বাংলাদেশ

দুই বান্ধবীকে লেখা দগ্ধ মাদ্রাসাছাত্রীর চিঠি ‘আমি লড়ব শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত’

ফেনীর সোনাগাজী পরীক্ষা কেন্দ্রে দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে দগ্ধ মাদ্রাসা ছাত্রী অধ্যক্ষের যৌন নীপিড়নের পর বান্ধবীদের উদ্দেশে একটি চিঠি লিখেন। ওই চিঠি মঙ্গলবার তার বাড়িতে পড়ার টেবিল থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

চিঠির শিরোনাম ‘আমি লড়ব শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত’।চিঠিতে দিন-তারিখ লেখা নেই। তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলছেন, বিষয়বস্তু বিবেচনায় এটি কয়েকদিন আগের লেখা বলে মনে হচ্ছে। ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার যৌন নীপিড়নের শিকার হয়েই ওই ছাত্রী চিঠিটি লিখেন।

দুই পাতার ওই চিঠিটি তার দুই ঘনিষ্ট বান্ধবী তামান্না ও সাথীকে উদ্দেশ করে লেখা। চিঠিতে গত ২৭ মার্চ ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনাও দিয়েছেন ওই ছাত্রী। চিঠিতে তিনি আত্মহত্যা করবেন না বলেও উল্লেখ করেন। পাশাপাশি যৌন হয়রানির ঘটনার পর অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা গ্রেফতার হওয়ার পর তার মুক্তির দাবিতে বান্ধবীদের অংশগ্রহণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ওই ছাত্রী। তাকে নিয়ে বান্ধবীদের বিভিন্ন কটূক্তিতেও তার মর্মাহত কথা উল্লেখ করা হয় চিঠিতে।

চিঠিটি হুবহু তুলে ধরা হল-‘তামান্না, সাথী। তোরা আমার বোনের মতো এবং বোনই। ওই দিন তামান্না আমায় বলেছিল, আমি নাকি নাটক করতেছি। তোর সামনেই বলল। আরো কি কি বলল, আর তুই নাকি নিশাতকে বলেছিস আমরা খারাপ মেয়ে। বোন প্রেম করলে কি সে খারাপ? তোরা সিরাজ উদ দৌলা সম্পর্কে সব জানার পরও কিভাবে তার মুক্তি চাইতেছিস। তোরা জানিস না, ওই দিন রুমে কি হইছে? উনি আমার কোন জায়গায়….এবং আরও কোন জায়গায়… চেষ্টা করেছে, উনি আমায় বলতেছে- নুসরাত ডং করিস না। তুই প্রেম করিস না। ছেলেদের সঙ্গে প্রেম করতে ভালো লাগে। ওরা তোরে কি দিতে পারবে? আমি তোকে পরীক্ষার সময় প্রশ্ন দেবো। আমি শুধু আমার শরীর দিতাম ওরে। বোন এই জবাবে উত্তর দিলাম। আমি একটা ছেলে না হাজারটা ছেলে…।

আমি লড়ব শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত। আমি প্রথমে যে ভুলটা করেছি আত্মহত্যা করতে গিয়ে। সেই ভুলটা দ্বিতীয়বার করব না। মরে যাওয়া মানে তো হেরে যাওয়া। আমি মরব না, আমি বাঁচব। আমি তাকে শাস্তি দেবো। যে আমায় কষ্ট দিয়েছে। আমি তাকে এমন শাস্তি দেবো যে তাকে দেখে অন্যরা শিক্ষা নেবে। আমি তাকে কঠিন থেকে কঠিনতম শাস্তি দেবো। ইনশা আল্লাহ।’

প্রসঙ্গত ৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজীতে পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতর ওই ছাত্রীর (১৮) গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যাচেষ্টা চালায় দুর্বৃত্তরা। শনিবার সকালে সোনাগাজী পৌর এলাকার ইসলামিয়া সিনিয়ার ফাজিল মাদ্রাসাকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। ওই ছাত্রী ওই মাদ্রাসা থেকেই আলিম পরীক্ষা দিচ্ছিলেন।
রাফির অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। পরে মঙ্গলবার অস্ত্রোপচার করার পর রাফি শঙ্কামুক্ত নন বলে জানান চিকিৎসকরা। আজ বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মারা যান নুসরাত জাহান রাফি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close