Uncategorized

অল্প বয়সেই সংগ্রামী জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক

শিশুশ্রম নিরসন বিশ্বব্যাপী আলোচিত বিষয়। একটি উন্নত জাতি গঠনে শিশুশ্রম নিরসনের কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশে শিশুশ্রম উদ্বেগজনক। তবে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সরকার শিশুশ্রম নিরসনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকার।

ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসনে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ২৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে সরকার ৩৮টি কাজকে শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কাজ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে আজ ‘শিশু শ্রম নয়, শিশুর জীবন হোক স্বপ্নময়’ এই স্লোগানে পালিত হচ্ছে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস।  

দেশে শিশুশ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ৩৫ লাখ হলেও এদের অর্ধেকেরও বেশি জড়িত নানা ধরণের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে। অল্প বয়সে সংগ্রামী জীবন বেছে নেওয়া প্রতিটি শিশুর রয়েছে আলাদা গল্প। কারো কর্মক্ষম বাবা-মা থাকলেও বাড়তি আয়ের লোভের বলি হচ্ছে শৈশব।

এছাড়া রয়েছে, বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের কারণে শিশুর একাকীত্ব। আবার পারিবারিক অস্বচ্ছলতায় অনেকেই এই বয়সে বাধ্য হচ্ছে সংসারের ঘানি টানতে।   

পারিবারিক আর্থিক অনটন, অশিক্ষা ও অসচেতনতাসহ নানা কারণ এর জন্য দায়ী হলেও যুগোপযোগী নীতিমালার অভাবেই এই সংখ্যা কমানো যাচ্ছে না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। আজকের শিশুকে আগামীর যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিশুশ্রম বিষয়ক বিদ্যমান নীতিমালার আধুনিকায়নের পাশাপাশি শিশু বিষয়ক আলাদা মন্ত্রণালয় গঠনের পরামর্শ তাদের।

বয়স সবে এগারো পেরিয়ে বারো। রঙিন মলাটের বই আর কলম হাতে স্কুলে যাওয়ার এই বয়সেই বিবর্ণ হয়েছে ইমরানের জীবন মলাট। ভারিসব যন্ত্রের সাথে নিত্য উঠাবসা তার। রাজধানীর পোস্তগোলার একই কারখানায় কাজ করেন বাবাও। পরিবারে খুব একটা আর্থিক অনটন না থাকলেও পড়ালেখার থেকে সন্তানকে যেন কাজ শেখাতেই বেশি আগ্রহ তার।

বাবা বলেন, দুইদিন আগে পিছে হলেও কাজ করে খেতে হবে। এজন্য কাজ শিখাচ্ছি যেন ভবিষ্যতেও কিছু করে খেতে পারে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০২৫ সালের মধ্যে সব শ্রেণির শিশুশ্রম বন্ধের নির্দেশনা থাকলেও পরিবহন সেক্টরসহ ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা। শিশুদের নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো মনে করে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঠিক নজরদারীর অভাবেই ঝুঁকির মুখে শিশুর ভবিষ্যৎ।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন সিনিয়র প্রকল্প পরিচালক রাজিয়া শাহীন বলেন, পরিবারদের বুঝতে হবে, যে আজকে যে শিশু আয় করছে ভবিষ্যতে তার অবস্থা আরও খারাপ হবে যা ভোগ করবে রাষ্ট্র ও সমাজ।

শিশুশ্রমিকের সংখ্যা হ্রাসে যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি শিশু বিষয়ক আলাদা মন্ত্রণালয় গঠনেরও পরামর্শ তাদের।

এএসডি ব্যবস্থাপক বলেন, শিশুদের জন্য কোণ আলাদা মন্ত্রণালয় নেই। কোন অধিদপ্তর নেই। এখানে একটা গ্যাপ থেকে যায়।শিশুশ্রম নিরসনে সর্বস্তরে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অসচ্ছল পরিবারের শিশুর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতও জরুরি।

দ্য ওয়ার্ল্ডবিডি/ঢাকা/কেএ/জেডসি

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close