জাতীয়

সোহেল তাজের ভাগ্নে ফিরলেন

নিজস্ব প্রতিবেদক ও ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম থেকে নিখোঁজ হওয়ার ১১ দিন পর বাবা-মায়ের কাছে ফিরেছে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমদ সোহেল তাজের ভাগ্নে ইফতেখার আলম সৌরভ। বৃহস্পতিবার (২০ জুন) ভোরে ময়মনসিংহের তারাকান্দায় একটি রাইস মিলের সামনে একটি গাড়ি থেকে সৌরভকে ফেলে যাওয়া হয়। পরে পুলিশের পাহারায় ২৮ বছর বয়সী এই যুবককে ঢাকার বনানীতে সোহেল তাজের বাসায় মা-বাবার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

গত ১১ দিন সৌরভের কোথায় কীভাবে কেটেছে, সে বিষয়ে পুলিশ কিছু জানাতে পারেনি। ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার শুধু বলেছেন, সৌরভকে কোথাও আটকে রাখা হয়েছিল। আর সৌরভের মামা সোহেল তাজ বলেছেন, তারাকান্দায় ফেলে যাওয়ার সময় তার ভাগ্নের হাত-পা ও চোখ ছিল বাঁধা; পরনে ছিল শুধু পাজামা।

সকাল পৌনে ৯টার দিকে নিজ কার্যালয়ের সামনে প্রেস ব্রিফিংয়ে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন বলেন, ভোর ৫টা ২০ মিনিটে একটি ফোনে চট্টগ্রাম অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের ডিসি আমাকে ফোন করে জানান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজের ভাগ্নে সৌরভকে কে বা কারা তারাকান্দা উপজেলার মধুপুর বটতলা জামিল অটো রাইস মিলের সামনে ফেলে গেছে। খবর পেয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে তাকে উদ্ধার করে আমার বাংলোতে নিয়ে আসি।

সৌরভ কেমন আছে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার তখন বলেন, সে সুস্থ আছে, এই মুহূর্তে এর বেশি বলতে পারছি না, কারণ তার সাথে কথা বলার মত অবস্থা হয়নি। সে বলেছে যে সে পরে কথা বলবে। এই ১১ দিন কোথায় কীভাবে ছিলেন- সে বিষয়ে সৌরভ কিছু বলেছেন কি না, তা জানতে চেয়েছিলেন একজন সাংবাদিক।

উত্তরে শাহ আবিদ হোসেন বলেন, সে এটা বলতে পারে না। তবে তাকে আটকে রাখা হয়েছিল, এটাই বলেছে শুধু। সে আসলে কোনো কিছুই এ মুহূর্তে বলতে পারছে না। তার বাহ্যিকভাবে কোনো সম্যসা আমরা দেখছি না। আমরা খাবার খাইয়ে তাকে পাঠিয়ে দিয়েছি। সৌরভকে কারা সেখানে ফেলে রেখে গেছে- এই প্রশ্নে পুলিশ সুপার বলেন, এটা তদন্তের বিষয়।

জামিল অটো রাইস মিলের ম্যানেজার কাঞ্চন ও ফোরম্যান সমির বলেন, আমরা ভোরে ঘুমিয়েছিলাম। এসময় কান্নাকাটির শব্দ শুনতে পাই। ঘর থেকে বের হয়ে দেখি এক লোককে গাড়ি থেকে নামিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে দ্রুত গাড়ি নিয়ে চলে গেল কয়েকজন লোক। লোকটি অনেকটা বিপর্যস্ত। সে জানায় তার নাম সৌরভ। সে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজের ভাগ্নে। এ কথা বলার পর আমি বিষয়টি মিল মালিক হিজবুল বাহার খান বাচ্চুকে জানাই। মিল মালিক বিষয়টি পুলিশকে জানানোর কথা বলেন। এ সময় আমরা উনাকে নিয়ে মিলের ভেতরে নিয়ে একটি চেয়ারে বসাই। পরে সৌরভ তার পরিবারের একটি মোবাইল নাম্বার দিলে ম্যানেজার কাঞ্চন বিষয়টি পরিবারকে জানান। পরিবার পরে বিষয়টি চট্টগ্রাম অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটকে জানায়।

এদিকে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফেসবুক লাইভে আসেন সোহেল তাজ। প্রথমে তিনি বনানীর বাড়ির সামনে অপেক্ষায় থাকা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। সৌরভ কেমন আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার কনডিশন ভালো ছিল না, যেটা শুনতে পাচ্ছি, ওকে বাঁধা অবস্থায় পাওয়া গেছে। ওর গায়ে কোনো জামা ছিল না, শুধু পাজামা পরা ছিল। চোখ বাঁধা অবস্থায় পাওয়া গেছে।

সাবেক এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগে বলেছিলেন, যদি সৌরভকে মুক্ত করে দেওয়া না হয়, তাহলে যারা তাকে ধরে নিয়ে গেছে, তিনি তাদের নাম বলবেন। এখন সৌরভের মুক্তির পর তিনি কী করবেন- তা জানতে চেয়েছিলেন একজন সাংবাদিক।

জবাবে সোহেল তাজ বলেন, ১১ দিন ধরে ছেলেটি নিখোঁজ ছিল। এখন সময় হচ্ছে এই ফ্যামলির মুখে একটু হাসি দেওয়া। এখন এই প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সাময় না। আমরা এখন জাস্ট ছেলেটাকে রিসিভ করতে চাচ্ছি। ওকে একটু স্বস্তি দেওয়া।

সোহেল তাজ ফেইসবুক লাইভে থাকতে থাকতেই একটি মাইক্রোবাসে করে পুলিশ পাহারায় সৌরভকে বনানীর ওই বাসায় নিয়ে আসা হয়। গাড়ি থেকে নেমে প্রথমে মাকে এবং পরে বাবাকে জড়িয়ে ধরতে দেখা যায় সৌরভকে। সাংবাদিকরা সেখানে উপস্থিত থাকলেও সৌরভ তাদের সঙ্গে কোনো কথা বলেনি। মা-বাবা আর মামার সঙ্গে তিনি লিফটে ওঠার পর সোহেল তাজের ফেইসবুক লাইভ শেষ হয়।

প্রসঙ্গত, গত ৯ জুন চট্টগ্রাম নগরীর অফমি প্লাজার সামনে থেকে সৌরভকে একটি মাইক্রোবাসে করে কৌশলে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সৌরভের বাবা বাদী হয়ে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় জিডি করেন।

দ্য ওয়ার্ল্ড বিডি/কেএ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close