Uncategorized

কঙ্গোয় প্রেরণা জোগাচ্ছেন বাংলাদেশের দুই পাইলট

দ্য ওয়ার্ল্ড বিডি ডেস্ক

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর স্থানীয় নারীদের প্রেরণা জোগাচ্ছেন বাংলাদেশের দুই নারী পাইলট। তাদের দেখে কঙ্গোর নারীরা অনুপ্রেরণা খোঁজেন, তারা অনুভব করেন তাদেরও পড়াশোনা করা উচিত, তাদেরও নিজেদের অধিকার আদায়ে লড়াই করা উচিত।

জাতিসংঘ মিশনে যোগ দেয়া প্রথম বাংলাদেশি নারী পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট নাইমা হক ও ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তামান্না-ই-লুতফী সম্প্রতি প্রকাশিত এক ভিডিওতে নিজেদের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন।

সম্প্রতি জাতিসংঘ এই দুই নারী পাইলটকে নিয়ে নির্মিত এই ভিডিও প্রকাশ করেছে।

নিজের অনুভূতির কথা বর্ণনা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তামান্না বলেন, আমি কখনই নিজেকে একজন নারী হিসেবে মনে করি না, আমি একজন শান্তিরক্ষী, আমি একজন হেলিকপ্টার পাইলট। কারণ যন্ত্র কখনই বুঝতে পারে না কে চালাচ্ছে, নারী না পুরুষ?

তিনি বলেন, আমি জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে যোগদান করি। এটি অন্যদের, কঙ্গোর মানুষদের সহযোগিতা করার জন্য একটি মহৎ পেশা। এটিই আমাকে এই পেশায় যোগ দিতে অনুপ্রাণিত করেছে।

তিনি বলেন, আমি একজন বাংলাদেশি হিসেবে কঙ্গোতে কাজ করছি। এই নতুন পেশায় নারী হিসেবে খাপ খাইয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে আমাদের দক্ষতা প্রমাণ করা চ্যালেঞ্জিং ছিল। এই পেশায় প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে আমরা দুজনই প্রথম। ২০১৪ সালে আমাদের চূড়ান্ত করা হয়।

সেসময় আমরা খুবই এক্সাইটেড ছিলাম কারণ এর আগে কেউ এই সুযোগ পায়নি। আমরা খুবই গর্ব অনুভব করি এই ভেবে যে নারীরাও এগিয়ে যাচ্ছে। যোগ করেন তামান্না।

ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট নাইমা হক বলেন, হেলিকপ্টারের পাইলট হিসেবে আমাদেরকে অনেক কাজ করতে হয়। জরুরি ওষুধ বহন থেকে শুরু করে হতাহতদের বহন করতে হয়। দিনেরে দিনের পর দিন আমরা এ ধরনের কাজ করে যাচ্ছি। কঙ্গোতে আমাদের কাজ দেখে এখানকার নারীরাও অনুপ্রাণিত হচ্ছেন। তারা উপলব্ধি করছেন কোনকিছু অর্জন করতে হলে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। কারণ এটা সম্ভব।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ শান্তি মিশনের অনুপ্রেরণা হলো যারা বিপদে আছে তাদের সহযোগিতা করতে হবে। তাদেরকে আমাদের সাহায্য-সহযোগিতা করা উচিত। একজন সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে আমার মনে হয় এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং চ্যালেঞ্জিংও বটে। সর্বোপরি এটি আমার কাছে একটি মহৎ কাজ।

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনে মনুস্কোর(MONUSCO) অধীনে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে ২০১৭ সাল থেকে কাজ করছেন বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এই দুই নারী পাইলট।

দ্য ওয়ার্ল্ডবিডি/ঢাকা/কেএ 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close