খেলাধুলা

ঢাকা ডায়নামাইটসকে ১১ রানে হারিয়ে শেষ চারে উঠল চিটাগং ভাইকিংস

রাসেল চৌধুরী :

১০ম ওভারে দুই উইকেট পড়ল টানা দুই বলে। কিছুটা চাপে পড়াই স্বাভাবিক। ওই ওভার শেষে জয়ের সুযোগও হয়ে পড়ল ‘ফিফটি-ফিফটি’। ৬০ বলে দরকার ১০২ রান। উইকেটে সাকিব আল হাসান ও আন্দ্রে রাসেল। এই অবস্থায় ঢাকা ডায়নামাইটসের যেমন জয়ের সুযোগ ছিল তেমনি চিটাগং ভাইকিংসও প্রতিপক্ষকে আরও চেপে ধরে জয় তুলে নিয়ে শেষ চারে উঠতে পারত। কিন্তু ক্যামেরন ডেলপোর্টের জন্য সেটি হওয়া না হওয়ার সমীকরণে দুলে শেষ পর্যন্ত স্নায়ুক্ষয়ী এই ম্যাচে চিটাগংই জিতেছে!

শেষ ১০ ওভারে শতাধিক রানের সমীকরণকে ৩৯ বলে ৬৮ রানের সমীকরণে নামিয়ে এনেছিলেন সাকিব-রাসেল জুটি। ম্যাচের তখন ১৪তম ওভার চলছে। চতুর্থ বলে লেগ সাইডে হাঁকিয়ে মারতে গিয়ে বোল্ড হন রাসেল। ঢাকা সমর্থকদের সে কী উল্লাস! সবচেয়ে বড় বিপদকে তো উপড়ে ফেলা গেছে। ভুলটা ধরিয়ে দিলেন টিভি আম্পায়ার। নো বল! মানে, ডেলপোর্টের পা দাগের ওপাশে। রাসেল ‘জীবন’ পাওয়ার পর ম্যাচে ভর করেছে আরও কয়েক প্রস্থ নাটকীয়তা। চিটাগংয়ের বোলাররা শেষ পর্যন্ত স্নায়ু ধরে রেখে ম্যাচটা বের করে এনেছেন। স্কোরবোর্ডে ৫ উইকেটে ১৭৪ রান তোলার পর ১১ রানের এই জয়ে বিপিএলের শেষ চারও নিশ্চিত করল মুশফিকুর রহিমের দল।

ঢাকার জয়ের সুবাস পাওয়ার পেছনে রাসেলের সঙ্গে অবদান রয়েছে অধিনায়ক সাকিবেরও। রাসেল এক প্রান্তে ঝড় তুললেও সাকিব খেলেছেন অধিনায়কোচিত ইনিংস। শেষ ৩০ বলে ৫৩ রান দরকার ছিল ঢাকার। রাসেল এক প্রান্তে ১৯ বলে ৩১ আর সাকিব ৩২ বলে ৩৭। পরের ওভারে রাসেলের বিশাল ছক্কা আর সাকিবের চারকে পুঁজি করে মোট ১৪ রান তুলে ফেলে ঢাকা। অর্থাৎ শেষ ২৪ বলে ৩৯ রানের সমীকরণ। কঠিন ম্যাচটা ঢাকার জন্য তখন সহজ।

আবার কঠিনও হয়ে পড়ল। ম্যাচ তখন শেষ অঙ্কে। আর এই শেষ ভাগে ভর করে নাটকীয়তা। ১৭তম ওভারে দাসুন শানাকাকে ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হন রাসেল। বল হাতে হ্যাটট্রিক তুলে নেওয়ার পর ২৩ বলে ৩৯ রানের কার্যকরি এক ইনিংস খেলেন এই ক্যারিবীয়ান। তার আগে সাকিবের সঙ্গে গড়েছেন ৪০ বলে ৬৬ রানের জুটি। এক প্রান্তে সাকিব থাকায় ঢাকার সমর্থকেরা তখনো আশা হারায়নি। আর রাসেল ফেরায় চিটাগং সমর্থকদের জয়ের মৃতপ্রায় আশাটুকু জেগে উঠেছিল। মোসাদ্দেক সেই আশাকে নিজ হাতে কবর দিতে বসেছিলেন!

১৮তম ওভারে পুরোটাই নাটকীয়তায় ভর্তি। স্পিনার নাঈম হাসানের করা এই ওভারে দ্বিতীয় বলটা ছিল ফুলটস। সাকিবের কোমরের উঁচুতে ডেলিভারিটা ছিল কি না, তা পরিষ্কার বোঝা না গেলেও ‘নো বল’-এর আবেদনে কিছুক্ষণ গজগজ করেছিলেন ঢাকা অধিনায়ক। পরের বলটা আকাশে তুলেছিলেন শুভাগত হোম। ক্যাচ ধরার জন্য অনেক সময় পেয়েও মোসাদ্দেক হোসেন তা কীভাবে ছাড়লেন সেটি গবেষণার বিষয়। শুভাগত অবশ্য ফিরেছেন এক বল পরেই। শেষ দুই ওভারে ২৬ রান দরকার ছিল ঢাকার। এই পরিস্থিতিতে সাকিবের জেগে ওঠা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না।

১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলে চার মেরে ফিফটি তুলে নেওয়ার পর সাকিব আউট হয়েছেন পরের বলেই। ৪২ বলে ৫৩ রান করে সাকিবের ড্রেসিং রুমে ফেরা আর চিটাগংয়ের ম্যাচে ফেরাও প্রায় সমার্থক। শেষ ওভারে যে ঢাকার দরকার ছিল ১৮ রান। আবু জায়েদ শেষ ওভারে এসে উল্টো ৬ রানে নিয়েছেন ১ উইকেট। ১১ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিনে উঠল চিটাগং ভাইকিংস। এই জয়ে শেষ চারে জায়গা নিশ্চিত হলো মুশফিকের। আর এই হারে অপেক্ষা বাড়ল সাকিবদের। বাকি আর দুটি ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই তাঁদের। ১০ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে দলটি টেবিলের চারে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close