Uncategorized

আদালতের নির্দেশ অমান্য করে মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি দখল

ফরিদপুর থেকে মিজানুর রহমানঃ ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার
ডাঙ্গী ইউনিয়নের নাড়য়াহাটি গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা সেক আদেল
উদ্দিনের বসতভিটার বেশ কিছু জায়গা দখল করার অভিযোগ পাওয়া
গেছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জোর করে শুধু জায়গা দখলই নয়,
জায়গা থেকে বেশ কিছু জায়গা দখল করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জোর করে শুধু জায়গা দখলই নয়, জায়গা
থেকে বেশকিছু গাছও কেটে নেয়া হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কালাম কাজীর নেতৃত্বে
প্রতিপক্ষের লোকজন জায়গা দখল ও গাছ কেটে নেয়। এ ঘটনার পর
নগরকান্দা থানায় অভিযোগ দেবার পর চেয়ারম্যানের যোগসাজসে
প্রতিপক্ষের লোকজন মুক্তিযোদ্ধার পরিবারটিকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে।
ফলে মুক্তিযোদ্ধা আদেল উদ্দিন এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, মুক্তিযোদ্ধা আদেল উদ্দিনের সাথে
প্রতিবেশী গ্রাম্য প্রভাবশালী আনোয়ার উদ্দিন আইনুদ্দিনের জমি
সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। বিগত ১০ এপ্রিল আনোয়ার উদ্দিন ও
তার লোকজন মুক্তিযোদ্ধা আদেল উদ্দিনের বাড়ির পাকা সীমানা পিলার
উঠিয়ে ফেলে এবং সেখানে থাকা বেশ কিছু গাছ কেটে নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে এ নিয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়। গত ৩০
সেপ্টেম্বর আদালত উক্ত জমিতে দুই মাসের মধ্যে আনোয়ার উদ্দিনদের
প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। মুক্তিযোদ্ধা আদেল উদ্দিন অভিযোগ করে

জানান, আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গত শুক্রবার ইউপি চেয়ারম্যান
কালাম কাজীর নেতৃত্বে বেশকিছু লোক দেশীয় অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে
সীমানা পিলার উঠিয়ে ফেলে এবং সেখানে থাকা মেহগনি, জামরুল,
জাম, কাঁঠাল সহ বেশকিছু গাছ কেটে নিয়ে যায়।
হামলাকারীদের বাঁধা দিতে গেলে চেয়ারম্যান কালাম কাজীর লোকজন অস্ত্র
নিয়ে তাড়া করলে তিনি প্রাণ বাঁচাতে সেখান থেকে চলে যান। এ
নিয়ে নগরকান্দা থানায় অভিযোগ দেয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে
আনোয়ার ও তার লোকজনকে বাধা দেয়। পুলিশ চলে যাবার পর ফের
প্রতিপক্ষের লোকজন নানা ভাবে হুমকি ধামকি দিতে থাকে।
রোববার সকালে প্রতিপক্ষের লোকজন আদালতের নির্দেশ ও নগরকান্দা থানা
পুলিশের কথা উপেক্ষা করে আদেল উদ্দিনের জমিতে ঘর উঠায়। স্থানীয়
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মুক্তিযোদ্ধা আদেল উদ্দিনের জায়গায়
চেয়ারম্যানের নির্দেশে জোরপূর্বক ঘর তোলা হয়েছে। এতে আমরা
বাধা দিতে গেলে চেয়ারম্যান নিজে উপস্থিত থেকে নানাভাবে হুমকি
দেয়।
এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান কালাম কাজী বলেন, আদালত কি নির্দেশ
দিয়েছে আমি জানি না। এ ঘটনার সাথে আমি জড়িত নই।
নগরকান্দা থানার ওসি শেখ মোঃ সোহেল রানা জানান, আদালতের
নির্দেশনা থাকায় উক্ত জমিতে দ্বিতীয় পক্ষ যাতে প্রবেশ করতে না পারে,
সেজন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জোরপূর্বক যদি কেউ জমিতে যায়
তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close