জাতীয়রাজনীতি

সংসদ বাতিল করে নিরপেক্ষ সরকার ও ইসির অধীনে পুনরায় নির্বাচন দিতে হবে : মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আজকে একটি সংসদ বসতে চলেছে, যে সংসদ জনগণের কোনও প্রতিনিধিত্ব করে না। ৩০ ডিসেম্বর কোনো নির্বাচনই হয়নি। ভুয়া ভোটের সংসদ বাতিল করে নিরপেক্ষ সরকার ও ইসির অধীনে পুনরায় নির্বাচন দিতে হবে।

বুধবার (৩০ জানুয়ারি) ভুয়া ভোটের সংসদ-এর প্রতিবাদে বিএনপি আয়োজিত মানববন্ধন থেকে তিনি এ দাবি জানান।

বেলা ১১টায় মানববন্ধন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হতে থাকেন। কর্মসূচিতে উপস্থিত দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও ভোট ডাকাতির নির্বাচন বাতিল করে নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে শ্লোগান দেন ।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, শুধুমাত্র নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে সম্পন্ন ভোট ডাকাতির নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে আওয়ামী লীগ পার্লামেন্ট দখলদারি সরকার বসিয়েছে।’

তিনি বলেন, আমরা ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের সঙ্গে ফলও প্রত্যাখ্যান করেছি। তখনই আমরা বলেছিলাম, একটি নিরপেক্ষ সরকার ও ইসির অধীনে পুনরায় নির্বাচন দিতে হবে। আজকে আমরা আবার একই দাবির পুনরাবৃত্তি করছি ।তিনি বলেন, ‘সংসদ বাতিল করে নতুন নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে নতুন সরকার গঠনের আহ্বান জানাচ্ছি। আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমাদের অধিকার আদায় করি।’

নির্বাচনের আগে থেকেই জনগণ যেন নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে তার জন্য মিথ্যা মামলা দিয়ে হাজার হাজার মানুষকে গ্রেফতার করে নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের এক বছর আগে থেকেই মিথ্যা মামলায় কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে খালেদা জিয়াকে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে নির্বাসিত করে রাখা হয়েছে। একইভাবে জনগেণের ভোটের অধিকার হরণ করে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে রাষ্ট্রকে অকার্যকর করার সমস্ত ষড়যন্ত্র তারা পাকাপোক্ত করেছে।’

বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ১৯৭৫ সালে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিল।বাকশালী কায়দায় জনগণের সমস্ত অধিকার কেড়ে নিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস করে আরেকবার একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করার জন্য দখলদারিত্বের সংসদ কায়েম করা হয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ২৯ তারিখ রাতে প্রশাসন, আওয়ামী বাহিনী ভোট ডাকাতি করেছে। এ দেশের জনগণ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ৩০ তারিখ কোনও নির্বাচন হয়নি। এটি তথাকথিত সংসদ। একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি ।২৯ ডিসেম্বর ভোট ডাকাতি করে অলিখিত বাকশাল কায়েম করা হয়েছে এ সরকার ও সংসদ আমরা মানি না।

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে তথ্যভিত্তিক একটি শ্বেতপত্র বের করা হবে। এতে মানুষ দেখবে জনগণ ভোটাধিকার হারিয়েছে। এই নির্বাচনে ৫-৭ শতাংশ মানুষ ভোট দিতে পেরেছে। প্রশাসন-পুলিশ নির্বাচন করেছে, জনগণের কোনও সম্পৃক্ততা এতে ছিল না।’

মানববন্ধস সঞ্চলনা করেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও সহ সাংগঠিনক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ।

এসময় আরও বক্তব্য রাখেন- ড. আব্দুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, বিএনপি নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব, শিরিন সুলতানা, এবিএম মোশারফ হোসেন, শফিউল বারী বাবু, মুতাজুল করিম বাদরু, নুরুল ইসলাম নয়ন, আকরামুল হাসান, বিলকিস জাহান শিরিন প্রমুখ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close