জাতীয়
Trending

পাঁচ হাজার ডলার পুরস্কার পাচ্ছেন না সেই নাঈম?

রাজধানীর বনানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউতে এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দেশবাসি শোকে মুহ্যমান। সে ঘটনায় সেখানে ফায়ার সার্ভিসের লোকজনের সাথে পানির পাইপ ধরে রাখা ছোট্ট একটি শিশুর ছবি ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

অধিকাংশ মানুষ যেখানে ছবি তুলতে ব্যস্ত সেখানে ব্যতিক্রম ছিল ছোট্ট শিশুটি। অনেকে ফেসবুকে শিশুটির ছবি শেয়ার দিয়ে তার কাজের প্রশংসা করেছেন। শিশু নাঈমের এমন মানবিক কাজে খুশি হয়ে তাকে উপহার স্বরূপ পাঁচ হাজার ডলার প্রদানের ঘোষণা দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ওমর ফারুক সামি। পাশাপাশি তার যাবতীয় পড়ালেখার দায়িত্ব গ্রহণেরও কথা জানান তিনি।

এমন সংবাদ প্রকাশের পর দেশের প্রায় সকল গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন নাঈম। তিনি জানান পুরস্কারের টাকা তিনি এতিমখানায় দিতে চান। তার এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানায় সবাই।

তবে সোমবার (১ এপ্রিল) সকাল থেকেই সোস্যাল মিডিয়ায় ভাসতে থাকে কিছু পোস্ট। সেখানে দেখা যায় ‘নাঈমকে ৫ হাজার ডলার পুরস্কার দিচ্ছেন না সেই প্রবাসী। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় নাঈম রাজনৈতিক শিকার।’

সোস্যাল মিডিয়ায় এমন পোস্ট দেখে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে তাহলে কি পুরস্কারের টাকা পাচ্ছেন না নাঈম?

তবে এই ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ওমর ফারুক সামির কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার ফেসবুক ওয়ালে গিয়ে দেখা যায় ৩ ঘন্টা আগে দেওয়া পোস্টে তিনি এখন পর্যন্ত নাঈমকে পুরস্কার দেওয়ায় পক্ষেই রয়েছেন। তার সেই স্ট্যাটাস পাঠকদের জন্য হুবুহু তুলে ধরা হল-

‘কেন আমি নাঈমের জন্য ভালোবাসা দেখালাম।

আসসালামু আলাইকুম, সম্মানিত বন্ধুরা আপনারা জানেন, দুদিন পূর্বে রাজধানী বনানীর এফআর টাওয়ারে আগুন লাগার পর হাজার হাজার জনতা যখন সেলফি-ভিডিওতে অস্থির ছিলো, ঠিক সেই মূহুর্তে ফায়ার সার্ভিসের একটি ছিদ্র পাইপ শক্ত করে ধরে ছিলো নাঈম নামে এক ছোট্ট শিশু। সেই নাঈমের পাইপ ধরার একটি স্থির চিত্র সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছিল।

স্বাভাবিক নিয়মে ছবিটি আমার টাইমলাইনে আসে এবং আমার হৃদয়ে নাড়া দেয়। আমি ছোট নাঈমের কাজে খুবই খুশি হয়েছি। তার জন্য তখনই মন থেকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জন্ম নেয়। সাথেসাথে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত আমার বন্ধুবর সাংবাদিক আওয়াজবিডির সম্পাদক শাহ আহমদকে কল দিয়ে ছেলেটির সন্ধান করার অনুরোধ জানাই। সাংবাদিক শাহ আহমদ Shah Ahmed আমার কথায় দেশের সাংবাদিকদের মাধ্যমে নাঈম ও তার মায়ের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেয়। নাঈমের মায়ের কাছ থেকে জানতে পারি সে খুব কষ্ট করে লেখাপড়া করছে, সে পুলিশ অফিসার হতে চায়। তাৎক্ষণিক আমার মাথায় আসলো ছেলেটের পাশে দাঁড়ানো উচিত। দয়া কিংবা নামের জন্য নয় বরং একজন মানবতাবাদীর পাঁশে দাঁড়ানোকে দায়িত্ব মনে করে বড় ভাই হিসেবে পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেই। খুব শীঘ্রই আমার আব্বা নাঈমের বাসায় যাবেন এবং বিস্তারিত আলাপ করে টাকা দেওয়ার মাধ্যম জানাবেন। নাঈমের সাথে আমি দুবার কথা বলেছি সে আমার জন্য দোয়া করেছে এবং বলেছে ভবিষ্যতে সুযোগ হলে দেখা করবে।

আমার এই ঘোষণার পর আওয়াজবিডির মাধ্যমে সারাদেশে প্রচার হয়ে যায়। দেশের প্রায় সব প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচার হতে থাকে যদিও এই প্রচারণায় আমার কোন ইচ্ছে বা জরুরতই ছিল না। এদিকে সংবাদটি শুনে আমার ফেসবুকে অগণিত বার্তা আসতে থাকে। বার্তাতে সবাই মানবতার পক্ষে দাঁড়ানোয় অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। সকল বার্তার জবাবে একটা কথাই বলব বিষয়টা ছিল কেবল মানবতা ও ভালোবাসা।

প্রিয় জন্মভূমিতে নাঈমদের সংখ্যা দিনদিন বৃদ্ধি পাক এই দোয়া করি। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন। আপনাদের কাছে একটাই চাওয়া নাঈমদের সুযোগ করে দিন নাঈমরা আপনাকে একটি মানবতাবাদী পরিবেশ উপহার দেবে।’

উল্লেখ্য, শিশু নাঈম ইসলাম কড়াইল বস্তি এলাকার বৌ বাজারের রুহুল আমীনের ছেলে। বৌ বাজারের আনন্দ স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া নাঈম অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পাইপের লিকেজে পলিথিন পেচিয়ে ধরে বসে ছিল। এই ঘটনার পর থেকে সামাজিক মাধ্যমে সেই ছবিটি হয়েছে ভাইরাল। প্রশংসায় ভাসছে সে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close