জাতীয়

বন্দিদের নাশতায় খিচুড়ি : বদলে গেল ২৫০ বছরের রীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্রিটিশ আমল থেকে কারাগারে সকালের নাশতা বলতে কেবল গুড় আর রুটি দেওয়ার প্রচলন রয়েছে। তবে আড়াইশো বছর ধরে চলা এ মেনু বদলে যাচ্ছে। গুড়-রুটির পরিবর্তে সকালে নাশতায় বন্দীরা পাবেন খিচুড়ি, হালুয়া–রুটি ও সবজি–রুটি।

রোববার (১৬ জুন) ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দীদের মধ্যে খিচুড়ি বিতরণের মাধ্যমে এর সূচনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন আইজি (প্রিজন) বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মোস্তফা কামাল পাশা, ডিআইজি (প্রিজন) টিপু সুলতান, ঢাকা জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কেরানীগঞ্জ সার্কেল রামানন্দ সরকার ও কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহে এলিদ মাইনুল আমীন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কারাবন্দীদের মানসিক প্রশান্তি দিতে চালু হয়েছে প্রিজন লিংক ‘স্বজন’ সার্ভিস। এতে করে কারাবন্দিরা তাদের আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু বান্ধবের সাথে যোগাযোগ করতে পারবে।

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, কারাবন্দিরা কারাগারে থেকে পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করতে পারলে তাদের অপরাধ প্রবণতা কমবে। প্রাথমিকভাবে পাইলট প্রকল্প হিসেবে টাঙ্গাইলে এ সার্ভিস চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এ সার্ভিস চালু করা হবে বলেও জানান তিনি।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, কারাগার হচ্ছে সংশোধনাগার। কারাগারে কারাবন্দীদের চাহিদা অনুযায়ী ৩৮টি ইভেন্টে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ফলে কারাবন্দীরা মুক্তির পর পুনরায় অপরাধে না জড়িয়ে সংশোধনের সুযোগ পাবে।

কারাসূত্র জানায়, জেলা প্রশাসকদের সম্মেলনে কারাবন্দীদের খাবার নিয়ে আলোচনা হয়। সে সময় প্রধানমন্ত্রী নাশতার পদ বদল করার কথা বলেন। এরপরই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয় কারা প্রশাসন। এতদিন ৬৮টি কারাগারে নাশতা হিসেবে দেওয়া হতো ১০২ দশমিক ৬০ গ্রাম ওজনের দুটি আটার রুটি এবং ১৪ দশমিক ২৮ গ্রাম ওজনের গুড়।

এদিকে, বদলে যাওয়া নাশতার মেনুতে থাকছে সপ্তাহে চার দিন সবজি–রুটি, দুই দিন খিচুড়ি ও এক দিন হালুয়া–রুটি।

দ্য ওয়ার্ল্ডবিডি/ঢাকা/কেএ/জেডসি

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close