানুর রহমান :

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যায়
গ্রেফতার হওয়া বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী
হাসান (রাসেল) এর গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের সালথা উপজেলার সোনাপুর
ইউনিয়নের রাঙ্গারদিয়া গ্রামে। বাড়িটিতে এখন নিস্তব্ধ পরিবেশ
বিরাজ করছে। সে ওই গ্রামের সাবেক সেনা সদস্য রুহুল আমিনের বড়
ছেলে। রুহুল আমিনের চার সন্তানের মধ্যে মেহেদী হাসান রাসেল সবার
বড়। ১৯৯৬ সালে জন্ম। রাসেলের ছোট বোন জান্নাতী মীম
গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে।
আর এক ছোট বোন গ্রামের বাড়িতে যোগারদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮ম
শ্রেণীর ছাত্রী আর সব ছোট ভাই একই স্কুলের ৭ম শ্রেণীর ছাত্র। বাবা
রুহুল আমিন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ওয়ারেন্ট অফিসার ছিলেন।
বাবার চাকুরী করার সুবাদে ছেলে মেহেদী হাসান রাসেল দেশের বিভিন্ন
স্কুল কলেজে লেখাপড়া করেছেন। রাসেল রংপুরের একটি স্কুল থেকে
এসএসসি ও ময়মনসিংহ সৈয়দ নজরুর কলেজ থেকে এইচ এস সি
পাস করে। রাসেলের বাবা রুহুল আমিন ২০০৮ সালে ময়মনসিংহ থেকে
অবসরে যান বলে জানা যায়। ছেলে সম্পর্কে রাসেলের বাবা রুহুল আমিন
বলেন, সামান্য বেতনে চাকরী করে ছেলেকে বুয়েটে ভর্তি করাতে
পেরেছিলাম বলে আমি নিজেকে অনেক ধন্য মনে করেছিলাম। মাঝ পথে
এসে এমন একটা দুর্ঘটনার শিকার হবে এটা আমার অপ্রত্যাশিত।
তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকে আমার ছেলেকে আমি চিনি সে এই
ধরনের কাজ করতে পারে না। রাসেলের মা ঝর্ণা বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে
বলেন, আমার ছেলে ষড়যন্ত্রের শিকার। সিসি টিভির ফুটেজ দেখেছি
তাতে আমার ছেলেকে দেখা যায়নি। আমার ছেলে কাউকে হত্যা করার
সাথে জড়িত থাকতে পারে এটা আমি বিশ্বাস করতে পারিনা। উল্লেখ্য
গত রবিবার রাতে বুয়েটের আবাসিক হল থেকে বেদম প্রহারে আবরার ফাহাদের মৃত্যু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরে বাংলা হলের নীচতলা ও দ্বিতীয়
তলার সিড়ির করিডোর থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত আবরার
বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল এ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং এর
দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি শেরে বাংলা হলের ১০১১ নম্বর
কক্ষে থাকতেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close